খালেকুজ্জামান লাল লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি// লালমনিরহাট সীমান্তে অবৈধপথ দিয়ে দেশে ফিরছেন বাংলাদেশিরা। এতে ব্যাহত হচ্ছে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও কোয়ারেন্টিন। ফলে দেশে করোনার ভারতীয় ধরন ছড়ানোর শঙ্কা তৈরি হচ্ছে।ভারতে করোনার নতুন ধরন ছড়িয়ে পড়ায় বেসামাল দেশটি। ধরনটি বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে বন্ধ সীমান্ত। এরপরও লালমনিরহাটে সীমান্তের অবৈধপথ ব্যবহার করে দেশে ফিরছেন বাংলাদেশিরা। সোমবার দহগ্রাম সীমান্ত দিয়ে অবৈধপথে বেদে সম্প্রদায়ের ২৩ জন দেশে ফেরেন। বিজিবি তাদের আটক করে কোয়ারিন্টিনে পাঠায়।স্থানীয়রা জানান, কাটাতারের বেড়া না থাকায় মানুষ খুব সহজেই চলে আসে। আগের তুলনায় এখন অনেক কমই আসে। তারপরও আতঙ্ক এবং ভয়ের মধ্যে থাকতে হয় তাদের।সচেতন মহল বলছে- অবৈধ চলাচল বন্ধ না করলে দ্রুত দেশে ছড়াবে করোনার ভারতীয় ধরন। আরডিআরএস রংপুরের মানবপাচার প্রতিরোধ প্রকল্পের প্রকল্প কর্মকর্তা ফরহাদ আলম বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্তকতার বিকল্প দেখছিনা। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারিভাবে এই অবৈধ চলাচল বন্ধে একটি উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।’অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। রংপুর বিজিবির সেক্টর কমান্ডার কর্নেল ইয়াসির জাহান ডেইলি বাংলাদেশ টুডে কে বলেন, ‘স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদে সতর্ক করা হয়েছে। যাতে কোনভাবেই এই পরিস্থিতিতে কেউ ভারতে প্রবেশ না করে বা ভারত থেকে কেউ না আসে। এটা করাই হয়েছে আমাদের সকলের নিরাপত্তার জন্য।’এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা রাখার আহ্বান স্বাস্থ্য বিভাগের। লালমনিরহাটের সিভিল সার্জন ডা. নির্মলেন্দু রায় বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় যে সকল নাগরিক আছেন তারা সতর্ক থাকবেন, সচেতন থাকবেন। অবৈধ পথে কোনভাবেই যেন ভারতীয় কোন নাগরিক বা আমাদের দেশের নাগরিক যারা ভারতে গিয়েছেন তারা যেন এই সময়ে বাংলাদেশে আসতে না পারেন।’লালমনিরহাটের বুড়িমারী সীমান্ত দিয়ে বৈধপথে এ পর্যন্ত ফিরেছেন ২শ’ ১৬ জন। তাদের মধ্যে তিনজনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। তবে ভাইরাসটি ভারতীয় ধরন কি-না তা জানা যাবে আইইডিসিআরের ফলাফল আসার পর।উল্লেখ্য, সীমান্তে নদীর পানি যখন শুকিয়ে যায় তখন দেশের বিভিন্ন স্থানের মানুষ অবৈধপথে দালালের মাধ্যমে ভারতে প্রবেশ করেন। তবে লালমনিরহাটের ২শ’ ৮৪ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে ৫৪ কিলোমিটার অংশে কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় এখানকার দহগ্রাম, দুর্গাপুর, মোঘলহাট, দুলালি এলাকা দিয়ে চোরাই পথে ভারত প্রবেশের প্রবণতা বেশি।






