ভাবির গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন দিল দেবর!

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় কথা কাটাকাটির জেরে লতিফা বেগমের (৪২) শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দেবর জালালের বিরুদ্ধে। দগ্ধ হয়ে এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন ওই গৃহবধূ। তার শ্বাসনালীসহ শরীরের ৫৫ ভাগ পুড়ে গেছে।

রোববার নবীনগর উপজেলার রসুলুল্লাহবাদ ইউনিয়নের উত্তর দাররা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই গ্রামের জিন্নাত আলীর ছেলে জাকারিয়া ও জালাল।

লতিফা বেগম উপজেলার উত্তর দাররা গ্রামের মো. জাকারিয়ার স্ত্রী। তিনি ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে উত্তর দাররা গ্রামের জিন্নত আলী ব্যাপারীর ছেলে আরব আমিরাত প্রবাসী জাকারিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় একই উপজেলার কালঘড়া গ্রামের হেলাল সরকারের মেয়ে লতিফা বেগমের। তাদের সংসারে দুই ছেলে রয়েছে। বড় ছেলে আরব আমিরাতের আবুধাবি প্রবাসী ও আর ছোট ছেলে কলেজে পড়াশোনা করে। দেড় বছর আগে মো. জাকারিয়া দেশে ফিরেছেন। 

লতিফা বেগমের স্বামী মো. জাকারিয়া জানান, কয়েক দিন আগে আমার ছোট ভাই জালাল মিয়ার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছিল। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিল জালাল। দুপুরে আমি বাড়িতে ছিলাম না। লতিফা ঘরে বসে পিঠা তৈরি করছিলেন। এ সুযোগে জালাল পেছন দিক থেকে এসে লতিফার গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে আগুনে তার সারা শরীর ঝলসে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে চিকিৎসকরা লতিফাকে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে প্রেরণ করেন। 

তিনি আরও জানান, জালালের সঙ্গে আমারও মাঝে মাঝে ঝগড়া হতো। কিন্তু সে এই কারণে অমানুষের মতো কাজ করবে! আমার স্ত্রীর অবস্থা সংকটাপন্ন। 

এ বিষয়ে নবীনগর থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন আনোয়ার বলেন, অভিযুক্ত দেবর জালাল একজন মাদকাসক্ত। পারিবারিক বিবাদ নিয়ে তিনি এ কাজটি করেছেন। অগ্নিদগ্ধ লতিফা বেগম ঢাকায় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন। অভিযুক্ত দেবর পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।