কুষ্টিয়ায় চাল রশিদের সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্রের ভিডিও এখন গোয়েন্দা সংস্থার হাতে

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

কে এম শাহীন রেজা কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি।।কুষ্টিয়া রশিদ এগ্রোর মালিক আব্দুর রশিদের সরকার বিরোধী ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে তিনি গোপন বৈঠকে সরকারকে তুলোধোনা করছেন।

ভিডিওটি দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। আইলচারা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুর রশিদ ও তার ভাই সিদ্দিকুর রহমান জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ছিলেন । গত ইউপি নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগে যোগদান করে। নৌকা প্রতীক না পেয়ে নৌকার বিরুদ্ধে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করায় আওয়ামীলীগ থেকে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।অন্যদিকে রশিদ একজন আলোচিত ব্যক্তি।

তিনি ছিলেন, জেএমবি’র শীর্ষ জঙ্গি শায়েখ আব্দুর রহমানের দলীয় ব্যক্তি ও অর্থের মদনদাতা। গোপন সূত্রে জানতে পারে যে, রশিদের ধানের চাতালে জঙ্গি শায়েখ আব্দুর রহমান চাল রশিদের ধানের চাতালে অবস্থান করছেন। তাকে ধরতে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও র‍্যাবের মহাপরিচালক হেলিকপ্টার নিয়ে আইলচারা এসেছিলেন।

তারপর থেকেই জঙ্গি রশিদ নামে এলাকায় সমাধিক পরিচিত লাভ করেছেন।আওয়ামী লীগ সমর্থিত চাল শিল্পের মালিকেরা এখন চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে চাল রশিদের নোংরামির কারণে। ভিআইপি অটো রাইস মিল ও ভিআইপি ফ্লাওয়ার মিলসহ আওয়ামীলীগ ঘরনার এই শিল্পপতির দুটি পৈত্রিক আবাসিক বাড়ি মার্কেটসহ কোটি টাকার সম্পত্তি মাত্র ১৮ কোটি টাকায় ব্যাংক কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে চোরাই পথে বাগিয়ে নিয়ে নিয়েছেন।

আইন অনুযায়ী ব্যাংকের কাছে ঋণ গ্রহিতার ফাঁকা চেক ও স্টাম্পে স্বাক্ষর থাকে। সেই সাথে স্থাবর অস্থাবর সকল সম্পত্তির দলিল জমা থাকে। ব্যাংক কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে রশিদ যে আরো নোংরামি করবে না এর কোন হিসেব নেই। চাল রশিদের কাছে একাধিক ব্যবসায়ী ও ব্যক্তি তাদের পাওনা টাকা আদায়ের জন্য বিভিন্ন জায়গায় ধরনা দিলেও কোন লাভ হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে নাটোর এবং ঈশ্বরদীতেও রশিদের নোংরামির বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী সমাজ। ইতিমধ্যে কুষ্টিয়ার চেম্বার অফ কমার্স, কুষ্টিয়া অটো রাইস মিল অ্যাসোসিয়েশন সহ ব্যবসায়ী সমাজ ইতিমধ্যে রশিদকে একঘরে করেছে। গত ইউপি নির্বাচনে আইলচারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতালেব হোসেন নৌকা প্রতীক পায়। মোতালেব হোসেনের ভাতিজা হওয়ায় শিল্পপতি শফিকুল ইসলাম তার চাচার নির্বাচনে অর্থের যোগান দেয়।

তখন চাল রশিদ তার ভাইকে নৌকার বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী করে। নির্বাচনের মাঠে শফিকুলকে দেখে নেওয়ারও হুমকি দেন চাল রশিদ। এরপর থেকে ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে থাকে চাল রশিদ। এরপর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নিলামে শফিকুলের সকল সম্পত্তি পানির দরে নিজের নামে নিয়ে শফিকুলের পরিবার পরিজনকে বাড়ি থেকে রাতের অন্ধকারে রাস্তায় নামিয়ে চরম প্রতিশোধ নেয় চাল রশিদ।

চাল রশিদ আপাদমস্তক মুক্তিযোদ্ধা চেতনা বিরোধী একজন ব্যক্তি। বর্তমান সরকারের সকল প্রকার সুযোগ নিয়ে তিনি দফায় দফায় চাউলের দাম বৃদ্ধি করে সরকারেরকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেন। বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচন, উপজেলা নির্বাচন, ইউপি নির্বাচনের সময় হঠাৎ চালের দাম বৃদ্ধি করে ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগকে জনগণের কাছে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালায়।

তারই একটি গোপন ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে চাল রশিদকে সরকার বিরোধী কড়া সমালোচনা করতে দেখা যাচ্ছে। ভিডিওটি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার হাতে পড়ায় তারা বিষয়টি নিয়ে মাঠে নেমেছেন।