Jashore , Thursday, 22 October 2026
সর্বশেষ:

শ্যামনগরের মুন্ডা পল্লীতে তাণ্ডব : আহত নরেন মুন্ডা’র মৃত্যু

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি// সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী মুন্ডা সম্প্রদায়ের উপর নারকীয় তাণ্ডবের ঘটনায় গুরুতর আহত নরেন্দ্রনাথ মুন্ডা (৭০) মারা গেছেন।

শনিবার বিকেলে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেন শ্যামনগর থানার ওসি কাজী ওয়াহিদ মোর্শেদ।গতকাল শুক্রবারের (১৯ আগস্ট) এ ঘটনায় শনিবার সকালে ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে ১৬০-১৭০ জনকে অজ্ঞাতনামা করে মামলা করা হয়। তাদের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা উপজেলার বংশীপুর গ্রামের নুর হোসেন ও শ্রীফলাকাটি গ্রামের নুর মোহাম্মদ।ঘটনার বিবরণ জানাতে গিয়ে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী ওয়াহিদ মোর্শেদ জানান, ধুমঘাট গ্রামে আদিবাসি মুন্ডা সম্প্রদায়ের সাড়ে ২৭ বিঘা জমির দখল নিতে শুক্রবার হামলা চালানোর অভিযোগ উঠে শ্রীফলকাটি গ্রামের এবাদুল ইসলামের নেতৃত্বে দুই শতাধিক ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে।

দখল পেতে বাধা দেওয়ায় মুন্ডাদের পিটিয়ে জখম করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় রিনা মুন্ডা (৩৫), সুলতা মুন্ডা (৪০), বিলাশী মুন্ডা (৩৬) ও নরেন্দ্রনাথ মুন্ডা (৭০)।চিকিৎসাধীন অবস্থায় নরেন্দ্র মুন্ডা শনিবার মারা গেছেন।

এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে স্থানীয় রাশিদুল সরদার ও এবাদুল সরদারের নেতৃত্বে বংশীপুর থেকে আসা দুই শতাধিক ভাড়াটিয়া লাঠিয়াল এই হামলা চালায়।

হামলায় জড়িতরা সরকারদলীয় ছাত্র ও যুব সংগঠনের নেতাকর্মী বলে জানান তারা।হামলার কারণ সম্পর্কে স্থানীয়রা বলেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে স্থানীয় রাশিদুল-এবাদুল সরদারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে মুন্ডা সম্প্রদায়ের ব্যক্তিদের মনোমালিন্য চলছিল।

একপর্যায়ে মুন্ডা সম্প্রদায়ের ভোগ দখলে থাকা জমি দখলের চেষ্টায় রাশিদুল-এবাদুলরা ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের নিয়ে এই হামলা চালান বলে জানান তারা।তারা আরও বলেন, হামলার আগে দুই শতাধিক লাঠিয়াল মুন্ডা পল্লীতে বসবাসরত পরিবারগুলোকে অবরুদ্ধ করে রেখে বিরোধপূর্ণ ৮ বিঘা জমি পাওয়ার টিলার দিয়ে চাষ করেন। পরে মুন্ডা সম্প্রদায়ের চাষের জমিতে বেড়ে ওঠা ধানের চারা পাওয়ার টিলার দিয়ে সম্পূর্ণ নষ্ট করে দেন তারা।

আর এতে মুন্ডা সম্প্রদায়ের ব্যক্তিরা বাঁধা দিলে তাদের উপরে নির্যাতন চালায় ওই সন্ত্রাসী বাহিনী। এ সময় অবস্থা বেগতিক দেখে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে শ্যামনগর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছেঁ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ভুক্তভোগী ফনিন্দ্রনাথ মুন্ডা অভিযোগ করে বলেন, আকস্মিকভাবে শুক্রবার সকালে দুই থেকে আড়াইশ সন্ত্রাসী ধারালো অস্ত্র নিয়ে মুন্ডা পল্লী ঘিরে ফেলেন।

এসময় সন্ত্রাসীরা প্রতিটি পরিবারকে ঘরের মধ্যে অবরুদ্ধ করে রেখে তাদের ভোগ দখলে থাকা জমিতে কলের লাঙল নামিয়ে চাষ শুরু করেন। একপর্যায়ে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে কোনো রকমে নিজেদের মুক্ত করে জমি চাষে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদেরকে নারকীয়ভাবে নির্যাতন চালানো হয়।

সাতক্ষীরা জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট অসীম কুমার মন্ডল ডেইলি বাংলাদেশ টুডে ডটকম জানান, ১৯৫০ সালের প্রজাস্বত্ব আইন অনুযায়ি মুন্ডাদের জমি হস্তান্তর নিষিদ্ধ। তবে জেলা কালেক্টর বা জেলা প্রশাসক ওই জমি হস্তান্তরের অনুমতি দিলেই তা হস্তান্তর সম্ভব হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 11:17 pm, Saturday, 20 August 2022
33 Time View

