Jashore , Thursday, 22 October 2026
সর্বশেষ:

সাবেক ওসিসহ ৪ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
চাঁদাবাজি, মারপিট ও লুটপাটের অভিযোগে যশোরের চৌগাছা থানার সাবেক ওসিসহ চার পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) চৌগাছা উপজেলার মাকাপুর গ্রামের মৃত হায়দার আলীর মেয়ে তামান্না নাজনীন লাভলী বাদী হয়ে এ মামলা করেন।

মামলাটি গ্রহণ করে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রিয়াজ অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তার মাধ্যমে পিবিআই-এর পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী তাহমিদ আকাশ।

মামলার আসামিরা হলেন—তৎকালীন চৌগাছা থানার ওসি ও বর্তমানে ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার ওসি আনোয়ার হোসেন, তৎকালীন চৌগাছা থানার এসআই ও বর্তমানে ঝিকরগাছা থানায় কর্মরত মেহেদী হাসান মারুফ, এসআই হোসেন পাটোয়ারী এবং এএসআই আব্দুর রহমান শান্ত।

মামলার অভিযোগে জানা যায়, মাকাপুর গ্রামের হায়দার আলী তার ওয়ারিশদের মধ্যে প্রায় ৪০ বিঘা সম্পত্তি বণ্টন করে যান। ওই সম্পত্তির একটি অংশ বাদী লাভলীর নামে থাকলেও তা জোরপূর্বক দখল করেন তার মেজ ভাই ব্যারিস্টার একেএম মোর্তজা। এ নিয়ে পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে মোর্তজা থানার তৎকালীন ওসি আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগসাজশে লাভলী ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার পরিকল্পনা করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল লাভলীকে থানায় ডেকে নিয়ে ওসি আনোয়ার হোসেন তাকে ও তার স্বজনদের মামলা দিয়ে জেলে পাঠানোর ভয় দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরে ওই দিন রাতেই ওসি তার দুই সহযোগীকে নিয়ে মাকাপুর মুকুট ঢালির পার্কের সামনে গিয়ে লাভলীর কাছ থেকে ২ লাখ টাকা গ্রহণ করেন এবং বাকি টাকা এক সপ্তাহের মধ্যে দিতে বলেন।

পরবর্তীতে চাঁদার বাকি টাকা না দেওয়ায় গত ৬ মে আসামিরা ওই এলাকায় গিয়ে লাভলীকে খুঁজতে থাকে। এ সময় তার ভাগ্নে সিয়ামকে পেয়ে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই দিন সন্ধ্যায় আসামিরা লাভলীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং ৪০ বস্তা সিদ্ধধান লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় তাদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ না করে বাদীকে থানা থেকে বের করে দেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি অনুকূলে আসায় তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 05:23 pm, Thursday, 16 April 2026
75 Time View

সাবেক ওসিসহ ৪ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা

Update Time : 05:23 pm, Thursday, 16 April 2026

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
চাঁদাবাজি, মারপিট ও লুটপাটের অভিযোগে যশোরের চৌগাছা থানার সাবেক ওসিসহ চার পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) চৌগাছা উপজেলার মাকাপুর গ্রামের মৃত হায়দার আলীর মেয়ে তামান্না নাজনীন লাভলী বাদী হয়ে এ মামলা করেন।

মামলাটি গ্রহণ করে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রিয়াজ অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তার মাধ্যমে পিবিআই-এর পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী তাহমিদ আকাশ।

মামলার আসামিরা হলেন—তৎকালীন চৌগাছা থানার ওসি ও বর্তমানে ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার ওসি আনোয়ার হোসেন, তৎকালীন চৌগাছা থানার এসআই ও বর্তমানে ঝিকরগাছা থানায় কর্মরত মেহেদী হাসান মারুফ, এসআই হোসেন পাটোয়ারী এবং এএসআই আব্দুর রহমান শান্ত।

মামলার অভিযোগে জানা যায়, মাকাপুর গ্রামের হায়দার আলী তার ওয়ারিশদের মধ্যে প্রায় ৪০ বিঘা সম্পত্তি বণ্টন করে যান। ওই সম্পত্তির একটি অংশ বাদী লাভলীর নামে থাকলেও তা জোরপূর্বক দখল করেন তার মেজ ভাই ব্যারিস্টার একেএম মোর্তজা। এ নিয়ে পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে মোর্তজা থানার তৎকালীন ওসি আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগসাজশে লাভলী ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার পরিকল্পনা করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল লাভলীকে থানায় ডেকে নিয়ে ওসি আনোয়ার হোসেন তাকে ও তার স্বজনদের মামলা দিয়ে জেলে পাঠানোর ভয় দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরে ওই দিন রাতেই ওসি তার দুই সহযোগীকে নিয়ে মাকাপুর মুকুট ঢালির পার্কের সামনে গিয়ে লাভলীর কাছ থেকে ২ লাখ টাকা গ্রহণ করেন এবং বাকি টাকা এক সপ্তাহের মধ্যে দিতে বলেন।

পরবর্তীতে চাঁদার বাকি টাকা না দেওয়ায় গত ৬ মে আসামিরা ওই এলাকায় গিয়ে লাভলীকে খুঁজতে থাকে। এ সময় তার ভাগ্নে সিয়ামকে পেয়ে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই দিন সন্ধ্যায় আসামিরা লাভলীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং ৪০ বস্তা সিদ্ধধান লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় তাদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ না করে বাদীকে থানা থেকে বের করে দেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি অনুকূলে আসায় তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।