যশোরে যৌতুকের জন্য কন্যাকে হত্যার অভিযোগ সংবাদ সম্মেলন
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর সদর উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মোমিন গাজী তাঁর মেয়ে সুমনা বেগমকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে হত্যার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শনিবার যশোর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নিহতের বাবা মোমিন গাজী জানান, ২০১৮ সালে যশোর সদর উপজেলার রূপদিয়া এলাকার মুনসেফপুর গ্রামের মো. জসিম মোল্যার সঙ্গে তাঁর মেয়ে সুমনার বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে দুটি সন্তান রয়েছে। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই জসিম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা যৌতুকের দাবিতে সুমনার ওপর অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। মেয়ের সুখী সংসারের কথা ভেবে তিনি একাধিকবার নগদ অর্থ ও নানা জিনিসপত্র দিলেও নির্যাতন থামেনি।
মোমিন গাজীর অভিযোগ, গত ২৯ এপ্রিল গভীর রাতে তাঁর মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে ঘটনাটিকে ‘আত্মহত্যা’ হিসেবে চালিয়ে দিতে মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয় এবং ফোনে তাঁদের মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাঁরা জানতে পারেন, হত্যার পর লাশ কিছু সময় ঘরের ভেতর লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, খবর পেয়ে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ ও স্বজনেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায় এবং ময়নাতদন্ত শেষে দাফন সম্পন্ন হয়। এ ঘটনায় জসিম মোল্যা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে যশোরের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তবে নিরক্ষর হওয়ায় আইনি প্রক্রিয়া ও আবেদন যথাযথভাবে উপস্থাপন না করতে পেরে ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন নিহতের বাবা। অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না দাবি করে, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তসহ জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবি জানান অসহায় এই পিতা।

























