স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
যশোর শহরে প্রতারণার অভিযোগে চিহ্নিত মাহমুদা নামে এক নারীকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন স্থানীয় জনতা। শনিবার দুপুর ১টার দিকে শহরের বড়বাজারের এইচ.এম.এম রোড এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে কোতোয়ালি থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, মাহমুদা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কৌশলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিলেন। বিশেষ করে ইন্স্যুরেন্সের নামে টাকা নেওয়া, চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া এবং নানা সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তিনি বহু মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
শনিবার কয়েকজন ভুক্তভোগী তাকে এলাকায় দেখতে পেয়ে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে অন্য ভুক্তভোগীরাও ঘটনাস্থলে এসে জড়ো হন। এ সময় মাহমুদার ছেলে মাহিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ভুক্তভোগীদের ক্ষোভের মুখে পড়ে তারা। একপর্যায়ে উত্তেজিত কয়েকজন মাহমুদাকে মারধরও করেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের দাবি, মাহমুদা এলাকায় ‘মামলাবাজ’ হিসেবেও পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়ে উল্টো তাদের বিরুদ্ধেই মামলা করে হয়রানি করতেন।
এছাড়া জানা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি যশোর-৪ আসনের মনোনয়নপত্রও কিনেছিলেন। ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও এলাকায় নানা আলোচনা রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি আলোচিত মহুয়া ক্লিনিকের মালিক খলিলের স্ত্রী ছিলেন এবং তার একাধিক বিয়ের খবরও রয়েছে।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) কাজী বাবুল জানান, মাহমুদাকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
