কালীগঞ্জ(ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এক আসামিকে অমানবিক কায়দায় টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, পুলিশ সদস্যরা এক ব্যক্তির চুল ধরে ও শরীর টেনে থানার ভেতর দিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এই দৃশ্য প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা ও জনমনে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলার একটি রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে পুলিশ বাধার মুখে পড়ে এবং তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে দাবি করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সরকারি কাজে বাধা ও হামলার অভিযোগে আটজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। এই ঘটনায় এ পর্যন্ত চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। ভাইরাল হওয়া ভিডিওর ব্যক্তিটি এই মামলারই একজন আসামি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে পুলিশের ওপর হামলার দাবি অস্বীকার করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। তাদের মতে, পুলিশের ওপর হামলার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা ভিডিও চিত্র এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। উল্টো একজন মানুষকে যেভাবে চুল ধরে হেয়প্রতিপন্ন করে টেনে নেওয়া হয়েছে, তা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। তারা এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালা অনুযায়ী, যেকোনো আটক বা গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির সঙ্গে মানবিক আচরণ করা বাধ্যতামূলক। হেফাজতে থাকা অবস্থায় কোনো ব্যক্তির ওপর অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ বা অপমানজনক আচরণ আইনত দণ্ডনীয়। সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের অপেশাদার আচরণ পুলিশের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
ভাইরাল ভিডিওটি নিয়ে এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য বিরাজ করছে। এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
