নওয়াপাড়ায় ভৈরব নদে নিখোঁজের ৩০ ঘণ্টা পর গৃহবধূ বর্ণার লাশ উদ্ধার
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়ায় ভৈরব নদে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া গৃহবধূ ফাতেমা আক্তার বর্ণার (২৮) লাশ ৩০ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল শনিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে ভৈরব সেতুর নিচে ভাসমান অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
এর আগে গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে নওয়াপাড়ার সরদার মিল-সংলগ্ন মালোপাড়া ঘাটে ভৈরব নদে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হন তিনি। নিহত বর্ণা অভয়নগর উপজেলার মশরহাটি গ্রামের হাবিবুর রহমানের মেয়ে এবং ঢাকার মিরপুরের বাসিন্দা রবিউল আলম খানের স্ত্রী।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের ৯ তারিখে বর্ণা বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। গত শুক্রবার দুপুরে তিনি তার ছোট ভাই, ফুফু ও এক বান্ধবীসহ মোট ছয়জন মালোপাড়া ঘাটে গোসল করতে যান। ওই সময় নদীতে জোয়ার চলছিল। গোসলের একপর্যায়ে বর্ণা ঘাটে থাকা গাছের গুঁড়ির ওপর থেকে দুবার নদীতে লাফ দেন। তৃতীয়বার লাফ দেওয়ার পর তিনি আর পানির ওপরে ভেসে ওঠেননি। সবাই গোসলে ব্যস্ত থাকায় বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে কেউ টের পাননি। পরে তাকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়।
খবর পেয়ে নওয়াপাড়া নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, ডুবুরি দল ও স্থানীয় জেলেরা জাল ফেলে গত দুই দিন ধরে নদের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তল্লাশি চালায়। কিন্তু কার্গো বা লাইটার জাহাজের নিচে লাশ আটকে থাকায় প্রথম দিকে কোনো সন্ধান মেলেনি। অবশেষে নিখোঁজের ৩০ ঘণ্টা পর গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ভৈরব ব্রিজের নিচে কচুরিপানার মধ্যে লাশটি ভেসে উঠলে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়।
নওয়াপাড়া নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রনজিত কুমার জানান, স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে ভৈরব সেতুর নিচ থেকে ভাসমান লাশটি উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি শনাক্ত করেন। এ বিষয়ে পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় রাতেই লাশটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মেধাবী ও নিঃসন্তান বর্ণার এমন অকাল মৃত্যুতে মশরহাটি গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। চার বছর আগে বিয়ে হওয়া বর্ণা স্বামীর চাকরির সুবাদে মানিকগঞ্জে বসবাস করতেন। বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসে নদের পানিতে ডুবে তার এই করুণ মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় চলছে মাতম।

























