শাবিপ্রবি’তে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন উপচার্যের পদত্যাগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন আচার্য: শিক্ষামন্ত্রী

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

ডা. ওমর আলী সিলেট বিভাগীয় সংবাদদাতা:- শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগের দাবির বিষয়টি আচার্য সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকের পর শুক্রবার সন্ধ্যায় একথা বলেন তিনি।এসময় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা তাদের যে সকল প্রস্তাব দেখলাম তারমধ্যে বেশ কয়টি এরমধ্যে পূরণ করা হয়েছে। উপাচার্যের অপসারণের ব্যাপারে তাদের একটি দাবি ছিলো, যার ব্যাপারে তাদের সঙ্গে আগেও কথা বলেছি।

যেহেতু আচার্যই একজন উপাচার্যকে নিয়োগ দেন, কিংবা অপসারণ করেন। অতএব আমরা আচার্যকে (রাষ্ট্রপতি) অবহিত করবো। বাকি সিদ্ধান্ত মহামান্য আচার্য গ্রহণ করবেন।এদিকে, ২৬ দিন পর বাসভবন থেকে কড়া নিরাপত্তায় নিজ কার্যালয়ে এসে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন শাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।শাবিপ্রবির রেজিস্ট্রার মো. ইশরাকুল হোসেন জানান, বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী উপাচার্যকে দ্বায়িত্ব পালন করতে নির্দেশ দিয়েছেন। উপাচার্যকে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য ক্ষমা চাইতেও বলেন তিনি।

এর আগে, দুপুর আড়াইটা থেকে সন্ধ্যা সোয়া ৬টা পর্যন্ত সিলেট সার্কিট হাউজে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ১১ জনের প্রতিনিধি দল। উপাচার্যের পদত্যাগ ও অন্যান্য দাবি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও ইউজিসির প্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনা হয়।

শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দলের মধ্যে ছিলেন: মুহাইমিনুল বাশার রাজ (ফিজিক্স), ইয়াসির সরকার (ফিজিক্স), নাফিসা আনজুম (লোকপ্রশাসন), সাব্বির আহমেদ (লোকপ্রাশাসন), আশিক হোসাইন মারুফ (ওশেনোগ্রাফি), সাবরিনা শাহরিন রশীদ (ফিজিক্স), সুদীপ্ত ভাস্কর (ফিজিক্স), শাহরিয়ার আবেদীন (ফিজিক্স), আমেনা বেগম (সিভিল), মীর রানা (অর্থনীতি) ও জাহিদুল ইসলাম অপূর্ব।পরে, ক্যাম্পাসে এসে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

পরে উপাচার্যের কার্যালয়ে শিক্ষক ও প্রশাসনিক কয়েকজন কর্মকর্তার সাথে বৈঠক করেন তিনি।এদিকে, নিজেদের ফোরামে আলোচনার পর ব্রিফ করে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।এর আগে, সকালে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় ডা. দিপু মনি বলেন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে আমরা এসেছি। সমস্যা সমাধানে সরকার সব ধরনের চেষ্টা করছে। সব সমস্যাই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।

এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদেরও অধিকারের পাশাপাশি দায়িত্বও রয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৩ই জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেচ্ছা চৌধুরী ছাত্রী হলের নানা অব্যবস্থাপনা নিয়ে আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা। পরে ১৬ই জানুয়ারি আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের গুলি ও লাঠিচার্জের পর আন্দোলনকারীরা উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

২৬শে জানুয়ারি আমরণ অনশন ভেঙে নানা কর্মসুচীতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।