বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে দেশের স্বাস্থ্যখাতের অর্জন

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

কাকলি সুলতানা স্টাফ রিপোর্টার:- মুক্তিযুদ্ধের পর দেশে ফিরে যে বিপর্যস্ত স্বাস্থ্যখাতের হাল ধরেছিলেন বঙ্গবন্ধু গুটি গুটি পায়ে তা এগিয়েছে অনেক পথ।

গড় আয়ু বৃদ্ধি, মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার কমানোসহ বেশ কিছু বিষয় নিয়ে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ এখন উঁচুদের কাতারে। স্বাধীন বাংলাদেশের সমান যাদের বয়স এমন চিকিৎসকরা এ বিষয়গুলো নিয়ে গর্ববোধ করেন। তবে তারা বলছেন এ পথে হাঁটার বাকি এখনও বহুপথ।

বিজয় অর্জনের পর পাকিস্তানের কারাগার থেকে ফিরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন বাংলাদেশের হাল ধরলেন তখন দেশের চিকিৎসাব্যবস্থা ছিল বিপর্যস্ত। দেরি না করে জনগুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যখাতকে জাতীয়করণ করলেন বঙ্গবন্ধু।মেডিক্যাল কলেজ, শিশু হাসপাতাল, চিকিৎসকদের সরকারি চাকুরিতে প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা দেয়া, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল স্থাপনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু।

স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোড়গোঁড়ায় পৌঁছে দিতে প্রত্যেক থানায় একটি করে হাসপাতাল তৈরির উদ্যোগ নেন তিনি।বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশের উল্টোযাত্রায় পিছিয়েছে স্বাস্থ্যখাতও। প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আবারও ভঙ্গুর চিকিৎসাব্যবস্থার হাল ধরেন। দেশের সব হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানো, বিশেষায়িত ইন্সটিটিউট, তৃণমূলে কমিউনিটি ক্লিনিক করাসহ স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে উদ্যোগ নেন। গড় আয়ু বাড়া, মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার কমাসহ স্বাস্থ্যের বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান এখন উপরের দিকে।

চলমান করোনা মহামারিও বাংলাদেশ সামাল দিচ্ছে বেশ ভালোভাবেই।স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়নের স্বীকৃতি হিসেবে তিনটি জাতিসংঘ পুরস্কারসহ ১৬টি আন্তর্জাতিক পুরষ্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে এসে এসব অর্জনে গর্ব বোধ করেন যাদের জন্ম বাংলাদেশের জন্মের সময়।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক অখিল রঞ্জন বিশ্বাস বলেন, বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার ফলে এসব অর্জন সম্ভব হয়েছে।

তবে এত অর্জনের পরও দেশের স্বাস্থ্যখাতের চ্যালেঞ্জও কম নয় বলে মনে করেন এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।জনসংখ্যার অনুপাতে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত এই ৫০ বছরে যতটুকু এগিয়েছে, দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির চলমান ধারা অব্যাহত থাকলে বাকিপথটুকুও মসৃণ হবে বলে মত চিকিৎসা সংশ্লিষ্টদের।