সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে বিএনপি নেতার সংবাদ সম্মেলন
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার দোহাকুলা ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় এক বিএনপি নেতা। তাঁর দাবি, দীর্ঘ ২৮ বছরের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও তাঁকে বঞ্চিত করে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তিকে সারের ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন বাঘারপাড়া উপজেলার ৬ নম্বর খলশী ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও মেসার্স ইরা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. আব্দুস সাত্তার। এ সময় তিনি ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনরায় যাচাই-বাছাই ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আব্দুস সাত্তার জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে সার ও কীটনাশকের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। সম্প্রতি নতুন সার ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে তিনি সরকারি সব শর্ত পূরণ করে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন (আবেদন নম্বর: বাঘারপাড়া-৫১)। তিনি অভিযোগ করে বলেন, দোহাকুলা ইউনিয়নে সারের ডিলার হিসেবে যাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, সেই আব্দুর রশিদ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য রণজিৎ রায়ের গাড়িচালকের ভাই।
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বৈরী রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে ত্যাগ স্বীকার করা বিএনপির নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। সরকারি নীতিমালা, অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা যথাযথভাবে বিবেচনা না করে আওয়ামী লীগপন্থী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিকে ডিলার নিয়োগ দেওয়া অনভিপ্রেত।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুস সাত্তার দোহাকুলা ইউনিয়নের সার ডিলার নিয়োগের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান। তিনি সরকারি নীতিমালার ভিত্তিতে নিজের আবেদন পুনরায় মূল্যায়নের দাবি জানান অথবা দলের অন্য কোনো অভিজ্ঞ ও যোগ্য নেতাকর্মীকে ডিলারশিপ দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে ইতোমধ্যে উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে যশোরের জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ৬ নম্বর খলশী ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমান আলী, ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মিলন হোসেন এবং ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য নূরজালাল আজাদী।
তবে সার ডিলার নিয়োগে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে ডিলারশিপ প্রাপ্ত আব্দুর রশিদ কিংবা জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

























