স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
যশোরে এক গ্রাম ডাক্তারের ভুল চিকিৎসার অভিযোগে ৮ বছর বয়সী শিশু জুনায়েদ হোসেন পরশ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোতয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন শিশুটির পিতা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ এপ্রিল রাত আনুমানিক ৮টার দিকে পেটে ব্যথা অনুভব করলে পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে যশোর শহরের কাঠালতলা ঢাকা রোড এলাকার ‘নোমান মেডিকেল হল’-এ নিয়ে যান। সেখানে প্রতিষ্ঠানের মালিক আহসান হাবিব নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে শিশুটিকে দুটি ওষুধ দেন এবং একটি তাৎক্ষণিক সেবনের পরামর্শ দেন।
অভিযোগে বলা হয়, ওষুধ সেবনের ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যেই শিশুটির বমি শুরু হয় এবং শরীরজুড়ে ফোসকা ও অস্বাভাবিক ফোলা দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে পুনরায় ওই ফার্মেসিতে নেওয়া হলে আরও দুটি ওষুধ দেওয়া হয় এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়।
কিন্তু সারারাতেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরদিন সকালে শিশুটিকে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিকভাবে জানান, ভুল চিকিৎসার কারণেই শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়েছে। পরবর্তীতে ১৩ এপ্রিল সকালে পুনরায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।
শিশুটির পিতা জাহিদ হাসান ইমন অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত আহসান হাবিবের অজ্ঞতা ও গাফিলতির কারণে তার ছেলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এ ঘটনায় তিনি কোতয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার সন্তানের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আহসান হাবিব বলেন, “শিশুটির মা পেটে ব্যথার কারণে তাকে আমার কাছে নিয়ে আসেন। আমি চিকিৎসা দিয়েছি, তবে কেন এমন প্রতিক্রিয়া হয়েছে তা বুঝতে পারছি না।”
এদিকে স্থানীয়রা জানান, এর আগেও তার চিকিৎসায় এক নারীর মৃত্যুর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তিনি নিজেকে প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ দাবি করে বিভিন্ন সময় প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আগে অবগত ছিলাম না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
