কাকলি সুলতানা স্টাফ রিপোর্টার:- ব্রুনাইয়ের সুলতান হাজি হাসানাল বলকিয়াহ তিন দিনের সফরে আজ ঢাকায় আসছেন। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে এই রাষ্ট্রীয় সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সুলতানের এই সফরটি বাংলাদেশে ব্রুনাইয়ের রাষ্ট্রপ্রধান পর্যায়ের প্রথম সফর হবে। উল্লেখ্য, এই সফর কর্মসূচিটি গত এপ্রিলে চূড়ান্ত করা হলেও করোনা মহামারির কারণে শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়।
সফরকালে অন্যান্য অনেক খাতের সঙ্গে জ্বালানি খাতে সহযোগিতাতেও একটি সমঝোতা স্মারক সই হবে। ব্রুনাই থেকে এলএনজি ও পেট্রোলিয়াম সামগ্রী আমদানির লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক সই হচ্ছে। জ্বালানির সংকটকালে এই সমঝোতা স্মারক জ্বালানি নিরাপত্তায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সুলতানের নেতৃত্বে ব্রুনাইয়ের প্রতিনিধি দলে রাজপরিবারের সদস্যবৃন্দ, ব্রুনাইয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা এবং উচ্চপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। সুলতান হাজি হাসানাল বলকিয়াহকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানাবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
পরবর্তী সময়ে তাকে ২১ বার তোপধ্বনিসহ গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে। সুলতান সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করবেন এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করবেন।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী ব্রুনাইয়ের সুলতানের আমন্ত্রণে গত ২১-২৩ এপ্রিল ব্রুনাই সফর করেন। ওই সফরে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারকরণের বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি ছয়টি (৬টি) সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।সফরকালে ব্রুনেইয়ের সুলতান রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। পরবর্তী সময়ে তার সম্মানে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে অংশগ্রহণ করবেন। সফরের দ্বিতীয় দিন প্রধানমন্ত্রী ও ব্রুনাইয়ের সুলতানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে।
সুলতানের এই রাষ্ট্রীয় সফরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি নিম্নবর্ণিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকসমূহ স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, জ্বালানি নিরাপত্তায় সমঝোতা স্মারক, দ্বিপক্ষীয় বিমান চলাচল চুক্তি, বাংলাদেশি জনশক্তি নিয়োগ সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক, দুই দেশ কর্তৃক নাবিকদের সার্টিফিকেটেরে স্বীকৃতি সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক।
ব্রুনাই ১৯৮৪ সালে স্বাধীনতা লাভের অব্যবহিত পর দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর সদয় উদ্যোগে বিগত ১৯৯৭ সালে ব্রুনাইয়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশন পুনঃস্থাপনের পর থেকে দু’দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষত বিগত এক দশকে ব্রুনাইয়ের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, কৃষি, মানবসম্পদ উন্নয়নসহ নানাবিধ ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারিত হচ্ছে।ব্রুনাই তাদের ‘ভিশন ২০৩৫’-এর আওতায় গৃহীত উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে অর্থনীতির বহুমুখীকরণ, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা ও জ্বালানি ইত্যাদি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে আগ্রহী।
জ্বালানি সম্পদে সমৃদ্ধ উচ্চ আয়ের দেশ ব্রুনাইয়ের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা স্থাপনের মধ্য দিয়ে দুদেশই লাভবান হতে পারে।সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থা, মাদক ও মানব পাচার, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন, দারিদ্র্য দূরীকরণ, টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বাংলাদেশ ও ব্রুনাই এক ও অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে থাকে এবং জাতিসংঘ, ওআইসি, অজঋ, কমনওয়েলথসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় ফোরামে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা সমস্যাসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী এবং মহামহিম সুলতানের মধ্যে অধিকতর মতবিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এ এছাড়া সফর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সংগঠন আসিয়ানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়ন ও আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ হওয়ার বিষয়টি অধিকতর গুরুত্ব সহকারে আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করবে।







