Jashore , Thursday, 22 October 2026
সর্বশেষ:

সম্পত্তির লোভে পিতাকে নির্যাতনকারী দুই বোনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের চৌগাছা উপজেলার মাকাপুর গ্রামে সম্পত্তির লোভে নিজ পিতাকে নির্যাতনকারী দুই মেয়ের বিরুদ্ধে নতুন করে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীর স্বজন ও এলাকাবাসী।

বুধবার প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মাকাপুর গ্রামবাসীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইমামুল হোসাইন মানিক।

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, মাকাপুর গ্রামের মৃত হায়দার আলীর তিন ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। ২০২৩ সালে মেজ মেয়ে স্নেহলতা পারভীন বিউটি, লাকী ও লাভলী এবং তাদের মা লতিফা, ভাই আল ইমরান ও ইমামুল হাসান রুবেল একত্রিত হয়ে সম্পদের লোভে পিতা হায়দার আলীর ওপর মারাত্মক নির্যাতন চালায় ও তাকে হত্যার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে লন্ডন প্রবাসী মেজ ছেলে ব্যারিস্টার মোর্তুজা পিতাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে এলে তার ওপরও ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে একাধিকবার প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়।

পরবর্তীতে আইনি পদক্ষেপ ও পুলিশের সহায়তায় মুমূর্ষু অবস্থায় হায়দার আলীকে উদ্ধার করা হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ওই ঘটনায় করা মামলায় আসামিরা জেল খাটেন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, হত্যা মামলাসহ নানা আইনি জটিলতা থেকে বাঁচতে এবং জমিজমা আত্মসাৎ করতে বিউটি ও লাকী প্রতিনিয়ত স্বজনদের নামে মিথ্যা মামলা ও অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। এর ধারাবাহিকতায় গত ২ আগস্ট সংবাদ সম্মেলন করে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালামসহ স্থানীয়দের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও জমি দখলের মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ তোলা হয়।

ইমামুল হোসাইন মানিক বলেন, স্নেহলতা পারভীন বিউটির বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, ছিনতাই ও চাঁদাবাজিসহ ১০-১১টি মামলা রয়েছে। বিউটির বড় ভাই রুবেল ২০১৫ সালে চাচা শাহিদুলকে কুপিয়ে জখম করার মামলায় জেল খেটেছেন। এই চক্রটি এলাকায় জোরপূর্বক জমি দখল, কৃষকদের ধান কেটে নেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা বিনষ্টের সঙ্গে সরাসরি জড়িত।

সংবাদ সম্মেলন থেকে এই চক্রের হাত থেকে এলাকাবাসীকে রক্ষায় বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মিজানুর রহমান, রবিউল ইসলাম, কাসেম আলী, আনসার আলী, রফিকুল ইসলাম, নজরুল ইসলামসহ স্থানীয় গ্রামবাসী।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 07:20 pm, Wednesday, 5 August 2026
41 Time View

সম্পত্তির লোভে পিতাকে নির্যাতনকারী দুই বোনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

Update Time : 07:20 pm, Wednesday, 5 August 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের চৌগাছা উপজেলার মাকাপুর গ্রামে সম্পত্তির লোভে নিজ পিতাকে নির্যাতনকারী দুই মেয়ের বিরুদ্ধে নতুন করে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীর স্বজন ও এলাকাবাসী।

বুধবার প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মাকাপুর গ্রামবাসীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইমামুল হোসাইন মানিক।

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, মাকাপুর গ্রামের মৃত হায়দার আলীর তিন ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। ২০২৩ সালে মেজ মেয়ে স্নেহলতা পারভীন বিউটি, লাকী ও লাভলী এবং তাদের মা লতিফা, ভাই আল ইমরান ও ইমামুল হাসান রুবেল একত্রিত হয়ে সম্পদের লোভে পিতা হায়দার আলীর ওপর মারাত্মক নির্যাতন চালায় ও তাকে হত্যার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে লন্ডন প্রবাসী মেজ ছেলে ব্যারিস্টার মোর্তুজা পিতাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে এলে তার ওপরও ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে একাধিকবার প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়।

পরবর্তীতে আইনি পদক্ষেপ ও পুলিশের সহায়তায় মুমূর্ষু অবস্থায় হায়দার আলীকে উদ্ধার করা হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ওই ঘটনায় করা মামলায় আসামিরা জেল খাটেন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, হত্যা মামলাসহ নানা আইনি জটিলতা থেকে বাঁচতে এবং জমিজমা আত্মসাৎ করতে বিউটি ও লাকী প্রতিনিয়ত স্বজনদের নামে মিথ্যা মামলা ও অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। এর ধারাবাহিকতায় গত ২ আগস্ট সংবাদ সম্মেলন করে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালামসহ স্থানীয়দের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও জমি দখলের মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ তোলা হয়।

ইমামুল হোসাইন মানিক বলেন, স্নেহলতা পারভীন বিউটির বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, ছিনতাই ও চাঁদাবাজিসহ ১০-১১টি মামলা রয়েছে। বিউটির বড় ভাই রুবেল ২০১৫ সালে চাচা শাহিদুলকে কুপিয়ে জখম করার মামলায় জেল খেটেছেন। এই চক্রটি এলাকায় জোরপূর্বক জমি দখল, কৃষকদের ধান কেটে নেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা বিনষ্টের সঙ্গে সরাসরি জড়িত।

সংবাদ সম্মেলন থেকে এই চক্রের হাত থেকে এলাকাবাসীকে রক্ষায় বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মিজানুর রহমান, রবিউল ইসলাম, কাসেম আলী, আনসার আলী, রফিকুল ইসলাম, নজরুল ইসলামসহ স্থানীয় গ্রামবাসী।