স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
‘নদী ও জলাধারের প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ সংরক্ষণ করুন’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গত বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে যশোরে পালিত হলো সচেতনতামূলক নানা কর্মসূচি। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০ টায় ভৈরব নদের সেতুর ওপর বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এর উদ্যোগে একটি মানববন্ধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
একসময়ের প্রমত্তা কপোতাক্ষ, ভৈরব, চিত্রা ও মুক্তেশ্বরী নদীর বর্তমান দুর্দশা ও ভবিষ্যৎ রক্ষায় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করাই ছিল এবারের আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
বাপার এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে যশোরের গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলোর অবৈধ দখল, মারাত্মক দূষণ ও নাব্যতাসংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
বিশিষ্ট শিক্ষক নেতা ও বাপার সিনিয়র সদস্য অধ্যক্ষ পাভেল চৌধুরী-এর সভাপতিত্বে এবং শেখ রাকিবুল ইসলাম নয়ন-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আব্দুল মতলেব সরদার। মানববন্ধন, আলোচনা ও ইউনিভার্সিটির ডেমোনস্ট্রেশন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ডাক্তার আহসান হাবীব ঘোষণাপত্র পাঠ করে শোনান।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নদীগুলো হলো যশোরের জীবনরেখা। এই নদীগুলো মরে গেলে কৃষি, অর্থনীতি ও জনজীবন—সবকিছুই বিপন্ন হবে।
বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, “কেবল সরকারি উদ্যোগ নয়, নদীর প্রাণ ফেরাতে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। আমরা নদীকে ডাস্টবিন হিসেবে ব্যবহার করা বন্ধ না করলে এই ঐতিহ্য রক্ষা করা সম্ভব নয়।”
বক্তারা নদীতীরে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা অবিলম্বে উচ্ছেদ করার দাবি জানান। একইসঙ্গে, নদীর ড্রেজিং ও খনন কাজকে টেকসই করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা মত দেন যে, নদীকে বাঁচাতে এর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং নদী দূষণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করা আবশ্যক।
মানববন্ধনে বক্তাদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন জিল্লুর রহমান ডিটু, বীর মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ লিয়াকত আলী, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক গোপীকান্ত সরকার, অধ্যাপক ফিরোজা বুলবুল কলি, বাপার অন্যতম সদস্য শামসুন্নাহার পান্না, অ্যাডভোকেট আবুল কায়েশ, বাপা সদস্য উজ্জ্বল কুমার বালা, অধ্যাপক আবুল কাশেম, ও জনাব নাজমুল হাসান।
আয়োজক কমিটির সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জনাব শাহাজান নান্নু, ইঞ্জিনিয়ার সেলিম হোসাইন, রায়হান উদ্দিন রাসেল এবং কৃষক ও জেলে সহ বিভিন্ন অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ।
বিল হরিনা বাঁচাও আন্দোলন এবং ভাতুরিয়া আঞ্চলিক কমিটির সদস্যগণ এসময় ডেমোনেস্টেশন প্রদর্শন করেন। কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, খুলনার ব্যাগের সমন্বয়কারী ও যশোর জেলার কমিটির আহ্বায়ক খন্দকার আজিজুল হক মনি যশোরের সমস্ত নদী নিয়ে জ্বালাময়ী বক্তব্য প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানটির মধ্য দিয়ে যশোরের নদীগুলোর দুরবস্থা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে নতুন করে সচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়।







