স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
যশোর সদর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের সীতারামপুর গ্রামের বাসিন্দারা দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে উন্নয়ন বঞ্চিত। এই এলাকার মানুষের চলাচলের একটি মাত্র রাস্তার অবস্থাও বেহাল। যে কারণে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকাবাসি।
জানা গেছে, ২০০১ সালের পর থেকে সীতারামপুরের মালোপাড়া থেকে শেখ পাড়া পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার একটি আধাপাকা ইটের সলিং রাস্তার কোনো সংস্কার বা উন্নয়ন কাজ করা হয়নি। সংস্কারের অভাবে বর্ষার সময়ে রাস্তা চলাচলের সম্পূর্ণ অযোগ্য হয়ে পড়ে। সীতারামপুরের এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৫ থেকে ৭ হাজার মানুষ চলাচল করে। যাদের মধ্যে রয়েছে স্থানীয় চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অসংখ্য শিক্ষার্থী।
সীতারামপুর মালোপাড়া মোড় থেকে শেখপাড়া প্রাইমারি স্কুল পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার রাস্তার অবস্থা একে বারে চলাচলের অনুপযোগী। ইট ও খোয়া উঠে গিয়ে অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায় পুরো রাস্তা। এতে পথচারী, বিশেষ করে বয়স্ক ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। শিক্ষার্থীরা প্রায়ই পিচ্ছিল রাস্তায় পড়ে গিয়ে আহত হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা রমজান মোল্লা, আরিফ হোসেন, রানা হোসেন এবং রনি মোল্লার অভিযোগ, এই রাস্তার কারণে অসুস্থ রোগীদের সময় মতো হাসপাতালে নেওয়া অসম্ভব হয় না। অনেক সময় গর্ভবতী নারীদের রাস্তায় সন্তান প্রসবের মতো ঘটনাও ঘটে। জরুরি পরিস্থিতিতে অ্যাম্বুলেন্স বা অন্য কোনো যানবাহন গ্রামে প্রবেশ করতে পারে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধিরা ভোটের আগে রাস্তা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও ভোটের পর তাদের আর দেখা যায় না। এই প্রতারণার শিকার হয়ে হতাশ গ্রামবাসী নিজেদের উদ্যোগে চাঁদা তুলে রাস্তা মেরামতের চেষ্টা করছেন। তারা জানান, তাদের কোনো নেতা বা সরকার নেই। যার কারণে দীর্ঘ বছর ধরে এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রমজান মোল্লা সরকারের কাছে জরুরি ভিত্তিতে এই রাস্তাটি সংস্কারের জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। গ্রামবাসীরা মনে করেন, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। এছাড়া, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।