শ্যামনগরের মুন্ডা পল্লীতে তাণ্ডব : আহত নরেন মুন্ডা’র মৃত্যু

Update Time : 11:17 pm, Saturday, 20 August 2022

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি// সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী মুন্ডা সম্প্রদায়ের উপর নারকীয় তাণ্ডবের ঘটনায় গুরুতর আহত নরেন্দ্রনাথ মুন্ডা (৭০) মারা গেছেন।

শনিবার বিকেলে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেন শ্যামনগর থানার ওসি কাজী ওয়াহিদ মোর্শেদ।গতকাল শুক্রবারের (১৯ আগস্ট) এ ঘটনায় শনিবার সকালে ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে ১৬০-১৭০ জনকে অজ্ঞাতনামা করে মামলা করা হয়। তাদের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা উপজেলার বংশীপুর গ্রামের নুর হোসেন ও শ্রীফলাকাটি গ্রামের নুর মোহাম্মদ।ঘটনার বিবরণ জানাতে গিয়ে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী ওয়াহিদ মোর্শেদ জানান, ধুমঘাট গ্রামে আদিবাসি মুন্ডা সম্প্রদায়ের সাড়ে ২৭ বিঘা জমির দখল নিতে শুক্রবার হামলা চালানোর অভিযোগ উঠে শ্রীফলকাটি গ্রামের এবাদুল ইসলামের নেতৃত্বে দুই শতাধিক ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে।

দখল পেতে বাধা দেওয়ায় মুন্ডাদের পিটিয়ে জখম করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় রিনা মুন্ডা (৩৫), সুলতা মুন্ডা (৪০), বিলাশী মুন্ডা (৩৬) ও নরেন্দ্রনাথ মুন্ডা (৭০)।চিকিৎসাধীন অবস্থায় নরেন্দ্র মুন্ডা শনিবার মারা গেছেন।

এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে স্থানীয় রাশিদুল সরদার ও এবাদুল সরদারের নেতৃত্বে বংশীপুর থেকে আসা দুই শতাধিক ভাড়াটিয়া লাঠিয়াল এই হামলা চালায়।

হামলায় জড়িতরা সরকারদলীয় ছাত্র ও যুব সংগঠনের নেতাকর্মী বলে জানান তারা।হামলার কারণ সম্পর্কে স্থানীয়রা বলেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে স্থানীয় রাশিদুল-এবাদুল সরদারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে মুন্ডা সম্প্রদায়ের ব্যক্তিদের মনোমালিন্য চলছিল।

একপর্যায়ে মুন্ডা সম্প্রদায়ের ভোগ দখলে থাকা জমি দখলের চেষ্টায় রাশিদুল-এবাদুলরা ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের নিয়ে এই হামলা চালান বলে জানান তারা।তারা আরও বলেন, হামলার আগে দুই শতাধিক লাঠিয়াল মুন্ডা পল্লীতে বসবাসরত পরিবারগুলোকে অবরুদ্ধ করে রেখে বিরোধপূর্ণ ৮ বিঘা জমি পাওয়ার টিলার দিয়ে চাষ করেন। পরে মুন্ডা সম্প্রদায়ের চাষের জমিতে বেড়ে ওঠা ধানের চারা পাওয়ার টিলার দিয়ে সম্পূর্ণ নষ্ট করে দেন তারা।

আর এতে মুন্ডা সম্প্রদায়ের ব্যক্তিরা বাঁধা দিলে তাদের উপরে নির্যাতন চালায় ওই সন্ত্রাসী বাহিনী। এ সময় অবস্থা বেগতিক দেখে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে শ্যামনগর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছেঁ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ভুক্তভোগী ফনিন্দ্রনাথ মুন্ডা অভিযোগ করে বলেন, আকস্মিকভাবে শুক্রবার সকালে দুই থেকে আড়াইশ সন্ত্রাসী ধারালো অস্ত্র নিয়ে মুন্ডা পল্লী ঘিরে ফেলেন।

এসময় সন্ত্রাসীরা প্রতিটি পরিবারকে ঘরের মধ্যে অবরুদ্ধ করে রেখে তাদের ভোগ দখলে থাকা জমিতে কলের লাঙল নামিয়ে চাষ শুরু করেন। একপর্যায়ে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে কোনো রকমে নিজেদের মুক্ত করে জমি চাষে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদেরকে নারকীয়ভাবে নির্যাতন চালানো হয়।

সাতক্ষীরা জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট অসীম কুমার মন্ডল ডেইলি বাংলাদেশ টুডে ডটকম জানান, ১৯৫০ সালের প্রজাস্বত্ব আইন অনুযায়ি মুন্ডাদের জমি হস্তান্তর নিষিদ্ধ। তবে জেলা কালেক্টর বা জেলা প্রশাসক ওই জমি হস্তান্তরের অনুমতি দিলেই তা হস্তান্তর সম্ভব হবে।