টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত শহর, দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত টানা বৃষ্টিপাতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যশোর শহর। দিনভর থেমে থেমে হওয়া ভারী বর্ষণে শহরের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন দিনমজুরসহ খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। শহরের ছোট বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও দেখা দিয়েছে ক্রেতা সংকট।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত যশোরে ৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। আবহাওয়া অফিসের সূত্র মতে, আগামী কয়েকদিন হালকা বৃষ্টিপাতসহ আকাশ মেঘলা থাকতে পারে।

টানা বৃষ্টিতে শহরের শংকরপুর, চাঁচড়া, রেলগেট এলাকা, খড়কি, টিবি ক্লিনিক এলাকাসহ বেশ কিছু স্থানে পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার অপ্রতুলতার কারণে বৃষ্টি থামার পরও সহজে পানি সরছে না। ফলে জনজীবনে দুর্ভোগ আরও বাড়ছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং পথচারীদের যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে।

সারাদিন সূর্যের দেখা না মেলায় এবং বৃষ্টিপাতের কারণে দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষেরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। কাজ না পেয়ে তাদের অনেকেই অলস সময় কাটাতে বাধ্য হয়েছেন। এতে তাদের দৈনন্দিন আয় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রিকশা ও ইজিবাইক চালকরাও যাত্রী সংকটে পড়েছেন।

অফিস চলাকালীন সময়ে কিছু যাত্রী পেলেও দিনের বেশিরভাগ সময় তাদের বেকার বসে থাকতে হয়েছে। দুপুর ২টার পর ভারি বৃষ্টি শুরু হলে অনেক চালককে পলিথিন ও ছাতা ব্যবহার করে নিজেদের রক্ষা করতে দেখা যায়।বৃষ্টির কারণে ক্রেতা না থাকায় শহরের ছোট-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এক ধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। দোকানগুলোতে ক্রেতার আনাগোনা ছিল খুবই কম। বিশেষ করে ফুটপাতের হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

এদিকে, বৃষ্টির কারণে বিনোদন কেন্দ্র যেমন পৌরপার্ক, ভৈরব নদের ইকোপার্কে, কালেক্টরেট ভবন এলাকাসহ বেশ কিছু স্পটে মানুষের আনাগোনা তেমন চোখে পড়েনি।

জজকোর্ট মোড় এলাকার চায়ের দোকানি সঞ্জয় বিশ্বাস বলেন, ফুটপাতে চা বিক্রি করতে হয়। বৃষ্টির কারণে সকাল থেকে কেটলি গরম করতে পারিনি। বিকেলে বৃষ্টি কিছু কম হয়েছে। বৃষ্টির দিনে কেনাবেচা খুব খারাপ হয়।

ইসরাফিল হোসেন নামে এক রিকসা চালক বলেন, রিকসাতে জায়গা কম। বৃষ্টির ভিতরে যাত্রী উঠলেও নিজে ভিজতে হয়। এখন ঠান্ডা জ¦রের সময় একদিন ভিজলে দুই দিন শরীর খারাপ থাকে। রাস্তায় যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। জরুরি প্রয়োজনে ছাড়া বাড়ির বাইরে লোকজন কম বের হচ্ছে।

খড়কি এলাকার বাসিন্দা এনামুল হক বলেন, সারাদিন বৃষ্টি হচ্ছে। তারপর রাস্তায় ড্রেনের কাজ চলছে। মোটরসাইকেল তো দূরে থাক পায়ে হেঁটে চলাচল করা যাচ্ছে না। বাধ্য হযে বাড়তি ভাড়া দিয়ে রিকসা করে বাড়ির বাইরে বের হতে হচ্ছে।