স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
গুরুতর অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে পৈত্রিক সম্পত্তি জবরদখল এবং তাতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের একাংশের বিরুদ্ধে যোগসাজশের অভিযোগ তুলেছেন যশোর জেলার মণিরামপুরের প্রভাষ ঘোষ নামে এক সংখ্যালঘু ব্যক্তি। মঙ্গলবার প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী প্রশাসনের উচ্চ মহলসহ মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে ন্যায়বিচার চেয়েছেন।
স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত প্রভাষ ঘোষ সংবাদ সম্মেলনে লিখিতি বক্তব্যে জানান, তিনি মনিরামপুর উপজেলাধীন নেহালপুর মৌজার ৫ একর ১৫ শতক জমির বৈধ মালিক। এই সম্পত্তি নিয়ে সৃষ্ট বিরোধে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আদেশে ২০১৫ সালের ০৪ মার্চ মনিরামপুর থানা পুলিশ তাকে জমিতে দখল বুঝিয়ে দেয়।
প্রভাষ ঘোষ অভিযোগ করেন, চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে তিনি চিকিৎসার জন্য ভারতের কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন স্থানীয় প্রভাবশালী বিবাদীপক্ষ শফিকুল ইসলাম গং জাল কাগজপত্র তৈরি করে সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারা শুরু করে।
বিবাদীগণ তার বিরুদ্ধে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনটি মিথ্যা মামলা দায়ের করলেও সবকটি মামলা খারিজ হয়ে তার পক্ষেই রায় আসে। আদালতের আদেশ পাওয়ার পরও বিবাদীরা তাকে জনসম্মুখে হুমকি দেয় যে, “হিন্দুদের জমি ভোগ দখল করতে কোনো প্রকার কাগজপত্র লাগেনা।”
প্রভাষ ঘোষের দাবি, মণিরামপুর থানার ওসি বাবলুর রহমান এবং নেহালপুর ক্যাম্পের এসআই মিলন হোসেন মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে বিবাদীদের পক্ষ নিয়েছেন। তিনি থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে ওসি তাকে ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে কর্মরত তার ছেলেকে চাকরিচ্যুতির হুমকি দেন। এছাড়া নাশকতার মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখান।
সংবাদ সম্মেলনে প্রভাষ ঘোষ আরও জানান, তার অনুপস্থিতির সুযোগে বিবাদীরা জোরপূর্বক জমি থেকে ফসল, প্রায় ২০০ সুপারি গাছ, ১৩০টি নারিকেল গাছ থেকে ফল এবং পুকুর থেকে মাছ ধরে নিয়ে গেছে। শফিকুল ইসলাম গং যখন যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকে তখন সেই দলের পরিচয় ব্যবহার করে তাকে ভয়ভীতি দেখায় ও সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করে। তিনি ১৪৪/১৪৭ ধারায় আদালতে মামলা দায়ের করলেও ওসি বাবলুর রহমান কোনো ব্যবস্থা নেননি।
উল্লেখ্য, এই সম্পত্তির ওপর বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক থেকে প্রভাষ ঘোষ ঋণ নিয়েছেন।







