জুলাই ঘোষণায় ছাড় দিয়েছি, সনদে একবিন্দুও নয়: নাহিদ ইসলাম

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই ঘোষণায় ছাড় দিয়েছি, সনদে একবিন্দু ছাড় দেবো না। জুলাই সনদের ভিত্তিতেই হতে হবে আগামী নির্বাচন। জাতির কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ না করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিদায় নিতে পারবে না। অন্য কোনও সরকারও আসতে পারবে না।

গণঅভ্যুত্থানের রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্য ধরে রাখতে হবে। অন্যথায়, ফ্যাসিবাদি শক্তি লাভবান হবে।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুব উইং জাতীয় যুবশক্তির জাতীয় যুব সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে প্রথমবারের মতো এ সম্মেলনের আয়োজন করে সংগঠনটি। এতে সারা দেশের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

নাহিদ বলেন, জুলাই আন্দোলনে সবচেয়ে দেশপ্রেমিক শক্তি তরুণরা বুলেটের সামনে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু তাদের প্রত্যাশার সঙ্গে প্রতারণা হলে আমরা মেনে নেবো না। জনগণ তাদেরকে ক্ষমা করা হবো না। তিনি অভিযোগ করেন— রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে তরুণরা সবচেয়ে অবহেলিত।

নাহিদ বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে মিডিয়া ট্রায়াল করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা থামবো না। দেশ গড়ার লড়াই চালিয়ে যাবো। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণদের ক্ষমতায়িত করতে হবে।

তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে তরুণদের সর্বাধিক আসনে দেখতে চাই। সব রাজনৈতিক দল থেকেই তরুণদের মূল্যায়ন করতে হবে।

নাহিদ বলেন, নৈতিকতাপূর্ণ তরুণ প্রজন্ম গড়ে তুলতে শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করতে হবে। তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের পুষ্টির  ব্যবস্থা করতে হবে।

নাহিদ অভিযোগ করেন, অভ্যুত্থানে ভূমিকা রাখা নারীনেত্রীরা সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন। এটি দুঃখজনক। আগামীতে রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে তরুণদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাদের প্রস্তুত করতে হবে।

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। তিনি বিশ্বের নিপীড়িত তরুণদের স্মরণ করেন। তিনি জানান, জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেই নির্বাচনে যাবেন।

জাতীয় যুবশক্তির সদস্য সচিব ডা. জাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম।

সম্মেলনে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন— জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আমার বাংলাদেশ পার্টি-এবি পার্টির সদস্য সচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

আর এনসিপির নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন— সদস্য সচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, আরিফুল ইসলাম আদিব, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনীম জারা।

এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, হাবিবুর রহমান ও ফজলুর রহমানের বক্তব্যে আমরা আশাহত হই। কারণ তারা ফ্যাসিবাদের পক্ষে ভূমিকা রাখছেন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি বলেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করলেই ১০ কোটি টাকার মানহানি মামলা করা হয়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কিছু মিডিয়া সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আমাদের মিটিং ও নাস্তা করার মিথ্যা নিউজ দিয়েছে। এ সময় তিনি চ্যানেল ওয়ানের মালিক গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের নাম ধরে সমালোচনা করেন।

সারজিস বলেন, আমরা তাদেরকে দেখতে চাই। আমরা আর ছাড় দেবো না। গোড়ায় হাত দেবো।

এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এক বছরে কী করেছে, তা প্রকাশ করতে হবে। পরবর্তী সময়ে মিডিয়া, প্রশাসন ও আর্মিদের নিয়ে কী করতে চায় তাও জানাতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, এখনও কতিপয় মিডিয়া ক্যান্টনমেন্ট ও ডিজিএফআইসহ রাষ্ট্রীয় এজেন্সির দেওয়া সংবাদ পরিবেশন করে।

তিনি বলেন, মিডিয়ায় নারী নেতৃত্বকে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে। শেখ হাসিনা যেভাবে মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করতো, এখনও এজেন্সির নিয়ন্ত্রণে সেভাবে চলছে। অথচ গণমাধ্যমকর্মীদের সেভাবে বেতন দেওয়া হয় না।

হাসনাত বলেন, আসলে আমাদের চরিত্রের কোনও পরিবর্তন হয়নি। বিগত দিনে ওসিকে সাক্ষী রেখে ভোট চুরি করা হতো। প্রশাসনের সংস্কার করতে হবে। আর যেন হাসিনার মতো কেউ বুলেটের মধ্যে ব্যালটকে কুক্ষিগত করতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তিনি সবাইকে বাংলাদেশপন্থি হওয়ার আহ্বান জানান।

হাসনাত আরও বলেন, মোনাফেক জাতীয় পার্টি দিয়ে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসন করার অপচেষ্টা চলছে। জাতি তা মেনে নেবে না।

তিনি তারেক রহসানকে লক্ষ্য করে বলেন, ওনার এক নেতা আমাদের বান্দির বাচ্চা বলো গালি দিয়েছে। ব্যবস্থা না নিলে ধরে নেবো— সেখান থেকেই এসব করা হচ্ছে।

এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্থা শারমিন বলেন, তরুণ ও যুবকদের নিয়েই রাজনীতিকে এগিয়ে নিতে হবে। গণমাধ্যমে আওয়ামী লীগকে প্রাসঙ্গিক করা হচ্ছে। তাদেরকে আবারও ফিরিয়ে আনার চক্রান্ত করছে একটি পক্ষ। রাজনৈতিক দলগুলোকে ভাবতে হবে— তারা কী আওয়ামী ন্যারেটিভকে প্রতিষ্ঠা করতে চায় কিনা। আমরা চাই, এই অপশক্তিকে রুখে দিতে। এক্ষেত্রে যুবকদের ভূমিকা রাখতে হবে।

সম্মেলনে ৭ দফা যুব  ইশতেহার ঘোষণা করেন জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম।