Jashore , Thursday, 22 October 2026
সর্বশেষ:

পেনাল্টি নাকি ডাকাতি? ১২৫ মিনিটের ‘বিতর্কিত’ গোলে বেলজিয়ামের অবিশ্বাস্য জয়

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
সিয়াটলে ম্যাচ শেষ হতে তখন আর মাত্র কয়েক মুহূর্ত বাকি। গ্যালারিতে থাকা হাজারো দর্শক যখন টাইব্রেকারের রোমাঞ্চকর ভাগ্যের খেলার অপেক্ষায় বুক বাঁধছেন, ঠিক তখনই নাটকীয় মোড় নিল ম্যাচ। অতিরিক্ত সময়েরও যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে (১২৫ মিনিট) পেনাল্টি পেল বেলজিয়াম। আর ম্যাচ জয়ের এমন সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করলেন না অধিনায়ক ইউরি টিলেমান্স। সফল স্পটকিকে সেনেগালের মুখ থেকে অবিশ্বাস্য এক জয় ছিনিয়ে নিল রেড ডেভিলরা।

তবে ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে রেফারি হেক্টর মার্তিনেজের দেওয়া এই পেনাল্টি নিয়ে এখন ফুটবল বিশ্বে চলছে তোলপাড় ও তীব্র বিতর্ক।

অথচ এই নাটকীয় ও বিতর্কিত পেনাল্টির আগে ম্যাচটি পুরোপুরি সেনেগালের নিয়ন্ত্রণে ছিল। হাবিব দিয়ারা ও ইসমাইলা সারের দুর্দান্ত দুটি গোলে ম্যাচের ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল আফ্রিকার দলটি। জয়ের সুবাস যখন প্রায় নিশ্চিত, ঠিক তখনই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে সেনেগালের রক্ষণভাগ। মাত্র ৩ মিনিটের ব্যবধানে রোমেলু লুকাকু ও ইউরি টিলেমান্স গোল করে বেলজিয়ামকে সমতায় (২-২) ফেরান। এরপর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

১২৫ মিনিটের মাথায় সেনেগালের লামিনে কামারা যখন টিলেমান্সকে ডি-বক্সের ভেতর ফাউল করেন, রেফারির পেনাল্টির বাঁশিতে স্তব্ধ হয়ে যায় সেনেগাল শিবির। অনেকের মতে, কামারার স্পর্শটা খুবই হালকা ছিল এবং ম্যাচের এমন মুহূর্তে রেফারি চাইলেই সিদ্ধান্তটি এড়িয়ে যেতে পারতেন।

ভিএআর দেখে দেওয়া এই পেনাল্টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার গ্যারি নেভিল। তিনি বলেন, আমার সত্যিই মনে হয় না ওটা পেনাল্টি ছিল। টিলেমান্স যদি বল স্পর্শ করার পর লাথি খেতেন, তবেই কেবল পেনাল্টি দেওয়া যেত।

আরও কড়া সমালোচনা করেছেন নাইজেরিয়ার সাবেক অধিনায়ক জন ওবি মিকেল। দল দেখে পেনাল্টি দেওয়া হচ্ছে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, কারা খেলছে, তার ওপর যেন এখন খেলার নিয়ম নির্ভর করছে। একই কাজ অন্য কোনো দল করলে কখনোই পেনাল্টি দেওয়া হতো না।

ম্যাচ শেষে রেফারির এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি সেনেগালের কোচ পাপে থিয়াও। তিনি স্বভাবসুলভ সংযম বজায় রেখে বলেন, এই সিদ্ধান্তের কোনো ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ আমি করতে চাই না। পেনাল্টির ব্যাপারে আমাদের একেকজনের দৃষ্টিভঙ্গি একেক রকম। রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্তব্য না করে, এ নিয়ে কথা না বাড়ানোই ভালো।

শেষ বাঁশি বাজার পর মাঠের দুই প্রান্তের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। একদিকে যখন আনন্দে আত্মহারা লুকাকু-টিলেমান্সরা, অন্যদিকে তখন সেনেগালের শিবিরে কান্নার রোল। পেনাল্টির খলনায়ক বনে যাওয়া তরুণ কামারা যেন নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারছিলেন না, মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। সতীর্থরা সান্ত্বনা দিলেও থামছিল না তাঁর চোখের পানি। এক বিতর্কিত পেনাল্টিতেই শেষ হয়ে গেল সেনেগালের রূপকথা।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 11:04 am, Thursday, 2 July 2026
107 Time View

