ভারতে মাওবাদী ও আদিবাসী গণহত্যার প্রতিবাদে স্মরণ অনুষ্ঠিত

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email
স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী)-এর সাধারণ সম্পাদক শহীদ বাসবরাজসহ মাওবাদী ও আদিবাসীদের ওপর গণহত্যার প্রতিবাদে আজ ঢাকার শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে এক স্মরণ ও প্রতিবাদসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। “ভারতে মাওবাদী ও আদিবাসী গণহত্যাবিরোধী প্রতিবাদ কমিটি, বাংলাদেশ” আয়োজিত এই সভায় বক্তারা ভারতের বিজেপি সরকারের “অপারেশন কাগার” অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানান।
সভার শুরুতে “অপারেশন কাগার”-এ শহীদ এবং ফিলিস্তিনসহ বিশ্বজুড়ে অন্যায় যুদ্ধে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর শহীদ কমরেড বাসবরাজের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং আন্তর্জাতিক সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সভার কার্যক্রম শুরু হয়।
মাওবাদী কবি হাসান ফকরীর সভাপতিত্বে এবং বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির সঞ্চালনায় আয়োজিত এই সভায় বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন। বক্তব্য প্রদানকারীদের মধ্যে ছিলেন খনন পত্রিকার সম্পাদক বাদল শাহ আলম, জাতীয় গণফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক রজত হুদা, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হারুন-অর-রশিদ, সমাজতান্ত্রিক বুদ্ধিজীবী সংঘের সদস্য সচিব আফজালুল বাশার, গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য রঘু অভিজিৎ রায়, শহীদ বিপ্লবী ও দেশপ্রেমিক স্মৃতি সংসদের সদস্য সৈয়দ আবুল কালাম, জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চের সভাপতি মাসুদ খান, নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চার সভাপতি জাফর হোসেন, নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য খবির শিকদার, বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলন ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক নাঈম উদ্দিন এবং বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলন যশোর জেলা শাখার সংগঠক সুমাইয়া শিকদার ইলা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ভারতের হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিবাদী মোদি সরকার “অপারেশন কাগার” নামক নৃশংস সামরিক অভিযানের মাধ্যমে মাওবাদী রাজনৈতিক নেতা-কর্মী এবং সাধারণ আদিবাসীদের হত্যা করছে। গত জানুয়ারি ২০২৪ থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে ৪০০ জনেরও বেশি মাওবাদী নেতা-কর্মী এবং সাধারণ আদিবাসী নিহত হয়েছেন বলে তারা জানান। বক্তারা ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে “মাওবাদ মুক্ত ভারত” গড়ার ঘোষণার ধারাবাহিকতায় এই হত্যাকাণ্ড চলছে বলেও উল্লেখ করেন।
বক্তারা আরও বলেন, মাওবাদীদের নেতৃত্বে আদিবাসীরা তাদের জল-জমি-জঙ্গল রক্ষার আন্দোলন গড়ে তুলেছে। সরকার এই ন্যায্য আন্দোলনকে দমন করে আদিবাসীদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ করে সাম্রাজ্যবাদী ও বহুজাতিক কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বার্থ রক্ষা করতে একের পর এক সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। তারা গত ২১ মে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী)-এর সাধারণ সম্পাদক কমরেড বাসবরাজসহ ২৮ জনকে আটক করে ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করার ঘটনা এবং আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ মাওবাদী নেতাকে একইভাবে হত্যার তীব্র নিন্দা জানান।
সভায় বক্তারা ফ্যাসিবাদী মোদি সরকার কর্তৃক চালিত “অপারেশন কাগার” অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানান এবং ভারতসহ সারা বিশ্বের শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্ত-ছাত্র-বুদ্ধিজীবীসহ সকল স্তরের জনগণকে এই হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিবাদকে রুখে দিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
প্রতিবাদসভা শেষে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয় এবং সবশেষে লাল পতাকা ও ফেস্টুন সজ্জিত একটি মিছিলের মাধ্যমে স্মরণ ও প্রতিবাদসভার সমাপ্তি ঘটে।