Jashore , Thursday, 22 October 2026
সর্বশেষ:

মণিরামপুরে ইমামুল হত্যা মামলার দুই আসামি র‍্যাবের হাতে আটক

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার শরমপুর গ্রামে নাতনিকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় রাজমিস্ত্রি ইমামুল হোসেন হত্যা মামলার দুই আসামিকে আটক করেছে র‍্যাব-৬, যশোর। বুধবার দিবাগত রাত ১২টার পর যশোর সদর উপজেলার কিসমত নওয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

আটকরা হলেন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ঝিকরগাছা উপজেলার ফারাসতপুর গ্রামের রাব্বি ও রাকিব। নিহত ইমামুল হোসেন একই গ্রামের মৃত রহিম সরদারের ছেলে।

র‍্যাব-৬ যশোর সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে, মামলার দুই আসামি ঢাকায় আত্মগোপনে থাকার পর সায়রা পরিবহনের একটি বাসযোগে যশোরে ফিরছেন। এমন তথ্যের ভিত্তিতে যশোর সদর উপজেলার কিসমত নওয়াপাড়া এলাকার রজনীগন্ধা তেলের পাম সংলগ্ন স্থানে একটি বিশেষ চেকপোস্ট বসানো হয়।

র‍্যাব-৬ যশোর কোম্পানি কমান্ডার মেজর ফজলে রাব্বি প্রিন্স জানান, রাতের অভিযানে বাসটি তল্লাশি করে দুই আসামিকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৯ জুন রাত ৯টার দিকে মণিরামপুর উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নের শরমপুর গ্রামে ইমামুল হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, তার নাতনিকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জের ধরেই তার ওপর হামলা চালানো হয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় ইমামুল হোসেনকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মণিরামপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই মামলার আসামিরা আত্মগোপনে চলে যান। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও গোয়েন্দা তৎপরতার পর র‍্যাব তাদের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে আটক করতে সক্ষম হয়।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের সদস্যরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

র‍্যাব ও পুলিশ জানিয়েছে, মামলার পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 06:58 pm, Thursday, 11 June 2026
64 Time View

মণিরামপুরে ইমামুল হত্যা মামলার দুই আসামি র‍্যাবের হাতে আটক

Update Time : 06:58 pm, Thursday, 11 June 2026

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার শরমপুর গ্রামে নাতনিকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় রাজমিস্ত্রি ইমামুল হোসেন হত্যা মামলার দুই আসামিকে আটক করেছে র‍্যাব-৬, যশোর। বুধবার দিবাগত রাত ১২টার পর যশোর সদর উপজেলার কিসমত নওয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

আটকরা হলেন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ঝিকরগাছা উপজেলার ফারাসতপুর গ্রামের রাব্বি ও রাকিব। নিহত ইমামুল হোসেন একই গ্রামের মৃত রহিম সরদারের ছেলে।

র‍্যাব-৬ যশোর সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে, মামলার দুই আসামি ঢাকায় আত্মগোপনে থাকার পর সায়রা পরিবহনের একটি বাসযোগে যশোরে ফিরছেন। এমন তথ্যের ভিত্তিতে যশোর সদর উপজেলার কিসমত নওয়াপাড়া এলাকার রজনীগন্ধা তেলের পাম সংলগ্ন স্থানে একটি বিশেষ চেকপোস্ট বসানো হয়।

র‍্যাব-৬ যশোর কোম্পানি কমান্ডার মেজর ফজলে রাব্বি প্রিন্স জানান, রাতের অভিযানে বাসটি তল্লাশি করে দুই আসামিকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৯ জুন রাত ৯টার দিকে মণিরামপুর উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নের শরমপুর গ্রামে ইমামুল হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, তার নাতনিকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জের ধরেই তার ওপর হামলা চালানো হয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় ইমামুল হোসেনকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মণিরামপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই মামলার আসামিরা আত্মগোপনে চলে যান। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও গোয়েন্দা তৎপরতার পর র‍্যাব তাদের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে আটক করতে সক্ষম হয়।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের সদস্যরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

র‍্যাব ও পুলিশ জানিয়েছে, মামলার পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।