Jashore , Thursday, 22 October 2026
সর্বশেষ:

জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের আসামি সাবেক মেজর মোজাফফর গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ৪৫ বছর পর এই নৃশংস ঘটনার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গতকাল বুধবার রাতে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃত সাবেক এই সেনা কর্মকর্তাকে বর্তমানে ডিবি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মামলার ঐতিহাসিক বিবরণ থেকে জানা যায়, ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা অতর্কিত হামলা চালিয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এই হত্যাযজ্ঞে সরাসরি অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তৎকালীন মেজর মোজাফফর হোসেন ও ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন।

মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, হামলার সময় মেজর মোজাফফর হোসেনই প্রথম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করেন এবং তাকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালান। হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত করার পর মোজাফফর চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে টেলিফোন করে সেই কুখ্যাত বার্তাটি দিয়েছিলেন, “The President has been killed.”

হত্যাকাণ্ডের পর পরিস্থিতি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এলে মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীতে মঞ্জুর নিহত হন। এই মামলায় ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলেও মেজর মোজাফফর হোসেন এবং মেজর এস এম খালেদ সুকৌশলে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গ্রেপ্তার এড়াতে মেজর মোজাফফর দীর্ঘ সময় ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন। ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানেই অবস্থান করেন। পরবর্তীতে তিনি ছদ্মনাম ব্যবহার করে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে যাতায়াত শুরু করেন এবং দীর্ঘ সময় ছদ্মবেশে আত্মগোপনে থাকেন।

দীর্ঘ সাড়ে চার দশক পর ডিবি পুলিশের এই সফল অভিযানের মধ্য দিয়ে দেশের অন্যতম আলোচিত এই রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের অমীমাংসিত অধ্যায়ে এক নতুন অগ্রগতি এলো। গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর নিজস্ব বিচার প্রক্রিয়ার (কোর্ট মার্শাল বা প্রাসঙ্গিক আইনি প্রক্রিয়া) মাধ্যমে এখন গ্রেপ্তারকৃত এই সাবেক সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 06:49 pm, Thursday, 16 July 2026
58 Time View

জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের আসামি সাবেক মেজর মোজাফফর গ্রেপ্তার

Update Time : 06:49 pm, Thursday, 16 July 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ৪৫ বছর পর এই নৃশংস ঘটনার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গতকাল বুধবার রাতে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃত সাবেক এই সেনা কর্মকর্তাকে বর্তমানে ডিবি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মামলার ঐতিহাসিক বিবরণ থেকে জানা যায়, ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা অতর্কিত হামলা চালিয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এই হত্যাযজ্ঞে সরাসরি অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তৎকালীন মেজর মোজাফফর হোসেন ও ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন।

মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, হামলার সময় মেজর মোজাফফর হোসেনই প্রথম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করেন এবং তাকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালান। হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত করার পর মোজাফফর চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে টেলিফোন করে সেই কুখ্যাত বার্তাটি দিয়েছিলেন, “The President has been killed.”

হত্যাকাণ্ডের পর পরিস্থিতি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এলে মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীতে মঞ্জুর নিহত হন। এই মামলায় ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলেও মেজর মোজাফফর হোসেন এবং মেজর এস এম খালেদ সুকৌশলে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গ্রেপ্তার এড়াতে মেজর মোজাফফর দীর্ঘ সময় ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন। ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানেই অবস্থান করেন। পরবর্তীতে তিনি ছদ্মনাম ব্যবহার করে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে যাতায়াত শুরু করেন এবং দীর্ঘ সময় ছদ্মবেশে আত্মগোপনে থাকেন।

দীর্ঘ সাড়ে চার দশক পর ডিবি পুলিশের এই সফল অভিযানের মধ্য দিয়ে দেশের অন্যতম আলোচিত এই রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের অমীমাংসিত অধ্যায়ে এক নতুন অগ্রগতি এলো। গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর নিজস্ব বিচার প্রক্রিয়ার (কোর্ট মার্শাল বা প্রাসঙ্গিক আইনি প্রক্রিয়া) মাধ্যমে এখন গ্রেপ্তারকৃত এই সাবেক সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।