রোজার আগেই চড়া নিত্যপণ্যের দাম

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

মানিক মিয়া স্টাফ রিপোর্টার:- রাজধানীর বাজারে রোজার আগেই বাড়তে শুরু করেছে বেগুন, শশা, লেবুর দাম। চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে চিনি, ছোলাসহ বেশ কিছু নিত্যপণ্য।রোজায় নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে টাস্কফোর্স গঠনসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।

তবুও রোজার আগেই বাড়তে শুরু করেছে দাম। রাজধানীর বাজারে বেগুন বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। লেবুর হালি মানভেদে ৪০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে শশা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। এছাড়া, গরু ও খাসির মাংসের দামও চড়া। প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৭৪ টাকায়। ছোলার দাম উঠেছে ৬৪ থেকে ৭০ টাকা।প্রতি বছরই রমজান সামনে রেখে ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। প্রায় সব পণ্যের দামই বাড়তি। তবে দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে নতুন কৌশল নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। রোজায় হুট করে দাম বাড়লে সরকার ব্যবস্থা নিতে পারে এমন ভাবনা থেকে আগেভাগে বাড়ানোর কৌশল নিয়েছেন তারা। এভাবেই নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলছিলেন রমজান সামনে রেখে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা একজন ক্রেতা।তিনি বলেন, ‘দুই সপ্তাহ আগ থেকেই গরুর মাংসর দাম বাড়তি। সঙ্গে বেড়েছে ছোলা, চিনি, খেজুরসহ রোজায় দরকারি সব পণ্যের দাম। ৫০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। ইফতারির বাজার করতেই তো পকেট ফাঁকা। অন্যান্য জিনিস কিনব কী দিয়ে।’প্রায় একই ধরনের কথা বললেন হাতিরপুলে বাজার করতে আসা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তা । তিনি বলেন, ‘বাড়তি দামের কারণে কোনো পণ্যে হাত দেওয়া যায় না। খোলা মুড়ির কেজিও ৮০-৯০ টাকা। সারা দিন অফিস করে তো টিসিবির লাইনে দাঁড়াতে পারি না। যে টাকা বেতন পাই তাতে কোনো রকমে সংসার চলে। ভালোভাবে বাঁচা যায় না। সরকারের উচিত পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া। না হলে আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের না খেয়ে মরতে হবে।’রমজানকে কেন্দ্র করে গত বছরের তুলনায় নিত্যপণ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে বলে স্বীকার করেছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, সরবরাহের ঘাটতি না থাকলেও পাইকারি বাজারে দাম বাড়তি। এ কারণে তারাও বাড়তি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।কিন্তু দেশের অন্যতম বড় পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে রোজানির্ভর পণ্যের দাম নিম্নমুখী। খাতুনগঞ্জে পণ্যের মজুদও দ্বিগুণ বলে জানালেন ব্যবসায়ীরা।এদিকে বাজারে নিত্যপণ্যের চড়া দামের কারণে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) লাইনে নিম্ন আয়ের পাশাপাশি মধ্যবিত্তের ভিড়ও বাড়ছে। অনেকেই পণ্য না পেয়ে ফিরছেন খালি হাতে। রমজানকে কেন্দ্র করে ১ কোটি মানুষকে পণ্য সরবরাহ করছে টিসিবি। রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে প্রতিদিন ১৫০টি ট্রাকে করে নিত্যপণ্য বিক্রি করা হয়। রমজান উপলক্ষে এই বিক্রি কার্যক্রম চলবে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত।এ বিষয়ে টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আরিফুল হাসান বলেন, দেশে এ বছর টিসিবি যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। রাজধানীতে আমাদের সাধ্যের বাইরে গিয়ে পণ্য সরবরাহ করছি। এ মুহূর্তে নতুন করে ট্রাক বাড়ানোর কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে রোজার পর আমরা রাজধানীর নিম্ন আয়ের মানুষকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। সেটা বাস্তবায়ন হলে দুর্ভোগ কিছুটা কমবে।গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৭০-৭৫ টাকা। মহল্লার দোকানগুলোতে একই মানের ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকা। রমজান শুরু হওয়ার আগেই খুচরা ও পাইকারি বাজারে ছোলার দাম বেড়েছে। ইফতারির অন্যতম অনুষঙ্গ ছোলার দাম বাড়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। দাম বাড়ার জন্য খুচরা বিক্রেতারা দুষছেন পাইকারি বাজারকে।কারওয়ান বাজারের মুদি বিক্রেতা জয়নাল মুনশি জানান, রোজা সামনে। তাই ছোলার দাম বেড়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় খুব একটা বাড়েনি। প্রতি কেজি ছোলা এখন ৭০-৭৫ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। কাল-পরশু থেকে রোজার বাজারের চাপ শুরু হলে দাম কিছুটা বাড়বে।শুধু ছোলা নয় বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে রোজার অন্যতম খাদ্যসামগ্রী, ডাল, বেসন, চিনি, মসুর ডাল ও খেজুর। গতকাল কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল বাজার, কাঁঠালবাগান বাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। এসব বাজারে খোল চিনি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা ও দেশি মসুরের ডাল ১২৫-১৩০ টাকা। মাঝারি দানার মসুর ডালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০-১১০ টাকা, যা কিছুদিন আগেও ছিল ৮০-৯০ টাকা কেজি। এ ছাড়া মানভেদে প্রতি কেজি খেজুরে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।অন্যদিকে বুটের ডালের বেসন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা কেজি, যা কিছুদিন আগে ছিল ৮০-৯০ টাকার মধ্যে। আর খেসারির ডালের বেসন বিক্রি হচ্ছে ১০০-১১০ টাকা কেজি, যা কিছুদিন আগে ছিল ৮০-৯০ টাকার মধ্যে।টিসিবির তথ্য বলছে, গত এক বছরের তুলনায় ছোলার দাম বেড়েছে ৩.৫৭ শতাংশ। গত বছর যে ছোলা ৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সেটি এ বছর ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে মসুর ডাল ১৬ থেকে ৪৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। গত বছর দেশি মসুর ডাল বিক্রি হয়েছে ১০০-১১০ টাকা। এ বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৫-১৩০ টাকা। বড় দানার মসুর ডাল ছিল ৬৫-৭০ টাকা । এ বছর বিক্রি হচ্ছে ৯৫-১০০ টাকা।ভোজ্য তেলের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, গত এক বছরে দাম ১৬ থেকে ২২ শতাংশ দাম বেড়েছে। গত বছর সয়াবিন তেলের ১ লিটারের বোতল বিক্রি হয়েছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। পাঁচ লিটারের সয়াবিন বিক্রি হয়েছে ৬৩০ থেকে ৬৫০ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে বোতলজাত ৫ লিটার সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ৭৯০ থেকে ৮০০ টাকা এবং এক লিটার বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ থেকে ১৬৮ টাকা। আর খোলা সয়াবিন তেলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৭৮০ টাকা দরে।অন্যান্য পণ্যের মতো চিনির দামও বেড়েছে। গত বছর ডিসেম্বর পর্যন্ত চিনির দাম ছিল ৭৮ টাকা। এ বছর ২ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা।