Jashore , Thursday, 22 October 2026
সর্বশেষ:

ষড়যন্ত্র করে উন্নয়ন থামানো যাবে না: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

যশোরে জনসভায় হুশিয়ারি; ফ্যাসিবাদীদের দোসরদের সাথে বৈঠকের কঠোর সমালোচনা

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষের ম্যান্ডেট নিয়ে বিএনপি যখন দেশ গড়ার কাজে ব্যস্ত, তখন একটি গোষ্ঠী পর্দার আড়ালে ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে। তিনি বলেন, কিছু মানুষ আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনা বানচালের চেষ্টা করছে। যারা নির্বাচনের সময় বায়বীয় টিকিট বিক্রি করেছিল। তারা আজ ঢাকা থেকে দূরে গিয়ে ফ্যাসিবাদের দোসরদের সাথে গোপন বৈঠক করছে। কিন্তু ষড়যন্ত্র করে লাভ নেই, দেশের মানুষ তাদের ঘিরে ফেলেছে।

সোমবার বিকেলে যশোরের ঐতিহাসিক ঈদগাহ ময়দানে এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ষড়যন্ত্রকারীদের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একদল লোক বলছে বিএনপি নাকি স্বৈরাচার হয়ে গেছে। অথচ এরাই পর্দার আড়ালে ফ্যাসিবাদের দোসরদের সাথে মিটিং করে। যারা স্বৈরাচারকে ক্ষমা করে দেওয়ার কথা বলে, তাদের কাছে উন্নয়নের চেয়ে ষড়যন্ত্রই বড়। যারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তারা স্বাধীনতার সময় এবং ২০০৮ সালেও একই চেষ্টা করেছিল। তাদের বলবো অপেক্ষা করুন, জনগণ ম্যান্ডেট দিলে কাজ করবেন। এখন দেশ গড়ার কাজে বাধা দেবেন না।

৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী ‘জুলাই সনদ’ প্রসঙ্গে তারেক রহমান দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি লাইন বিএনপি সংসদে পাস করবে। ১৭ বছর ধরে বিএনপি নেতাকর্মীরা নির্যাতিত হয়েছে। শুধু যশোরেই ৬৮ জন শহীদ হয়েছেন, সারাদেশে কয়েক লাখ মানুষ নির্যাতনের শিকার। তাদের এই ত্যাগ বিফলে যেতে দেব না।

ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই বিএনপি জনসেবা চালিয়ে যাবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, মেয়েদের শিক্ষা স্নাতক পর্যন্ত অবৈতনিক করা হবে এবং মা-বোনদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘এলপিজি কার্ড’ প্রদান করা হবে। সারাদেশে ২০ হাজার খাল খনন করা হবে। এর ফলে সেচ সুবিধা বাড়বে এবং জলাবদ্ধতা দূর হবে। ১২ লক্ষ কৃষকের কৃষিঋণ সুদসহ মওকুবের কাজ শুরু হয়েছে। বন্ধ কলকারখানা চালু করে বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এবং জনশক্তি রপ্তানি জোরদার করা হবে।

জনসভার আগে প্রধানমন্ত্রী সকালে ঐতিহাসিক ‘উলশি জিয়া খাল’ খনন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এছাড়াও তিনি ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং যশোর ইনস্টিটিউটের পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন করেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্য শেষ করেন এক বলিষ্ঠ প্রত্যয় দিয়ে আমরা কোনো টিকিট বিক্রি করতে চাই না; আমাদের প্রতিশ্রুতি একটিই—করবো কাজ, গড়বো দেশ।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 06:31 pm, Monday, 27 April 2026
111 Time View

ষড়যন্ত্র করে উন্নয়ন থামানো যাবে না: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Update Time : 06:31 pm, Monday, 27 April 2026

যশোরে জনসভায় হুশিয়ারি; ফ্যাসিবাদীদের দোসরদের সাথে বৈঠকের কঠোর সমালোচনা

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষের ম্যান্ডেট নিয়ে বিএনপি যখন দেশ গড়ার কাজে ব্যস্ত, তখন একটি গোষ্ঠী পর্দার আড়ালে ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে। তিনি বলেন, কিছু মানুষ আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনা বানচালের চেষ্টা করছে। যারা নির্বাচনের সময় বায়বীয় টিকিট বিক্রি করেছিল। তারা আজ ঢাকা থেকে দূরে গিয়ে ফ্যাসিবাদের দোসরদের সাথে গোপন বৈঠক করছে। কিন্তু ষড়যন্ত্র করে লাভ নেই, দেশের মানুষ তাদের ঘিরে ফেলেছে।

সোমবার বিকেলে যশোরের ঐতিহাসিক ঈদগাহ ময়দানে এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ষড়যন্ত্রকারীদের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একদল লোক বলছে বিএনপি নাকি স্বৈরাচার হয়ে গেছে। অথচ এরাই পর্দার আড়ালে ফ্যাসিবাদের দোসরদের সাথে মিটিং করে। যারা স্বৈরাচারকে ক্ষমা করে দেওয়ার কথা বলে, তাদের কাছে উন্নয়নের চেয়ে ষড়যন্ত্রই বড়। যারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তারা স্বাধীনতার সময় এবং ২০০৮ সালেও একই চেষ্টা করেছিল। তাদের বলবো অপেক্ষা করুন, জনগণ ম্যান্ডেট দিলে কাজ করবেন। এখন দেশ গড়ার কাজে বাধা দেবেন না।

৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী ‘জুলাই সনদ’ প্রসঙ্গে তারেক রহমান দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি লাইন বিএনপি সংসদে পাস করবে। ১৭ বছর ধরে বিএনপি নেতাকর্মীরা নির্যাতিত হয়েছে। শুধু যশোরেই ৬৮ জন শহীদ হয়েছেন, সারাদেশে কয়েক লাখ মানুষ নির্যাতনের শিকার। তাদের এই ত্যাগ বিফলে যেতে দেব না।

ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই বিএনপি জনসেবা চালিয়ে যাবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, মেয়েদের শিক্ষা স্নাতক পর্যন্ত অবৈতনিক করা হবে এবং মা-বোনদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘এলপিজি কার্ড’ প্রদান করা হবে। সারাদেশে ২০ হাজার খাল খনন করা হবে। এর ফলে সেচ সুবিধা বাড়বে এবং জলাবদ্ধতা দূর হবে। ১২ লক্ষ কৃষকের কৃষিঋণ সুদসহ মওকুবের কাজ শুরু হয়েছে। বন্ধ কলকারখানা চালু করে বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এবং জনশক্তি রপ্তানি জোরদার করা হবে।

জনসভার আগে প্রধানমন্ত্রী সকালে ঐতিহাসিক ‘উলশি জিয়া খাল’ খনন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এছাড়াও তিনি ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং যশোর ইনস্টিটিউটের পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন করেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্য শেষ করেন এক বলিষ্ঠ প্রত্যয় দিয়ে আমরা কোনো টিকিট বিক্রি করতে চাই না; আমাদের প্রতিশ্রুতি একটিই—করবো কাজ, গড়বো দেশ।