পেনাল্টি নাকি ডাকাতি? ১২৫ মিনিটের ‘বিতর্কিত’ গোলে বেলজিয়ামের অবিশ্বাস্য জয়

Update Time : 11:04 am, Thursday, 2 July 2026

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
সিয়াটলে ম্যাচ শেষ হতে তখন আর মাত্র কয়েক মুহূর্ত বাকি। গ্যালারিতে থাকা হাজারো দর্শক যখন টাইব্রেকারের রোমাঞ্চকর ভাগ্যের খেলার অপেক্ষায় বুক বাঁধছেন, ঠিক তখনই নাটকীয় মোড় নিল ম্যাচ। অতিরিক্ত সময়েরও যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে (১২৫ মিনিট) পেনাল্টি পেল বেলজিয়াম। আর ম্যাচ জয়ের এমন সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করলেন না অধিনায়ক ইউরি টিলেমান্স। সফল স্পটকিকে সেনেগালের মুখ থেকে অবিশ্বাস্য এক জয় ছিনিয়ে নিল রেড ডেভিলরা।

তবে ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে রেফারি হেক্টর মার্তিনেজের দেওয়া এই পেনাল্টি নিয়ে এখন ফুটবল বিশ্বে চলছে তোলপাড় ও তীব্র বিতর্ক।

অথচ এই নাটকীয় ও বিতর্কিত পেনাল্টির আগে ম্যাচটি পুরোপুরি সেনেগালের নিয়ন্ত্রণে ছিল। হাবিব দিয়ারা ও ইসমাইলা সারের দুর্দান্ত দুটি গোলে ম্যাচের ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল আফ্রিকার দলটি। জয়ের সুবাস যখন প্রায় নিশ্চিত, ঠিক তখনই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে সেনেগালের রক্ষণভাগ। মাত্র ৩ মিনিটের ব্যবধানে রোমেলু লুকাকু ও ইউরি টিলেমান্স গোল করে বেলজিয়ামকে সমতায় (২-২) ফেরান। এরপর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

১২৫ মিনিটের মাথায় সেনেগালের লামিনে কামারা যখন টিলেমান্সকে ডি-বক্সের ভেতর ফাউল করেন, রেফারির পেনাল্টির বাঁশিতে স্তব্ধ হয়ে যায় সেনেগাল শিবির। অনেকের মতে, কামারার স্পর্শটা খুবই হালকা ছিল এবং ম্যাচের এমন মুহূর্তে রেফারি চাইলেই সিদ্ধান্তটি এড়িয়ে যেতে পারতেন।

ভিএআর দেখে দেওয়া এই পেনাল্টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার গ্যারি নেভিল। তিনি বলেন, আমার সত্যিই মনে হয় না ওটা পেনাল্টি ছিল। টিলেমান্স যদি বল স্পর্শ করার পর লাথি খেতেন, তবেই কেবল পেনাল্টি দেওয়া যেত।

আরও কড়া সমালোচনা করেছেন নাইজেরিয়ার সাবেক অধিনায়ক জন ওবি মিকেল। দল দেখে পেনাল্টি দেওয়া হচ্ছে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, কারা খেলছে, তার ওপর যেন এখন খেলার নিয়ম নির্ভর করছে। একই কাজ অন্য কোনো দল করলে কখনোই পেনাল্টি দেওয়া হতো না।

ম্যাচ শেষে রেফারির এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি সেনেগালের কোচ পাপে থিয়াও। তিনি স্বভাবসুলভ সংযম বজায় রেখে বলেন, এই সিদ্ধান্তের কোনো ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ আমি করতে চাই না। পেনাল্টির ব্যাপারে আমাদের একেকজনের দৃষ্টিভঙ্গি একেক রকম। রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্তব্য না করে, এ নিয়ে কথা না বাড়ানোই ভালো।

শেষ বাঁশি বাজার পর মাঠের দুই প্রান্তের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। একদিকে যখন আনন্দে আত্মহারা লুকাকু-টিলেমান্সরা, অন্যদিকে তখন সেনেগালের শিবিরে কান্নার রোল। পেনাল্টির খলনায়ক বনে যাওয়া তরুণ কামারা যেন নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারছিলেন না, মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। সতীর্থরা সান্ত্বনা দিলেও থামছিল না তাঁর চোখের পানি। এক বিতর্কিত পেনাল্টিতেই শেষ হয়ে গেল সেনেগালের রূপকথা।