বাকেরগঞ্জে ১টি খেয়াঘাটের তিন লাখ টাকার অনিয়মের খোঁজ নিতে গিয়ে মিললো ৬ কোটির অভিযোগ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

নাছির আহমেদ বাকেরগঞ্জ:- বরিশালের বাকেরগঞ্জে ১টি খেয়াঘাটের তিন লাখ টাকার অনিয়মের খোঁজ নিতে গিয়ে প্রায় ৬ কোটি টাকা অনিয়মের অভিযোগ মিলেছে।

আর যার বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই জেলা পরিষদ সদস্যের দাবি অনিয়মের টাকার ভাগ তিনি একা ভোগ করেন না, জেলা পরিষদের সবাইকেই দিতে হয়।

বাকেরগঞ্জে নলুয়া ইউনিয়নে নির্মানাধীন খেয়াঘাটে পরিত্যাক্ত ভবনের নিম্ন মানের ইট ও রড ব্যবহারের অভিযোগ।

সরেজমিনে গিয়ে ডিবিসি নিউজের ক্যামেরায়ও তা ধরা পরে। জেলা পরিষদের সদস্য মাসুদ আলম জানালেন, টাকার ভাগ দিতে হয় টেবিলে টেবিলে, তাই ভালো নির্মাণ সামগ্রি ব্যবহারের সুযোগ নেই।

বরিশাল জেলা পরিষদের সদস্য মাসুদ আলম খান বলেন, “৩০% দিতে হয় জেলা পরিষদকে, এর পর ইঞ্জিনিয়ারিং টেবিল ও সাইটে যিনি পরিদর্শনে আসেন তাদের একটা বড় অংকের টাকা দিতে হয়।”

ঝোপঝাড় জঙ্গল আর অন্যের জমিতে ফলক টাঙিয়ে উন্নয়নের নামে ভুয়া বিল দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগও আছে মাসুদের বিরুদ্ধে।

২০১৭-১৮ অর্থ বছরে আলাদাভাবে বরাদ্দ নিয়ে একইস্থানে শিমুলতলা বাজার উন্নয়ন ও শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ প্রকল্প নামে ২ লাখ টাকা করে দুটি ফলক দেখা যায়।

উন্মক্ত একই এই জায়গায় দুটি ফলকের ব্যাখ্যা দিতে পারেননি মাসুদ।

তার ভাষ্য, এখানে হাটের পুরো যায়গাটা দরকার হবে না। বাকি যে জায়গাটা সেখানে শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ তৈরি হবে।

মাসুদের বাড়ির পাশেই দেখা যায় নলুয়া বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্রের ফলক। মাসুদ জানান জেলা পরিষদের ৭ লাখ টাকায় খেলার মাঠ করেছেন তিনি।

ঐ সংগঠনের নামে আসবাবপত্র কেনা বাবদ আরো ২ লাখ টাকাও নিয়েছেন।

ইউনিয়নের বেশিরভাগ স্কুলে যেখানে শহীদ মিনার নেই সেখানে জঙ্গল ঝোপঝাড়ের পাশে মাসুদ করেছেন শহীদ মিনার।

এলাকাবাসী বলছেন, তার বড় ভাই ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ফিরোজ আলম খানের পৃষ্ঠপোষকতায় মাসুদ অনিয়ম করে যাচ্ছেন। তবে ভাইয়ের পক্ষেই সাফাই গেয়েছেন চেয়ারম্যান ফিরোজ।

বাকেরগঞ্জ নলুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজ বলেন, “সে (মাসুদ) জেলা পরিষদের মেম্বার। সে কয়টা বরাদ্দে কি কাজ করেছে বা করেনি এটার সাথে আমার কোনো নমন্বয় নেই।”

এদকে, মাসুদ উন্নয়ন কাজ অব্যাহত রাখবেন জানিয়ে বলেন, “যখনি আমি কোথাও উন্নয়ন করতে যাই,

তখনি আমার পেছনে সবাই লেগে যায়। তারা যখন আসে তখন ৫০০/১০০০/২০০০/৫০০০ টাকা দিলে তারা সরে যায়।”

অভিযোগের বিষয়ে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী মানিক হার রহমানের কাছে জানতে চাইলে তেড়ে আসেন তিনি। কোনো কথাও বলেননি।

বরিশাল জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দন হায়দার এসব অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে শিগগিরই সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন জানিয়ে বলেন,

ধারাবাহিকভাবে এই প্রকল্পগুলো আমি পরিদর্শনে যাব। যেখানে কাজগুলো ঠিকমত সম্পন্ন হচ্ছে না, সেই কাজগুলো অবশ্যই সামনে নিয়ে আসবো।