মেহেদী হাসান বিশেষ প্রতিনিধি:- কারাগারে পরিচয়। সেখানে বসেই ডাকাত দল বানানোর পরিকল্পনা। জামিনে বের হয়ে মহাসড়কে শুরু করেন ডাকাতি।

দিনের বেলায় পোশাক কারখানার কর্মী, চায়ের দোকানদার, ডাব বিক্রেতা আর পরিবহণ শ্রমিক হয়ে কাজ করেন। রাত নেমে আসলেই মহাসড়কে নেমে পড়েন। শুরু করেন ডাকাতি। সম্প্রতি এমন পাঁচটি চক্রের চল্লিশ জনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।আলাদা দুটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গেলে পরিচয় হয় সুমন আর রফিকের। সেখানে বসেই পরিকল্পনা করেন ডাকাতির।
কারাগার থেকে জামিনে বের হয়ে জাকির নামের আরেকজনকে নিয়ে গড়ে তোলেন ডাকাত দল।তারপর শুরু হয় মহাসড়কে ডাকাতি। গাবতলী-মানিকগঞ্জ, হাটিকুমরুল-সিরাজগঞ্জ, শেরপুর-জামালপুর, গাবতলী-নারায়ণগঞ্জ সড়কে এমন পাঁচটি সংঘবদ্ধ চক্র ডাকাতি করে। দিনের বেলায় এরা পোশাক কারখানার কর্মী, চালক, হেলপার ও ডাব বিক্রেতা। আর রাত হলেই নেমে পড়েন ডাকাতিতে।ডাকাত চক্রের এক সদস্য বলেন, ডাকাতি করার জন্য আমাকে এলেঙ্গা আসতে বলে।
আমি এসে বসেছিলাম অনেকক্ষণ। পরে একটা গাড়ি থামিয়ে তিনজনকে হাত বেঁধে ফেলা হয়। চোখও বেঁধে ফেলা হয়।আরও এক সদস্য বলেন, আমাকে বলা হয় প্রথমে কিছু বুঝবো না। আস্তে আস্তে বুঝবো। আমাকে একটা ব্যাগ ধরিয়ে সামনে বসে থাকতে বলে। বলে যে মোবাইল সে ছাড়া যেন অন্য কাউকে না দেই।যাত্রী সেজে কিংবা হেলপার-চালকের সঙ্গে আতাঁত করে বাসে ওঠে যাত্রীদের মারধর করে টাকা-পয়সাসহ সবকিছু লুটে নেওয়া তাদের কৌশল।
সম্প্রতি এমনভাবে ডাকাতির শিকার হওয়া টাঙ্গাইলের এক ডাক্তার ফেসবুকে সেই ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরেন। তারপরই ঢাকা ও আশেপাশে অভিযান চালিয়ে চল্লিশ জন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।ডিএমপি তেঁজগাও বিভাগের উপ কমিশনার (গোয়েন্দা) ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, এরকম বেশ কয়েকজনকে আমরা কাস্টডিতে নিয়ে এসেছি। মূলত তাদের পেশা হলো ডাকাতি।
হয়তো তারা বিরতি নেন। শুরুতে অন্য গ্রুপে কাজ করে। পরে এক্সপার্ট হয়ে গেলে নিজেরাই গ্রুপ ফরম্যাট করে। যখন যে কৌশল অবলম্বন করা লাগে এই অভিজ্ঞ দুর্বৃত্তরা তা অবলম্বন করে।গ্রেপ্তার হওয়া ডাকাতদের বিরুদ্ধে সাভার, টাঙ্গাইল, মির্জাপুর, আশুলিয়া ও উত্তরা থানায় আলাদা আলাদা মামলা আছে।




