রাজধানীতে ফের বেপরোয়া চাঁদাবাজি শুরু করেছে সন্ত্রাসী বাহিনী

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

ঢাকা জেলা প্রতিনিধি:- রাজধানীতে আবারও বেপরোয়া চাঁদাবাজি শুরু। বিদেশে থাকা সন্ত্রাসীদের হয়ে কাজ করছে ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারা, আতঙ্কে দিন কাটছে ব্যবসায়ীদের।রাজধানীতে ফের বেপরোয়া চাঁদাবাজি শুরু করেছে সন্ত্রাসী বাহিনী।

টার্গেট ব্যবসায়ীদের ফোন করে জানিয়ে দিচ্ছে চাঁদার পরিমাণ। বেধে দিচ্ছে চাঁদা দেয়ার সময়ও। এরপর নির্দিষ্ট দিনে লোক পাঠিয়ে সংগ্রহ করে নিচ্ছে টাকা।

তবে কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালেই তার ওপর নেমে আসছে খড়গ। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে গুলি ছুঁড়ছে সন্ত্রাসীরা। তারপর একের পর এক ফোন করে দিচ্ছে হত্যার হুমকি। প্রাণভয়ে কাটছে ব্যবসায়ীদের জীবন।

রাজধানীর বাড্ডার জেনারেটর ব্যবসায়ী শহীদুল ইসলাম টুটুলকে গেলো ১২ই নভেম্বর ফোন করে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে সন্ত্রাসীরা। বেধে দেয় দুই দিনের সময়। চৌদ্দই নভেম্বর চাঁদা নিতে টুটুলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হানা দেয় সন্ত্রাসীরা। চাঁদা দিতে অপারগতা জানালে গুলি ছুঁড়ে আরও একদিনের সময় দিয়ে চলে যায় তারা।

এরপরও টুটুলকে ফোন করে হত্যার হুমকি দিতে থাকে সন্ত্রাসীরা। চাঁদা না দিলে তার স্ত্রী, সন্তানের জান কবজেরও ফরমান জারি করে তারা।ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী শহীদুল ইসলাম টুটুল বলেন, তারা আমাকে এসে বলে আপনাকে টাকার জন্য ফোন দেয়া হয়েছিল টাকা রাখছেন।

আমি যখন বলছি না, তারা তখনই অস্ত্র বের করে আমার ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে গুলি করা শুরু করে। আমাকে হুমকি দিয়ে গেছে পরের গুলিগুলো হয় আমার শরীরের উপর দিয়ে যাবে আর না হলে আমার পরিবারের উপর।চাঁদা চেয়ে হুমকি ও গুলির ঘটনায় বাড্ডা এলাকায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক।তদন্তে নেমে একাধিক সন্ত্রাসী বাহিনীর অস্তিত্ব পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।

এর একটি দলের নেতৃত্বে ঘুরেফিরে মালয়েশিয়া, ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানকারী আশিক। আরেকটি দলের দেখভাল করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ক্যানাডায় বসবাসকারী ডালিম, রবিন ও মেহেদী। সমঝোতার ভিত্তিতে রাজধানীর বাড্ডা ছাড়াও খিলগাঁও, রামপুরা, তেজগাঁও, বনানী ও ভাটারা এলাকায় বেপরোয়া চাঁদাবাজি করছে দু’টি বাহিনীই।

তাদের হয়ে কাজ করছে রাজনৈতিক দলের ওয়ার্ড পর্যায়ের পদধারীরা। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের (গুলশান) উপ কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, এসব সন্ত্রাসীরা এখন একসাথে মিলেমিশে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তারা এসব কাজ করার জন্য বিভিন্ন ওয়ার্ডের রাজনৈতিক পদধারী লোকদের ব্যবহার করছে।

এগুলো ছাড়াও আড়ালে এই চক্রগুলো বিভিন্ন এলাকায় ময়লা, ডিস এবং ইন্টারনেট ব্যবসাও করছে। আমরা বোধ করি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিদেশে এবং দেশে থাকা এসব সন্ত্রাসীদের শাস্তি দিতে পারবো।চাঁদাবাজিতে ব্যবহৃত অবৈধ অস্ত্রের উৎস অনুসন্ধানের পাশাপাশি এর ক্রেতা-বিক্রেতাদেরেও আইনের আওতায় আনার হুঁশিয়ারি দিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।