স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশ-ভারত পৃথিবীর একমাত্র সীমান্ত, যেখানে মানুষ গুলি করে মারা হয়। আর দ্বিতীয় কোনও সীমান্তে এরকম নেই। আমি স্পষ্টভাবেই বলেছি, এটার কোনও সমাধান আমি আপাতত দেখছি না।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) বিকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপনডেন্ট অ্যাসসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি: পরিবর্তনশীল বিশ্বে প্রাসঙ্গিক ভূমিকা’ শীর্ষক ডিক্যাব টকে তিনি এসব কথা বলেন।
সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘‘এমনকি আমাদের কর্মকর্তারাও এক পর্যায়ে গিয়ে এটাকে জাস্টিফাই করার চেষ্টা করেছন। অন রেকর্ড করেছে, এটা পত্রপত্রিকাতেই আছে। অপরাধ হয়েছে বলে ইত্যাদি ইত্যাদি… অপরাধ হলে কোর্টে সোপর্দ হবে। কোর্ট তাকে শাস্তি দেবে। একজন বন্দুকধারীকে অভিযোগকারী, বিচারক আর হত্যাকারী— তিনটি পদে দিয়ে দিতে পারেন না। কিন্তু এটা হচ্ছে, আমরা নিন্দা করতে পারি। আপত্তি করতে পারি, করে যাচ্ছি। এর চেয়ে বেশি কিছু করার থাকলে আমাকে জানাবেন, আমি চেষ্টা করবো।’’
পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ইচ্ছাকৃতভাবে খারাপ করে রাখা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘কিছু সিদ্ধান্ত ছিল যার কারণে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক আগের তুলনায় অবনতি হয়েছিল। ২০০৯ সালের আগে পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের যেসব বিষয় ছিল, তাতে কোনও পরিবর্তন হয়নি পরবর্তী ১৫ বছরে। বলতে পারেন যে, ক্ষমা চায়নি, সম্পদ ভাগাভাগির ইস্যু আছে, এটা তো আগেও হয়নি, পরেও হয়নি। কিন্তু এই সময়টাতে ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করা হয়েছিল। আমাদের সিদ্ধান্ত ছিল— আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে একটা স্বাভাবিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করবো, অতিরিক্ত কোনও কিছু না।’’
তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘‘আমাদের আমদানি-রফতানির ক্ষেত্রে যদি বিকল্প একটি উৎস থাকে, সেটা তো মনে হয় আমাদের স্বার্থেই আসে। আমরা তো পাকিস্তান থেকে তুলা আনতে পারি, পেঁয়াজও এসেছে যখন ঘাটতি ছিল। এবার তো ঘাটতি নেই, কাজেই যখন সংকট থাকে, তখন একাধিক সোর্স থাকলে আমাদের জন্যই সুবিধা। সুতরাং, আমি মনে করি, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক যদি ভালো হয়ে থাকে, ভালো হয়েছে বলে আমি মনে করি। ইচ্ছাকৃতভাবে যেটুকু খারাপ করে রাখা হয়েছিল সেইটুকু, অসাধারণ কোনও সম্পর্ক না। সেটা আমাদের স্বার্থে গেছে বলেই আমার বিশ্বাস।’’
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘‘আমাদের চারপাশে প্রচুর ফরেন পলিসির পরিবর্তন হয়েছে, শুধু আমাদের না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পরিবর্তন করেছে, ভারতের ঠিক পরিবর্তন হয়নি, কিন্তু এক ধরনের একটা ধারবাহিকতা চলছে ভালোমন্দ মিলিয়ে। আমাদের পাশের একটা দেশ মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ চলছে। কাজেই সবমিলিয়ে আমাদের প্রতিনয়ত চারপাশের পরিবেশ পরিবর্তন হচ্ছে। চারপাশ বলতে শুধু কাছের প্রতিবেশীদের বলছি না, পুরো পৃথিবী একধরনের নেইবারহুড। সেই হিসাবে আমরা মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। আমাদের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ সবার সঙ্গেই হয়েছে। আমাদের প্রতিবেশীদের সঙ্গে সব বিষয়ে একমত হবো— এমন তো কথা না। পরিবর্তনটিকে আমাদের বৃহৎ প্রতিবেশীর একটু সময় বেশি লাগছে— তারা কী করবেন, সে নিয়ে উপলব্ধি আসতে। আমরা চাই, একটা ভালো কাজের সম্পর্ক, যেটা পারস্পারিক মর্যাদা ও স্বার্থের ভিত্তিতে হবে। আমরা এই অবস্থানে অটল আছি। আমরা আশা করছি, আমাদের প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক এভাবেই এগোবে। এছাড়া অন্যান্য অঞ্চল এবং মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খুব বড় কোনও পরিবর্তন হয়নি। একধরনের ধারবাহিকতা ,কিংবা যেসব ক্ষেত্রে সংশোধনের প্রয়োজন আমরা করার চেষ্টা করেছি।’’
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘‘নির্বাচনের তারিখ একটা আমরা জানি ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে। কাজেই দুই-আড়াই মাস সময় আছে। বড় কোনও পরিবর্তন এর মধ্যে আমরা প্রত্যাশা করছি না। আমরা আশা করছি, আমরা একটা ভিত্তি তৈরি করে দিয়ে যাচ্ছি, সেটার ওপরে হয়তো আগামী সরকার— যারা আসবেন, তাদের জন্য পলিসি নির্ধারণ সহজ হবে।’’
তিনি বলেন, ‘‘আমরা একটা অন্তর্বর্তী সরকার, যেটা ব্যাখ্যা অনুযায়ী অস্থায়ী। কাজেই বড় সিদ্ধান্ত যদি কিছু থাকে, সেটা পরবর্তী সরকারকেই নিতে হবে।’’




