নৌকার নির্বাচনি শোডাউনে ৩শ’ মোটরসাইকেল, নগদ ৫শ’ টাকা

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি// কুষ্টিয়ায় তিন শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে নির্বাচনি শোডাউন দিলেন নৌকার প্রার্থী। এতে অংশ নেয়া মোটরসাইকেল চালকদের প্রত্যেককে ৫০০ টাকা করে দেয়া হয়। এমন অভিযোগ উঠেছে আব্দালপুর ইউনিয়ন পরিষদে নৌকার মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থী আরব আলীর বিরুদ্ধে।গত বৃহস্পতিবার ওই নির্বাচনি শোডাউনে অংশ নেওয়া প্রত্যেকের হাতে টাকা দিচ্ছেন আরব আলী, এ সময় তাকে সহযোগিতা করছেন বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। চেয়ারম্যান প্রার্থী আরব আলী নিজেই তার ফেসবুক পেজে ভিডিওটি আপলোড করেন। পরে সেটি সরিয়ে নেন। তবে, প্রকাশ্যে নৌকার প্রার্থী এভাবে টাকা বিতরণ করায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন অন্য প্রার্থীরা।জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার ( ৯ ডিসেম্বর) তার নিজ এলাকা হাসানবাগ থেকে নির্বাচনি শোডাউনের আয়োজন করে। শোডাউন দিয়ে আরব আলী মনোনয়ন জমা দিতে যান সদর উপজেলায়। এতে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতা-কর্মী ও তার সমর্থকরা অংশ নেয়। এরপর সবাই হাসানবাগ প্রাইমারি স্কুলে জড়ো হয়। এ সময় দেখা যায়, শোডাউন শুরুর আগে একে একে রাস্তায় ওঠার আগে চালকরা আরব আলীর হাত থেকে টাকা নিচ্ছেন। দু’একজন টাকা নিতে না চাইলেও জোর করে তাদের হাতে দেওয়া হচ্ছে। এ সময় ভুল করে না নিয়ে চলে যেতে চাইলে তাদের টেনে ধরে টাকা দেওয়া হয়। প্রত্যেককে দেওয়া হয় ৫০০ টাকা করে ।শোডাউনে অংশ নেওয়া কয়েকজন জানান, যারা মোটরসাইকেলে এসেছিল তাদের তেল কেনা ও খাওয়া বাবদ টাকা দেন আরব আলী। ৫০০ টাকা করে দেওয়া হয় অংশ নেওয়া সবাইকে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আব্দালুপর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন জমা দেওয়া দুই প্রার্থী জানান, বিষয়টি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। অনেকের মোবাইলে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রকাশ্যে একজন চেয়ারম্যান প্রার্থী টাকা বিতরণ করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। তিনি কোন আইন মানছেন না। বিষয়টি যাদের দেখার দায়িত্ব তারাও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। এটা দুঃখজনক।এ বিষয়ে কথা হলে আরব আলী বলেন, ‘সত্য কথা কি, অনেক গরিব মানুষ মোটরসাইকেল নিয়ে আমার শোডাউনে এসেছিল। এসব গরিব মানুষকে কিছু টাকা দিয়েছি। মিথ্যা কথা বলে তো কোনও লাভ নেই। যেটা সত্যি সেটা বলতে হবে।’আব্দালপুর ইউনিয়ন পরিষদের রিটার্নিং কর্মকর্তা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার আব্দুল মতিন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে এখনও কেউ কোনও অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’উল্লেখ্য, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আব্দালপুর ইউনিয়নে আগামী ৫ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিলো ৯ ডিসেম্বর। আরব আলী এর আগেও একবার চেয়ারম্যান ছিলেন। গত নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেলেও তিনি পরাজিত হন। এবার আবার তাকে দল মনোনয়ন দিয়েছে। তবে তার বিরোধিতা করে দল থেকে দুইজন প্রার্থী হয়েছেন।