Jashore , Thursday, 22 October 2026
সর্বশেষ:

সংকট উত্তরণে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জামায়াত আমিরের

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক

লুকোচুরি নয়, জাতীয় সংকট উত্তরণে সব রাজনৈতিক দল মিলে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, সরকারের দাবি, জ্বালানি সংকট নেই অথচ দেশের মানুষ ভোগান্তিতে বিপর্যস্ত। বিদ্যুৎ সংকটও তীব্র আকার ধারণ করেছে; যা সরকারের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও প্রতারণামূলক।

তিনি আরও বলেন, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে দেশের মানুষের নাভিশ্বাস অবস্থা। জ্বালানি সংকট ও চাঁদাবাজির ফলে এ অবস্থা দাঁড়িয়েছে।

ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা নষ্ট করা হয়েছে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ৭০ ভাগ গণভোটের রায় অগ্রাহ্য করে জনগণকে অপমান করা হয়েছে। বিচার বিভাগকে স্বাধীনভাবে চলতে না দিয়ে আবারও পুরোনো পথে হাঁটছে সরকার।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি নিরপেক্ষ বডি গঠনের জন্য অধ্যাদেশ জারি করা হলেও তা ঠেকিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে দলীয় প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। দলীয় ভিত্তিতে বিচারক নিয়োগের ফলে বিচারপতি খায়রুল হক, বিচারপতি শামসুদ্দিন মানিক এবং শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদ বিচারপতি এনায়েতুর রহিমের মতো ব্যক্তিত্ব তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এ ধরনের নিয়োগের কুফল দেশবাসী ভোগ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) গঠনের অধ্যাদেশও ঠেকিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, অতীতের ফ্যাসিবাদের চেয়ে আগামীর ফ্যাসিবাদ আরও ভয়াবহ হবে।

জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় সংসদ ও সংসদের বাইরে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করা উচিত ছিল। কিন্তু সে ধরনের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। বরং বলা হচ্ছে দেশে তেলের কোনও সংকট নেই, কিছু লোক তেল মজুত করে চোরাই পথে বিক্রি করছে।

পরস্পরবিরোধী বক্তব্যকে সরকারের ব্যর্থতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে ভুক্তভোগী মানুষের কষ্ট আরও বাড়ছে। জামায়াত আমির প্রশ্ন রাখেন, জনগণ কি জানে না কোথা থেকে তেলের ড্রাম উদ্ধার হচ্ছে? জ্বালানি সংকট না থাকলে প্রতি দিন ৬ থেকে ১০ ঘণ্টা লোডশেডিং কেন হচ্ছে?

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার ভুলের মধ্যে রয়েছে এবং তাদের উচিত সেই ভুল থেকে বেরিয়ে আসা। একইসঙ্গে সরকারকে গণভোটের ফলাফল মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান জামায়াত আমির।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 03:50 pm, Friday, 17 April 2026
61 Time View

সংকট উত্তরণে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জামায়াত আমিরের

Update Time : 03:50 pm, Friday, 17 April 2026

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক

লুকোচুরি নয়, জাতীয় সংকট উত্তরণে সব রাজনৈতিক দল মিলে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, সরকারের দাবি, জ্বালানি সংকট নেই অথচ দেশের মানুষ ভোগান্তিতে বিপর্যস্ত। বিদ্যুৎ সংকটও তীব্র আকার ধারণ করেছে; যা সরকারের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও প্রতারণামূলক।

তিনি আরও বলেন, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে দেশের মানুষের নাভিশ্বাস অবস্থা। জ্বালানি সংকট ও চাঁদাবাজির ফলে এ অবস্থা দাঁড়িয়েছে।

ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা নষ্ট করা হয়েছে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ৭০ ভাগ গণভোটের রায় অগ্রাহ্য করে জনগণকে অপমান করা হয়েছে। বিচার বিভাগকে স্বাধীনভাবে চলতে না দিয়ে আবারও পুরোনো পথে হাঁটছে সরকার।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি নিরপেক্ষ বডি গঠনের জন্য অধ্যাদেশ জারি করা হলেও তা ঠেকিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে দলীয় প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। দলীয় ভিত্তিতে বিচারক নিয়োগের ফলে বিচারপতি খায়রুল হক, বিচারপতি শামসুদ্দিন মানিক এবং শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদ বিচারপতি এনায়েতুর রহিমের মতো ব্যক্তিত্ব তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এ ধরনের নিয়োগের কুফল দেশবাসী ভোগ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) গঠনের অধ্যাদেশও ঠেকিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, অতীতের ফ্যাসিবাদের চেয়ে আগামীর ফ্যাসিবাদ আরও ভয়াবহ হবে।

জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় সংসদ ও সংসদের বাইরে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করা উচিত ছিল। কিন্তু সে ধরনের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। বরং বলা হচ্ছে দেশে তেলের কোনও সংকট নেই, কিছু লোক তেল মজুত করে চোরাই পথে বিক্রি করছে।

পরস্পরবিরোধী বক্তব্যকে সরকারের ব্যর্থতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে ভুক্তভোগী মানুষের কষ্ট আরও বাড়ছে। জামায়াত আমির প্রশ্ন রাখেন, জনগণ কি জানে না কোথা থেকে তেলের ড্রাম উদ্ধার হচ্ছে? জ্বালানি সংকট না থাকলে প্রতি দিন ৬ থেকে ১০ ঘণ্টা লোডশেডিং কেন হচ্ছে?

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার ভুলের মধ্যে রয়েছে এবং তাদের উচিত সেই ভুল থেকে বেরিয়ে আসা। একইসঙ্গে সরকারকে গণভোটের ফলাফল মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান জামায়াত আমির।