Jashore , Monday, 26 October 2026
সর্বশেষ:
৩১ অক্টোবরের লংমার্চ সফল করতে যশোরে এনসিপির লিফলেট বিতরণ চার দিনের সরকারি সফরে জাপানের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৯ মাস পর খুলছে সেন্টমার্টিন: পর্যটকদের জন্য নতুন নিয়ম ও শত টাকা ফি নির্ধারণ যশোরে অনুমতি ছাড়াই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাছের ডাল কেটে বিক্রির অভিযোগ বেনাপোল সীমান্তে বিজিবির অভিযানে মাদক ও ভারতীয় মালামাল আটক দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ন্যানো-ইউরিয়ার পেটেন্ট পেলেন যবিপ্রবির গবেষক ড. জাভেদ যশোরে কলিমুদ্দিন সরদার ট্রাস্টের উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাক্যাম্প অনুষ্ঠিত যশোরে মাদ্রাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে জমজ শিশুদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ টানা আট দিনের ছুটি শেষে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরে পুরোদমে আমদানি-রপ্তানি শুরু জাতিসংঘের অর্থবহ সংস্কারে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

কালীগঞ্জে আসামিকে টেনে-হিঁচড়ে নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল

কালীগঞ্জ(ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এক আসামিকে অমানবিক কায়দায় টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, পুলিশ সদস্যরা এক ব্যক্তির চুল ধরে ও শরীর টেনে থানার ভেতর দিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এই দৃশ্য প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা ও জনমনে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলার একটি রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে পুলিশ বাধার মুখে পড়ে এবং তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে দাবি করা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সরকারি কাজে বাধা ও হামলার অভিযোগে আটজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। এই ঘটনায় এ পর্যন্ত চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। ভাইরাল হওয়া ভিডিওর ব্যক্তিটি এই মামলারই একজন আসামি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে পুলিশের ওপর হামলার দাবি অস্বীকার করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। তাদের মতে, পুলিশের ওপর হামলার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা ভিডিও চিত্র এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। উল্টো একজন মানুষকে যেভাবে চুল ধরে হেয়প্রতিপন্ন করে টেনে নেওয়া হয়েছে, তা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। তারা এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালা অনুযায়ী, যেকোনো আটক বা গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির সঙ্গে মানবিক আচরণ করা বাধ্যতামূলক। হেফাজতে থাকা অবস্থায় কোনো ব্যক্তির ওপর অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ বা অপমানজনক আচরণ আইনত দণ্ডনীয়। সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের অপেশাদার আচরণ পুলিশের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

ভাইরাল ভিডিওটি নিয়ে এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য বিরাজ করছে। এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 08:21 pm, Sunday, 1 March 2026
119 Time View

কালীগঞ্জে আসামিকে টেনে-হিঁচড়ে নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল

Update Time : 08:21 pm, Sunday, 1 March 2026

কালীগঞ্জ(ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এক আসামিকে অমানবিক কায়দায় টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, পুলিশ সদস্যরা এক ব্যক্তির চুল ধরে ও শরীর টেনে থানার ভেতর দিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এই দৃশ্য প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা ও জনমনে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলার একটি রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে পুলিশ বাধার মুখে পড়ে এবং তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে দাবি করা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সরকারি কাজে বাধা ও হামলার অভিযোগে আটজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। এই ঘটনায় এ পর্যন্ত চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। ভাইরাল হওয়া ভিডিওর ব্যক্তিটি এই মামলারই একজন আসামি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে পুলিশের ওপর হামলার দাবি অস্বীকার করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। তাদের মতে, পুলিশের ওপর হামলার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা ভিডিও চিত্র এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। উল্টো একজন মানুষকে যেভাবে চুল ধরে হেয়প্রতিপন্ন করে টেনে নেওয়া হয়েছে, তা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। তারা এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালা অনুযায়ী, যেকোনো আটক বা গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির সঙ্গে মানবিক আচরণ করা বাধ্যতামূলক। হেফাজতে থাকা অবস্থায় কোনো ব্যক্তির ওপর অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ বা অপমানজনক আচরণ আইনত দণ্ডনীয়। সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের অপেশাদার আচরণ পুলিশের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

ভাইরাল ভিডিওটি নিয়ে এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য বিরাজ করছে। এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।