স্বাস্থ্য উপদেষ্টার একমাত্র যোগ্যতা ড. ইউনূসের ঘনিষ্ঠতা

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক

উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনে বিমান দুর্ঘটনা এবং সেই ঘটনায় হতাহতদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় চরম ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।

চাঁদপুর বাসস্ট্যান্ডে বুধবার (২৩ জুলাই) দুপুরে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি বলেন, আমাদের একজন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা আছেন, চেনেন উনাকে? উনি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভাই ব্রাদার কোটায় এসেছেন। এটা ড. ইউনূসের স্বজনপ্রীতির সবচেয়ে বড় উদাহরণ।

হাসনাত বলেন, এই উপদেষ্টার কোনো প্রয়োজন নেই। উনি যে বেতনটা নেন, সেটা হারামভাবে। সরকারি গাড়িতে ঘোরাঘুরি করছেন জনগণের টাকায়—এটা চরম বেঈমানি। উনার চিকিৎসা বিষয়ে কোনো জ্ঞান নেই। যন্ত্রপাতি বোঝেন না, চিকিৎসা বোঝেন না—শুধু গ্রামীণ ব্যাংকে কাজ করেছেন এবং ড. ইউনূসের কাছের লোক, এটুকুই তার যোগ্যতা।

তিনি আরও বলেন, এই ব্যক্তি নিজেই চিকিৎসা নিতে যান সিঙ্গাপুরে। দেশের জনগণের করের টাকায় উনার বেতন চলে, অথচ দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় তার কোনো অবদান নেই। তিনি অবিলম্বে পদত্যাগ করুন এবং রাষ্ট্রীয় তহবিলে টাকা ফিরিয়ে দিন।

পথসভায় আওয়ামী লীগ ও সরকারবিরোধী অবস্থান নিয়ে হাসনাত বলেন, দল-মত নির্বিশেষে আমাদের সবাইকে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। আওয়ামী ফ্যাসিবাদ লাশের ওপর দাঁড়িয়ে রাজনীতি করছে। আমরা তাদের চ্যাপ্টার ক্লোজ করেছি। সামনে কোনো সম্ভাবনাও থাকলে তা রুখে দেব।

তিনি আরও বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই যেখানে রাস্তা নিরাপদ থাকবে, যেখানে বিমানের অংশ স্কুল ভবনে এসে পড়বে না, স্কুলভবন ভেঙে প্রাণ যাবে না, আর থাকবে নিশ্চিত স্বাস্থ্যসেবা।

একই দিনে সকালে চাঁদপুর সার্কিট হাউসে শহীদ পরিবারের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, শহীদদের মায়েরা চোখের পানি শুকিয়ে ফেলেছেন, কিন্তু কোনো দৃশ্যমান বিচার হয়নি। নতুন আরেক জুলাই এসেছে, অথচ বিচার নেই। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যেন এই বিচার সম্পন্ন না করে অন্য কিছু না ভাবে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডে দায়ীদের মধ্যে যারা আছে, খুনি হাসিনা সহ, সকলের বিচার চাই। বিচার না করে অন্য কোনো এজেন্ডা চালানো যাবে না।

সারজিস আলম, নাসীরুদ্দিন পাটোয়ারীসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকে। নেতারা তাদের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন।

পরে চাঁদপুর সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণ থেকে বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত একটি শোক র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়। পথসভা শেষে নেতাকর্মীরা হাজীগঞ্জে শহীদ আজাদ চত্বর উদ্বোধন করেন। এরপর শাহরাস্তির দোয়াভাঙ্গা পদযাত্রা শেষে তারা কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হন।