৯ মাস পর খুলছে সেন্টমার্টিন: পর্যটকদের জন্য নতুন নিয়ম ও শত টাকা ফি নির্ধারণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে দীর্ঘ ৯ মাস টানা পর্যটক ভ্রমণ বন্ধ থাকার পর আগামী ১ নভেম্বর থেকে পুনরায় খুলে দেওয়া হচ্ছে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। পর্যটকরা নির্ধারিত ফি ও পরিবেশসংক্রান্ত কড়া নির্দেশনাবলী মেনে এই দ্বীপে ভ্রমণ করতে পারবেন।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সাবরীনা রহমানের সই করা আদেশে বলা হয়, আগামী ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে ১৫ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত পর্যটকরা সেন্টমার্টিন দ্বীপে যাওয়া-আসা করতে পারবেন। এই সময়ে কেবল কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে অনুমোদিত পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করবে।
অফিস আদেশ অনুযায়ী, সেন্টমার্টিনে দৈনিক পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। আগে প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার পর্যটকের সীমা থাকলেও এবার প্রতিদিন গড়ে সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক দ্বীপে যাতায়াত করতে পারবেন।
সেন্টমার্টিনে রাতযাপনের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবরের নির্দেশনাই বহাল থাকছে। সে অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে পর্যটকরা কেবল দিনে গিয়ে দিনেই ফিরে আসবেন, রাতযাপন করতে পারবেন না। তবে পরবর্তী দুই মাস—ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে পর্যটকরা দ্বীপে রাতযাপন করতে পারবেন। এছাড়া প্রতিবছরের মতো ফেব্রুয়ারি মাসে সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের ‘প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০১৬’-এর পরিশিষ্ট অনুযায়ী এবার সেন্টমার্টিন দ্বীপে ভ্রমণে প্রতি পর্যটককে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে ট্রাভেল পাস সংগ্রহ এবং কিউআর কোড সংবলিত টিকিট কেনা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
দ্বীপের পরিবেশ রক্ষায় পর্যটকদের পলিথিন বহন না করা, একবার ব্যবহারযোগ্য (সিম্পল ইউজ) প্লাস্টিক এড়িয়ে চলা এবং নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ছাড়া সামুদ্রিক কাছিম, পাখি ও প্রবাল রক্ষায় কেয়া বনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ-কেনাবেচা এবং সৈকতে মোটরবাইক চালানো নিষিদ্ধ থাকবে। পরিবেশের ক্ষতি এড়াতে রাতে সমুদ্রসৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চশব্দে গান বাজানো ও বারবিকিউ পার্টি করা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
এর আগে গত ১২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সেন্টমার্টিনের ধারণক্ষমতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে এসব সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।

























