যশোরে নানা আয়োজনে কুমারি পূজা উদযাপন

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email
স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
সনাতন ধর্মবিশ্বাসীদের সবচেয়ে বড়ো উৎসব শারদীয় উৎসবের শ্রীশ্রী মহা দুর্গাষ্টমী তিথি ধর্মীয় নানা মাঙ্গলিক আচারানুষ্ঠান ও ভক্তদের অঞ্জলি প্রদানের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার সম্পন্ন হয়েছে। এদিন যশোরের রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনে দেবীদুর্গার আরাধনার পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয়েছে কুমারী পূজা। এ সময় শুদ্ধ দেহে শুদ্ধ মনে ত্রিনয়নী মহাদেবী সর্বজয়া ব্রহ্মচারী, বিশ্বমাতা, সর্বব্যাপিনী সব ঐশ্বর্যময়ী ও সমগ্র জগতের দুঃখহারিনী দশভুজা দেবী দুর্গার আরাধনা করে মহাষ্টমীতে আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন তারা।
ভক্তবৃন্দ আকুল হয়ে প্রার্থনা করে বলেন, ‘মা! সবিনয়ে প্রার্থনা করছি, তুমি প্রসন্না হও। সন্তানগণের প্রতি নিত্য স্নেহশীলা হও। চির দগ্ধ চিত্তে একবিন্দু স্নেহ বর্ষণ করে আমাদের শান্ত কর। আমাদের মঙ্গল কর।’
যশোরের রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনে এ বছর বেলা ১১টায় হয়েছে কুমারী পূজা। মাগুরার নারায়ণপুরের পুরোহিত বাবা তাপস চক্রবর্তী ও গৃহিণী মা তমালিকা চক্রবর্তী পাঁচ বছরের শিশুকন্যা তমস্বতী চক্রবর্তীকে শাস্ত্রমতে ‘সুভগা’ নামে এবার মাতৃদেবী জ্ঞানে পূজা করা হয়। এসময় ভক্তরা আরাধনা করে বলেন, ত্রিলোক শ্রেষ্ঠা সুন্দরী, উৎকৃষ্ট বর্ণধারিনী হে বালিকা তুমি কল্যাণকর, তুমি প্রকাশকারিণী, মনোহর হাস্য যুক্তা, মহানন্দময়ী, মঙ্গলময়ী, পরমানন্দ স্বরূপিণী জগৎ জননী- তোমাকে প্রণাম জানাই।
এছাড়া বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে এদিন তিথি অনুযায়ী অষ্টমী তিথীর শেষ ও নবমী তিথির শুরুর সন্ধিক্ষণে সন্ধ্যা ৬টা ১৩ মিনিট থেকে ৭টা ১ মিনিটের মধ্যে দেবীর ‘সন্ধিপূজা’ সম্পন্ন হয়েছে। ধর্মীয় ক্রিয়াদি সম্পন্ন করে অসুর শক্তি বিনাশে চালকুমড়ো, ইক্ষু গাছ ও পাকা কলা ‘প্রতীকী বলি’ দেয়া হয়।
যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনে এ বলি কার্যক্রমে পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করেন প্রণয় চক্রবর্তী। তন্ত্রধারী পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করেন শক্তিপ্রসাদ গাঙ্গুলী। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী জ্ঞানপ্রকাশানন্দ ও সহসম্পাদক স্বামী আত্মবিভানন্দ।
উল্লেখ্য, সন্ধিপূজা আসলে অসুর নাশিনী দেবী দুর্গার আর এক অসুর দলনী রূপের পূজা। সেই দেবীর নাম ‘চামুণ্ডা’। অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণে দেবী চামুণ্ডা চণ্ড ও মুণ্ড নামে দুই অসুরকে নিধন করেছিলেন। তাই অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণে দেবী চামুণ্ডার পূজা করা হয়। অষ্টমী তিথির শেষ দণ্ড অর্থাৎ শেষ ২৪ মিনিট এবং নবমী তিথির প্রথম দণ্ড অর্থাৎ প্রথম ২৪ মিনিট এই মোট ৪৮ মিনিটের যে মহা সন্ধিক্ষণ; সেই সময়ে সন্ধিপূজা করা হয়।
আজ বুধবার শারদীয় উৎসবের ৪র্থ দিনে মহা দুর্গা নবমী কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা সম্পন্ন হবে। শাস্ত্রমতে এদিন ১০৮টি পদ্মফুলে পূজিত হবেন দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গা। যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনে পূজা শুরু হবে সকাল সাড়ে ৬টায়।
এদিকে মঙ্গলবার শারদীয় উৎসবের শ্রীশ্রী মহা দুর্গাষ্টমী তিথিতে নতুন ও পরিচ্ছন্ন পোষাকে সজ্জিত হয়ে সকাল থেকেই মন্দির ও মণ্ডপগুলোতে ছোট-বড়ো ভক্তদের পদচারণা বৃদ্ধি পেতে থাকে। দুপুর তিনটা থেকে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী অঝোর ধারার অকাল বৃষ্টিতে উচ্ছ্বাস- উদ্দীপনায় কিছুটা বিঘ্ন হলেও সন্ধ্যার পর পূজা প্রাঙ্গণমুখী ভক্তদের ভিড় বাড়তেই থাকে।
আগামীকাল ২ অক্টোবর দশমী কল্পারম্ভ সকাল সাড়ে ৬টায় এবং বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে ৯টা ৫০ মিনিটের মধ্যে পূজা সমাপন ও দর্পণ বিসর্জন এবং সন্ধ্যা আরাত্রিকের পর প্রতিমা নিরঞ্জন এবং পরে শান্তিজল সিঞ্চন।