যশোরে দুই স্বামীর টানাটানি, থানা চত্বরেই তুলকালাম কাণ্ড

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email
স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
এক নারীকে নিয়ে দুই স্বামীর প্রকাশ্য টানাহেঁচড়ায় মঙ্গলবার দুপুরে তুলকালাম কাণ্ড ঘটে গেছে যশোর কোতোয়ালি থানা চত্বরে। ফরিদপুরের এক গৃহবধূর প্রথম ও দ্বিতীয় স্বামীর মধ্যে এই ত্রিমুখী ঝামেলা থানা পর্যন্ত গড়ায়। এই নাটকীয় দৃশ্য দেখতে সেখানে ভিড় জমায় উৎসুক জনতা। অনেকে মন্তব্য করেন, এ যেন বিখ্যাত গানের সেই লাইন, ‘বিধি তুমি বলে দাও আমি কার, একটি মানুষ দুইটি মনের দাবিদার’।
জানা গেছে, ফরিদপুরের কানাইপুরের বাসিন্দা বিকাশ অধিকারীর সঙ্গে সীমা অধিকারীর প্রায় ৩৬ বছরের সংসার। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়েও আছে। কিন্তু সেই সাজানো সংসার ছেড়ে সীমা সম্প্রতি ফরিদপুর সদরের বাসিন্দা পলাশ কুন্ডুর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। শুধু তাই নয়, বিকাশ অধিকারীর ঘর ছেড়ে পালিয়ে তিনি পলাশের হাত ধরে ভারতে চলে যান এবং সেখানে তারা বিয়েও করেন।
গত রাতে তারা যশোরে ফিরে একটি হোটেলে ওঠেন। বিষয়টি জানতে পেরে প্রথম স্বামী বিকাশ অধিকারী সেই হোটেলে হানা দিলে ত্রিমুখী এই ঝামেলা শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকাশ, সীমা ও পলাশ তিনজনই আইনি সহায়তার জন্য কোতোয়ালি থানায় আসেন। আর সেখানেই শুরু হয় তাদের মধ্যে চরম উত্তেজনা, যা একপর্যায়ে হাতাহাতি থেকে মারামারিতে রূপ নেয়।
দ্বিতীয় স্বামী পলাশ কুন্ডু জানান, সীমার সঙ্গে তাঁর তিন বছরের সম্পর্ক। দুজনেই স্বেচ্ছায় বিয়ে করেছেন এবং এখন একসাথে থাকতে চান। কিন্তু বিকাশ তাদের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
অন্যদিকে, স্ত্রী সীমা অধিকারী বলেন, বিকাশের সংসারে তিনি নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতেন। সেই অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে তিনি বাধ্য হয়ে বিকাশকে ছেড়ে পলাশকে বিয়ে করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি আর বিকাশের সঙ্গে সংসার করবেন না।
প্রথম স্বামী বিকাশ অধিকারীর দাবি, সীমার পরকীয়ার কারণে তাঁদের সাজানো সংসার ভেঙে যাচ্ছে। সীমা শুধু বাড়ি ছাড়েননি, বরং পালিয়ে যাওয়ার সময় নগদ টাকা ও গয়নাও নিয়ে গেছেন। তিনি সীমাকে যেকোনো মূল্যে বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে চান।
কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) কাজী বাবুল জানান, ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের তিনজনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। বর্তমানে তারা থানা হেফাজতে আছেন এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে।