দৌলতপুরে হামলার ঘটনায় অগ্নিদগ্ধে মৃত্যু ২ জনের

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

কুষ্টিয়া দৌলতপুর প্রতিনিধি:- কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে চিলমারী তে রাস্তার জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুইপক্ষের সংঘর্ষে দগ্ধ হওয়া ছয়জনের মধ্যে দুইজন মারা গেছেন।

রোববার দুপুর দিকে ঢাকায় শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান। মৃতরা হলেন, চিলমারী বাজারপাড়ার মৃত নবির মণ্ডলের ছেলে দিনু মণ্ডল (৭০) এবং একই এলাকার তোফাজ্জেল মণ্ডলের ছেলে আকতার মণ্ডল (৩৫)।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন দৌলতপুর থানার ওসি মজিবুর রহমান। উল্লেখ্য, গত ২৭ এপ্রিল কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে রাস্তার জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুইপক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ২৫ জন আহত ও অগ্নিদগ্ধ হয়েছিলেন।

স্থানীয় হাসপাতালসহ ঢাকা হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছিল চারজনকে।বৃহস্পতিবার উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নে বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ সংঘর্ষ চলে। এ সময় চারটি ঘরে অগ্নিসংযোগ ও কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর করা হয়।এ সময় হামলাকারীরা ওই সব বাড়ি থেকে গরু, ছাগল, ঘরের আসবাবপত্র ও সম্পদ লুট করে নিয়ে যায় এবং কেটে ফেলে ফলদ ও বনজ বৃক্ষ। খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

এ ঘটনায় মণ্ডল পক্ষের মোজাম্মেল মণ্ডল বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে দৌলতপুর থানায় হত্যাচেষ্টা ও বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ৭৩ জনের নাম উল্লেখসহ ১২০ জনের নামে মামলা দায়ের করেন।

মামলার প্রধান আসামি করা হয় দৌলতপুর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও চিলমারী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শেলি দেওয়ানকে। মামলার ৩নং আসামি তারই ভাই চিলমারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল দেওয়ান। মামলার সূত্র ধরে দৌলতপুর থানা পুলিশ ও র্যাব-১২ কুষ্টিয়া ক্যাম্পের অভিযানিক দল শুক্রবার রাতে চিলমারীর চরে অভিযান চালিয়ে চিলমারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল দেওয়ান (৪৩) সহ ১৩ জনকে গ্রেফতার করে।

এছাড়াও একই দিন রাতে কুষ্টিয়া শহরের হাউজিং এলাকায় র্যাব অভিযান চালিয়ে মামলার ১নং প্রধান আসামি শেলি দেওয়ানকে (৫৬) গ্রেফতার করে। পরে তাদের দৌলতপুর থানায় সোপর্দ করা হয়। আসামিদের শনিবার আদালতে সোপর্দ করা হলে রোববার দুপুরে আদালতের বিচারক তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মজিবুর রহমান জানান, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ দিনি মণ্ডল ও আক্তার মণ্ডল ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তবে এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।