Jashore , Thursday, 22 October 2026
সর্বশেষ:

জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান ৩০ এপ্রিলের পর, সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক

জুয়া, অনলাইন জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে আগামী ৩০ এপ্রিলের পর সারাদেশে সমন্বিত অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২২তম দিনে সোমবার (২৭ এপ্রিল) সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের ৭১ বিধিতে দেওয়া নোটিশের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

রাজধানীর অভিজাত এলাকায় আবাসিক ভবন রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফের আড়ালে গড়ে ওঠা অবৈধ সিসা লাউঞ্জ বন্ধের বিষয়ে নোটিশ দেন জয়নাল আবদিন ফারুক।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ সংশোধিত ২০২০-এ সিসা ‘খ’ শ্রেণির মাদকদ্রব্য হিসেবে তফসিলভুক্ত। বর্তমান সরকার মাদককে জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে নির্বাচনি ইশতেহারে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অবৈধ ব্যবসা চালুর রাখার লক্ষে সিসা লাউঞ্জ মালিকরা রাষ্ট্রপক্ষের বিরুদ্ধে পাঁচটি রিট মামলা করেছে। এসব রিটের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের আপিলের প্রেক্ষিতে মহামান্য আপিল বিভাগ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ ভ্যাকেট করে দিয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০১৬ সালের ৮ এপ্রিল একটি স্বারকে অনুমোদনবিহীন সিসা লাউঞ্জ নামক মাদক স্পট বন্ধের নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া কথা জানিয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর গত ১৬ এপ্রিল রাতে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় অবৈধ সিসা বার ‘দ্য কোর্টইয়ার্ড বাজার লাউঞ্জে’ অভিযান চালিয়ে আনুমানিক পাঁচ কেজি সিসা এবং ৩৫টি হুক্কা জব্দ করেছে। ‘সিসা লাউঞ্জ রেস্টুরেন্ট’ নামেও একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে চার কেজি সিসা ও আটটি হুক্কা জব্দ করেছে। অবৈধ সিসা লাউঞ্জগুলো যাতে নাম ও ঠিকানা পরিবর্তন করে পুনরায় কার্যক্রম শুরু করতে না পারে সে লক্ষে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত রয়েছে।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে রিটকারীদের বিপক্ষে সর্বদা আইন পরিচালনা করার পাশাপাশি সিসা বারগুলোয় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রেখেছে মাদক নিয়ন্ত্রণ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক ভবন রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফের আড়ালে অবৈধ সিসা লাউন্স পরিচালনার বিষয়টি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নজরেও এসেছে। এ ধরনের কার্যক্রম জনস্বাস্থ্য, নগর শৃঙ্খলা ও আইন শৃঙ্খলার জন্য ক্ষতিকর এবং কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

মন্ত্রী বলেন, “ঠিকানা পরিবর্তন করে অথবা কোনও আবাসিক বাসস্থানের আড়ালে অবৈধ সিসা লাউঞ্জ যাতে পরিচালিত না হয় সেই লক্ষে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত আছে। আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনে অবৈধ সিসা লাউঞ্জ স্থাপন করে যাতে কেউ ব্যবসা করতে না পারে সে বিষয়ে বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে ভবন মালিকদেরকে সচেতন করা হচ্ছে। কোনও পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এই ব্যবসায় মদদ দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া মাত্রই তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারে জুয়া, অনলাইন জুয়া এবং মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৩০ এপ্রিলের পরে আমরা সারাদেশে একটি সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করবো। এদেশের যুব সমাজকে রক্ষা করার জন্য এর কোনও বিকল্প নাই।”

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 07:08 pm, Monday, 27 April 2026
119 Time View

জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান ৩০ এপ্রিলের পর, সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Update Time : 07:08 pm, Monday, 27 April 2026

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক

জুয়া, অনলাইন জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে আগামী ৩০ এপ্রিলের পর সারাদেশে সমন্বিত অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২২তম দিনে সোমবার (২৭ এপ্রিল) সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের ৭১ বিধিতে দেওয়া নোটিশের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

রাজধানীর অভিজাত এলাকায় আবাসিক ভবন রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফের আড়ালে গড়ে ওঠা অবৈধ সিসা লাউঞ্জ বন্ধের বিষয়ে নোটিশ দেন জয়নাল আবদিন ফারুক।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ সংশোধিত ২০২০-এ সিসা ‘খ’ শ্রেণির মাদকদ্রব্য হিসেবে তফসিলভুক্ত। বর্তমান সরকার মাদককে জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে নির্বাচনি ইশতেহারে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অবৈধ ব্যবসা চালুর রাখার লক্ষে সিসা লাউঞ্জ মালিকরা রাষ্ট্রপক্ষের বিরুদ্ধে পাঁচটি রিট মামলা করেছে। এসব রিটের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের আপিলের প্রেক্ষিতে মহামান্য আপিল বিভাগ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ ভ্যাকেট করে দিয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০১৬ সালের ৮ এপ্রিল একটি স্বারকে অনুমোদনবিহীন সিসা লাউঞ্জ নামক মাদক স্পট বন্ধের নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া কথা জানিয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর গত ১৬ এপ্রিল রাতে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় অবৈধ সিসা বার ‘দ্য কোর্টইয়ার্ড বাজার লাউঞ্জে’ অভিযান চালিয়ে আনুমানিক পাঁচ কেজি সিসা এবং ৩৫টি হুক্কা জব্দ করেছে। ‘সিসা লাউঞ্জ রেস্টুরেন্ট’ নামেও একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে চার কেজি সিসা ও আটটি হুক্কা জব্দ করেছে। অবৈধ সিসা লাউঞ্জগুলো যাতে নাম ও ঠিকানা পরিবর্তন করে পুনরায় কার্যক্রম শুরু করতে না পারে সে লক্ষে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত রয়েছে।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে রিটকারীদের বিপক্ষে সর্বদা আইন পরিচালনা করার পাশাপাশি সিসা বারগুলোয় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রেখেছে মাদক নিয়ন্ত্রণ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক ভবন রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফের আড়ালে অবৈধ সিসা লাউন্স পরিচালনার বিষয়টি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নজরেও এসেছে। এ ধরনের কার্যক্রম জনস্বাস্থ্য, নগর শৃঙ্খলা ও আইন শৃঙ্খলার জন্য ক্ষতিকর এবং কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

মন্ত্রী বলেন, “ঠিকানা পরিবর্তন করে অথবা কোনও আবাসিক বাসস্থানের আড়ালে অবৈধ সিসা লাউঞ্জ যাতে পরিচালিত না হয় সেই লক্ষে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত আছে। আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনে অবৈধ সিসা লাউঞ্জ স্থাপন করে যাতে কেউ ব্যবসা করতে না পারে সে বিষয়ে বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে ভবন মালিকদেরকে সচেতন করা হচ্ছে। কোনও পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এই ব্যবসায় মদদ দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া মাত্রই তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারে জুয়া, অনলাইন জুয়া এবং মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৩০ এপ্রিলের পরে আমরা সারাদেশে একটি সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করবো। এদেশের যুব সমাজকে রক্ষা করার জন্য এর কোনও বিকল্প নাই।”