Jashore , Wednesday, 21 October 2026
সর্বশেষ:

বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

​নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়া গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, জমি দখলের চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় নারীসহ একই পরিবারের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (১০ অক্টোবর) যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।

​সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঢাকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা কায়ছেদ আলী মোল্লা। তিনি অভিযোগ করেন, ১৯৮৫ সালে বাবার কাছ থেকে মনিরামপুরের ঢাকুরিয়া ও ভবানীপুর মৌজায় মোট ১৩ শতক জমি ক্রয় করেন তিনি। দীর্ঘদিনের এই সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ৪ অক্টোবর সকালে তাঁর ভাই ইদ্রিস আলীর পক্ষ নিয়ে সাবেক ছাত্রদল নেতা ও ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হুমায়ুন কবির মিন্টুর নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল তাঁদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়।

​কায়ছেদ আলী আরও জানান, হামলাকারীরা হাতুড়ি, রামদা ও লোহার রডসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর করে এবং জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা চালায়। এ সময় বাধা দিতে গেলে তাঁর স্ত্রী, দুই ছেলে, বোন, ভাগ্নি ও ভাগ্নিজামাইসহ পরিবারের ১০ জন সদস্য মারাত্মকভাবে আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

​ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, হামলার রেশ কাটতে না কাটতে গত ৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাঁদের বাড়িতে এসে পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের পাশাপাশি গুম করার হুমকি দিয়ে যায়। এ ঘটনায় তাঁরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।

​ঘটনার দিন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে মনিরামপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে পুলিশের কাছে অভিযোগ দেওয়া সত্ত্বেও মামলা নেওয়া হয়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। সুবিচার নিশ্চিত করতে তাঁরা বর্তমানে আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

​সংবাদ সম্মেলনে কায়ছেদ আলীর সঙ্গে সজীব হোসেন, আল আমিন, রেহেনা, ফরিদা, আমেনা, রুপা, হেনা ও রাসেলসহ ভুক্তভোগী পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং নিজেদের বসতবাড়ি ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 07:50 pm, Saturday, 10 October 2026
25 Time View

বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

Update Time : 07:50 pm, Saturday, 10 October 2026

​নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়া গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, জমি দখলের চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় নারীসহ একই পরিবারের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (১০ অক্টোবর) যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।

​সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঢাকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা কায়ছেদ আলী মোল্লা। তিনি অভিযোগ করেন, ১৯৮৫ সালে বাবার কাছ থেকে মনিরামপুরের ঢাকুরিয়া ও ভবানীপুর মৌজায় মোট ১৩ শতক জমি ক্রয় করেন তিনি। দীর্ঘদিনের এই সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ৪ অক্টোবর সকালে তাঁর ভাই ইদ্রিস আলীর পক্ষ নিয়ে সাবেক ছাত্রদল নেতা ও ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হুমায়ুন কবির মিন্টুর নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল তাঁদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়।

​কায়ছেদ আলী আরও জানান, হামলাকারীরা হাতুড়ি, রামদা ও লোহার রডসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর করে এবং জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা চালায়। এ সময় বাধা দিতে গেলে তাঁর স্ত্রী, দুই ছেলে, বোন, ভাগ্নি ও ভাগ্নিজামাইসহ পরিবারের ১০ জন সদস্য মারাত্মকভাবে আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

​ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, হামলার রেশ কাটতে না কাটতে গত ৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাঁদের বাড়িতে এসে পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের পাশাপাশি গুম করার হুমকি দিয়ে যায়। এ ঘটনায় তাঁরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।

​ঘটনার দিন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে মনিরামপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে পুলিশের কাছে অভিযোগ দেওয়া সত্ত্বেও মামলা নেওয়া হয়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। সুবিচার নিশ্চিত করতে তাঁরা বর্তমানে আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

​সংবাদ সম্মেলনে কায়ছেদ আলীর সঙ্গে সজীব হোসেন, আল আমিন, রেহেনা, ফরিদা, আমেনা, রুপা, হেনা ও রাসেলসহ ভুক্তভোগী পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং নিজেদের বসতবাড়ি ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।