যশোরে খাসজমি দখলের চেষ্টা ও হুমকির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরে সরকার কর্তৃক ভূমিহীন পরিবারকে বরাদ্দ দেওয়া জমি বেআইনিভাবে দখলের চেষ্টা এবং পরিবারটিকে উচ্ছেদের ভয়ভীতি ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে শহরের দড়াটানাস্থ ‘সাহেবজান বেডিং’-এর মালিক সামছুদ্দীনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদ ও ন্যা বিচার নিশ্চিতের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন এবং মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মো. আনোয়ার হোসেন। সংবাদ সম্মেলনের আগে প্রেসক্লাব যশোরের সামনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী যৌথভাবে এক প্রতিবাদী মানববন্ধন পালন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে শহরের রায়পাড়া ইসমাইল কলোনির বাসিন্দা মো. আনোয়ার হোসেন লিখিত বক্তব্যে জানান, তারা তিন ভাই ও এক বোন শিশু থাকা অবস্থায় ভূমিহীন পরিবার হিসেবে সরকারের পক্ষে যশোর জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে তাদের মা খোদেজা বেগমের নামে শহরের ইসমাইল কলোনী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন ৫ শতক জমি বরাদ্দ পান। সেই থেকে দীর্ঘ দিন ধরে তারা উক্ত জমিতে পরিবার পরিজন নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন।
আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ২০১২ সালে প্রথম বেজপাড়া আজিমাবাদ কলোনির আশিক নামে এক ব্যক্তি জমির মালিকানা দাবি করে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে সম্প্রতি দড়াটানার সাহেবজান বেডিংয়ের সত্ত্বাধিকারী সামছুদ্দীন উক্ত জমি নিজের দাবি করে তাদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদের চক্রান্ত শুরু করেছেন। এ কাজে সামছুদ্দীনের ছেলে ওমর ফারুকসহ একদল লোক তাদের প্রতিনিয়ত নানাবিধ ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও দাবি করেন, সামছুদ্দীন নিজের প্রভাব খাটিয়ে ভূয়া খতিয়ান ও জাল দলিল তৈরি করে শহরের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক মানুষের জমি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন। বেজপাড়া, বকচর ও মুড়লী এলাকায় ভূয়া মামলা-হামলা দিয়ে অসহায় মানুষকে হয়রানি করার বহু অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এমনকি গত ৫ আগস্ট শহরের দড়াটানাস্থ ‘কহিনুর বেকারি’তে হামলা ও দখলের অপচেষ্টার পেছনেও এই সামছুদ্দীন জড়িত ছিলেন বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন বলেন, নিজেদের বৈধ অধিকার রক্ষায় তারা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। একই সঙ্গে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জমি দখল ও ভূমিহীন পরিবারকে উচ্ছেদের এই অবৈধ চক্রান্ত বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন ও জেলা পুলিশের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের জোরালো দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেনের পরিবারের অন্যান্য সদস্য এবং এলাকাভিত্তিক প্রতারণার শিকার বিভিন্ন বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।

























