Jashore , Thursday, 22 October 2026
সর্বশেষ:

নজরুল শুধু অতীত নন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মেরও প্রেরণার উৎস’—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম শুধু অতীত ইতিহাসের অংশ নন, তিনি বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস। তিনি আমাদের সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ভার্চুয়ালি আয়োজিত ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি রাষ্ট্র ও সমাজে এমন কিছু ক্ষণজন্মা ব্যক্তিত্ব জন্ম নেন, যারা জাতির আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক জীবনে গভীর প্রভাব রেখে যান। কাজী নজরুল ইসলাম তেমনই একজন, যার প্রভাব শৈশব থেকে পরিণত বয়স পর্যন্ত মানুষের জীবনজুড়ে বিস্তৃত।

তিনি বলেন, বিদ্রোহ, সাম্য, মানবতা, প্রেম, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক ছিলেন নজরুল। তার রচনায় স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, অসাম্প্রদায়িকতা এবং মানবিক মূল্যবোধ শক্তিশালীভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

সরকার ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে কবির স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশালকে ‘নজরুল সিটি’ ঘোষণার সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে বলেও অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের সব আন্দোলন-সংগ্রামে নজরুলের কবিতা ও গান মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর যুগে নতুন প্রজন্মকে নৈতিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতেও নজরুলের সাহিত্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি আরও বলেন, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তার কাছে কাজী নজরুল ইসলাম ‘বাংলাদেশের মন’-এর প্রতীক। সাম্য, সম্প্রীতি ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার যে চেতনা নজরুল ধারণ করেছিলেন, বর্তমান সরকারও সেই আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী গঠিত ‘নজরুল বর্ষ উদযাপন জাতীয় কমিটি’র মাধ্যমে বছরব্যাপী সাহিত্য সম্মেলন, গবেষণা, সেমিনার, সাংস্কৃতিক উৎসব, নজরুলসংগীতের আসর, নাট্যোৎসব ও চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন সফল করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের শেষে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’-এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এ সময় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট ও লোগো উন্মোচন করা হয়।

সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী)সহ সরকারি কর্মকর্তা, নজরুল গবেষক ও শিল্পীরা ভার্চুয়ালি অংশ নেন।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 07:16 pm, Thursday, 2 July 2026
108 Time View

নজরুল শুধু অতীত নন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মেরও প্রেরণার উৎস’—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Update Time : 07:16 pm, Thursday, 2 July 2026

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম শুধু অতীত ইতিহাসের অংশ নন, তিনি বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস। তিনি আমাদের সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ভার্চুয়ালি আয়োজিত ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি রাষ্ট্র ও সমাজে এমন কিছু ক্ষণজন্মা ব্যক্তিত্ব জন্ম নেন, যারা জাতির আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক জীবনে গভীর প্রভাব রেখে যান। কাজী নজরুল ইসলাম তেমনই একজন, যার প্রভাব শৈশব থেকে পরিণত বয়স পর্যন্ত মানুষের জীবনজুড়ে বিস্তৃত।

তিনি বলেন, বিদ্রোহ, সাম্য, মানবতা, প্রেম, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক ছিলেন নজরুল। তার রচনায় স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, অসাম্প্রদায়িকতা এবং মানবিক মূল্যবোধ শক্তিশালীভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

সরকার ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে কবির স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশালকে ‘নজরুল সিটি’ ঘোষণার সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে বলেও অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের সব আন্দোলন-সংগ্রামে নজরুলের কবিতা ও গান মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর যুগে নতুন প্রজন্মকে নৈতিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতেও নজরুলের সাহিত্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি আরও বলেন, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তার কাছে কাজী নজরুল ইসলাম ‘বাংলাদেশের মন’-এর প্রতীক। সাম্য, সম্প্রীতি ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার যে চেতনা নজরুল ধারণ করেছিলেন, বর্তমান সরকারও সেই আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী গঠিত ‘নজরুল বর্ষ উদযাপন জাতীয় কমিটি’র মাধ্যমে বছরব্যাপী সাহিত্য সম্মেলন, গবেষণা, সেমিনার, সাংস্কৃতিক উৎসব, নজরুলসংগীতের আসর, নাট্যোৎসব ও চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন সফল করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের শেষে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’-এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এ সময় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট ও লোগো উন্মোচন করা হয়।

সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী)সহ সরকারি কর্মকর্তা, নজরুল গবেষক ও শিল্পীরা ভার্চুয়ালি অংশ নেন।