ঝিকরগাছায় সিজারিয়ান অপারেশনের পর প্রসূতির মৃত্যু, ভুল চিকিৎসার অভিযোগ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া বাজারে অবস্থিত ‘বাঁকড়া মেডিকেল সার্ভিসেস’-এ ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার অভিযোগে এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তড়িঘরি করে সিজারিয়ান অপারেশন এবং চিকিৎসায় গাফিলতির কারণেই এ মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বজনরা।

নিহত সাবিকুন নাহার (৩২) উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়নের মাঠশিয়া উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মামুনের স্ত্রী। তিনি মাঠশিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

নিহতের স্বামী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বুধবার ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চিকিৎসক ডা. পল্লবী সাহার মাধ্যমে অপারেশনের বিষয়ে চুক্তি হয়। বৃহস্পতিবার সকালে সাবিকুন নাহার নিজ বাড়ি থেকে হেঁটে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেন। পরে ক্লিনিক থেকে ফোন করে দ্রুত রোগী নিয়ে আসতে বলা হয়।

পরিবারের সদস্যরা ক্লিনিকে পৌঁছে মালিককে না পেয়ে রোগীকে সেখানে রেখে দেন। এ সময় স্বামী নিচে চায়ের দোকানে গেলে তার অজান্তেই প্রসূতিকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে সিজারিয়ান অপারেশন করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অপারেশনের পর নবজাতক শিশুকে দেওয়ার মতো কাউকে না পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্বামীকে ফোন করে ডেকে এনে তার কোলে শিশুকে তুলে দেওয়া হয়। পরে জানানো হয়, রোগীর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং জরুরি ভিত্তিতে রক্ত প্রয়োজন। এক ব্যাগ রক্ত দেওয়ার পরও অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনায় রেফার করা হয়। সেখানে নেওয়ার পর সাবিকুন নাহারের মৃত্যু হয়।

পরিবারের দাবি, ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামিরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী ডেন্টিস্ট মোছা. নিলুফা ইয়াসমিন অপারেশন পরিচালনা করেন। পরে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়লে দায় এড়াতে রোগীকে খুলনায় পাঠানো হয় বলে অভিযোগ তাদের।

নিহতের চাচী শাশুড়ি নাসরিন বেগম অভিযোগ করেন, অপারেশন থিয়েটারের পরিবেশ ছিল অস্বাস্থ্যকর। “যেকোনো মানুষ আসা-যাওয়া করছিল। রোগীকে ওয়াশ করা হচ্ছিল এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। একজনকে ডাক্তার ভেবে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, তিনি ডাক্তার নন। পরে বলা হয় রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন, খুলনা মেডিকেলে নিতে হবে,”—বলেন তিনি।

খুলনায় নেওয়ার পর চিকিৎসকরা রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান। পরিবারের দাবি, রোগীর জরায়ুসহ ‘ফুল’ কেটে ফেলা হয়েছে এবং প্রায় ১৯–২০ ব্যাগ রক্ত দিতে হয়েছে।

নিহতের ননদ ফারজানা আক্তার রিমি বলেন, “আমি গিয়ে দেখি কোনো ডাক্তার নেই। অবহেলায় ভাবীকে ফেলে রাখা হয়েছে।”
আরেক ননদ শাহানারা অভিযোগ করেন, “ওখানে ডাক্তারও ছিল না, নার্সও ছিল না। নিজেদের গাফিলতির কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে। আমরা বিচার চাই।”

অনুসন্ধানে জানা যায়, বর্তমান ‘বাঁকড়া মেডিকেল সার্ভিসেস’-এর পূর্ব নাম ছিল ‘বাঁকড়া সার্জিক্যাল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’। পূর্বের একটি ঘটনার জেরে নাম পরিবর্তন করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।