স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
যশোর মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের গোপন বৈঠক চলাকালীন সমযে তা ভন্ডুল করে দিয়েছে প্রশাসন। সোমবার গভীর রাতে কলেজ ক্যাম্পাসে গোপন বৈঠকের খবর পেয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশকে অবহিত করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মূহুর্তের মধ্যে ক্যাম্পাসের পরিবেশ উত্তপ্ত হতে শুরু করে। পরবর্তীতে মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক ডাঃ আব্দুল্লাহ আল মুক্তাদির ও ছাত্রদল নেতা ডাঃ প্যারিস উপস্থিত হয়ে উদ্ভুত পরিস্থিতি সামাল দেন।
যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১১ আগস্ট) রাতে কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্র হোস্টেলের জেএমসি- ১০ম ব্যাচের ছাত্র শেখ সাকিবের রুমে গোপন বৈঠক করছিল নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠনটির মেডিকেল কলেজ ইউনিটের সভাপতি নাফিজ শহিদুল্লাহ শাহী, সাংগঠনিক সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন, সহ সভাপতি সামী সাদিক, ফাহিম ফয়সাল।
এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগ নেতা কর্মীদের কাছে জানতে চায়, তারা কেন হোস্টেলে এসেছে এবং তাদের উদ্দেশ্য কি ? উত্তরে শেখ সাকিব নামে এক ছাত্রলীগ নেতা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তিনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের গালিগালাজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে জেএমসি-১২ ব্যাচের মেহরাব হোসেন ফাহিম ছাত্রলীগের হয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে হাতাহাতিতে লিপ্ত হয়।
পরে ছাত্রলীগ নেতারা, যশোর জেনারেল হাসপাতালে গতবছরের ৪ আগষ্ট কথিত শান্তি সমাবেশে উপস্থিত থাকা তৎকালীন ছাত্রলীগের ক্যাডার ও শাহিন চাকলাদারের কর্মী ডাঃ ইমাম আল আজম খান এবং ডাঃ নাঈম হাসানকে কল করে হোস্টেলে ডেকে নিয়ে আসে। সাথে সাথে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাকর হয়ে উঠে। এমন সময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা হোস্টেল সুপার ও ইএনটি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ এসএম গাজী শরিফ উদ্দিন আহমদকে বিষয়টা অবহিত করে। এর কিছুক্ষণ পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় যশোর কোতোয়ালি পুলিশ।
তবে, এঘটনায় পুলিশ কাউকে আটক করেনি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযুক্ত ওই ছাত্রলীগ নেতারা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী।
এবিষয়ে, যশোরে মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. আবু হাসনাত মো. আহসান হাবীব বলেন, বিগত দিনে হয়ত সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের থেকে বঞ্চনার শিকার। সেই ক্ষোপে কয়েকজন ক্যাম্পাসে বন্ধুর জন্মদিনে কেক কাটতে আসলে এমন পরিস্তিতি সৃষ্টি হয়।পরবর্তীতে তারা ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে গেছেন। ক্যাম্পাসে প্রশাসনের নজরদারি অব্যহত রয়েছে। সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
যশোর কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল বাশার বলেন, আমি ছুটিতে ছিলাম। এ বিষয়ে আমি জ্ঞাত নয়।







