Jashore , Thursday, 22 October 2026
সর্বশেষ:

ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় ঝিনাইদহের খামারিরা

কামরুজ্জামান সজীব ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি// কোরবানির জন্য লালন-পালন করা এক লাখ ৩১ হাজার গরু-ছাগলের ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় ঝিনাইদহের খামারিরা।ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে পশু লালন পালন করেছেন ঝিনাইদহের গবাদিপশুর খামারিরা। তবে, পশুর ভাল দাম পাওয়া নিয়ে সংশয়ে রয়েছে খামারিরা। এবার ঝিনাইদহে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজারের বেশি গরু-ছাগল।জানা গেছে, এ বছর ঝিনাইদহ জেলার ৬ উপজেলায় ৭৯ হাজার ১৭৫টি গরু ও ৫২ হাজার ৩২৮টি ছাগল কোরবানির জন্য লালন-পালন করা হয়েছে। করোনাকালে অনেকে চাকরি ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে এসে বাণিজ্যিকভাবে খামার করেছেন। এসব খামারে প্রস্তুত রয়েছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা মুল্যের এসব কোরবানির পশু।প্রাণি সম্পদ বিভাগের দেওয়া তথ্য মতে, ঝিনাইদহ জেলায় কোরবানির চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ১৯ হাজার ৪০২টি। গত বছর জেলায় ১ লাখ ১৯ হাজার ৪০২টি কোরবানি করা হয়। গতবারের সংখ্যাাটিই কোরবানির চাহিদা হিসাবে ধরা হয়েছে। পশু কোরবানি দিয়ে প্রায় সাড়ে ১২ হাজারের মত পশু উদবৃত্ত থাকবে। যা দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করা হবে।শহরের নতুন কোটপাড়ার মহিউদ্দীন নামে এক খামারি জানান, সাধারণত ঝিনাইদহে অন্য জেলা থেকে কোরবানির গরু-ছাগল আসে না। কিছু সৌখিন মানুষ আছেন যারা মহিষ, ভেড়া, দুম্বা ও উট কিনে আনেন।গত বছর ঝিনাইদহে গরু ও ছাগল ছাড়াও এমন ৬৪২টি পশু কোরবানি হয়েছিল। হরিণাকুন্ডুর হাফিজুর রহমান জানান, ২০২০ সালের মার্চ থেকে দেশে করোনার কারণে লকডাউন শুরু হলে প্রভাব পড়ে মানুষের ব্যবসা ও চাকরির উপর। অনেকেই চাকরি হারিয়ে গ্রামের বাড়িতে এসে পশু পালন শুরু করেন। তিনিও চারটি পশু কোরবানির বাজারে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছেন। বাজার ঠিক থাকলে লাভবান হবেন। তিনি বলেন, পশু খাবারের দাম বেশি হওয়ায় ঋণ ও ধার দেনা করে খামার করেছেন। কোরবানির ঈদকে সামনে করে পশুর বাজার ঠিক থাকবে কিনা এ নিয়ে শংকায় আছেন। বাজার পড়ে গেলে ঝিনাইদহের শত শত খামারি পথে বসবে বলে তিনি মনে করেন।ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের বেতাই গ্রামের সানা মুসল্লীর ছেলে রুবেল মুসল্লী ঈদের বাজার টার্গেট করে গরু মোটাতাজা করেছেন। একটি গরু ইতোমধ্যে ব্যেশ ভালো দামে বিক্রি করে দিয়েছেন। এখনো তার খামারে একাধিক গরু রয়েছে।

চলমান লকডাউন ও ঈদে পশুর হাট বন্ধ থাকলে পশু কেনাবেচা নিয়ে তার মতো অনেকেই শংকিত। মাটিলা গ্রামের গরু খামারি বাপি বিশ্বাস জানান, কোরবানির ঈদের আগে সবারই কম বেশি টার্গেট থাকে। কিন্তু, এ বছর লকডাউনের কারণে হাট বসছে না। বাইরে থেকে ক্রেতা বা বেপারীরা আসছেন না। যার কারণে হাট ইজারা নিয়ে বিপদে আছেন।নারিকেলবাড়িয়া বাজারের ইজারাদার বাপ্পি বিশ্বাস জানান, ঈদ সামনে করে পশুর হাট স্বাস্থ্যবিধি মেনে উন্মুক্ত খোলা স্থানে বসানো যায় কিনা তা ভেবে দেখা দরকার।ঝিনাইদহ জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা: আনন্দ কুমার অধিকারী জানান, ঝিনাইদহ জেলায় কোরবানিতে যে পশুর চাহিদা রয়েছে, তা পুরণ করে প্রায় সাড়ে ১২ হাজারের মত গরু ও ছাগল উদ্বৃত্ত থাকবে। সেইগুলো ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি হবে।

করোনা পরিস্থিতির কারণে একটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে আশা করা যায় ঈদের আগে খামারিরা এবং বাজারের ইজারাদারেরা যাতে বাজার ধরতে পারে সে বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে সরকার। মাঠ পর্যায়ে সে রকম পরামর্শ দেয়া হয়েছে বলে জানান।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 01:47 am, Friday, 2 July 2021
49 Time View

ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় ঝিনাইদহের খামারিরা

Update Time : 01:47 am, Friday, 2 July 2021

কামরুজ্জামান সজীব ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি// কোরবানির জন্য লালন-পালন করা এক লাখ ৩১ হাজার গরু-ছাগলের ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় ঝিনাইদহের খামারিরা।ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে পশু লালন পালন করেছেন ঝিনাইদহের গবাদিপশুর খামারিরা। তবে, পশুর ভাল দাম পাওয়া নিয়ে সংশয়ে রয়েছে খামারিরা। এবার ঝিনাইদহে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজারের বেশি গরু-ছাগল।জানা গেছে, এ বছর ঝিনাইদহ জেলার ৬ উপজেলায় ৭৯ হাজার ১৭৫টি গরু ও ৫২ হাজার ৩২৮টি ছাগল কোরবানির জন্য লালন-পালন করা হয়েছে। করোনাকালে অনেকে চাকরি ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে এসে বাণিজ্যিকভাবে খামার করেছেন। এসব খামারে প্রস্তুত রয়েছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা মুল্যের এসব কোরবানির পশু।প্রাণি সম্পদ বিভাগের দেওয়া তথ্য মতে, ঝিনাইদহ জেলায় কোরবানির চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ১৯ হাজার ৪০২টি। গত বছর জেলায় ১ লাখ ১৯ হাজার ৪০২টি কোরবানি করা হয়। গতবারের সংখ্যাাটিই কোরবানির চাহিদা হিসাবে ধরা হয়েছে। পশু কোরবানি দিয়ে প্রায় সাড়ে ১২ হাজারের মত পশু উদবৃত্ত থাকবে। যা দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করা হবে।শহরের নতুন কোটপাড়ার মহিউদ্দীন নামে এক খামারি জানান, সাধারণত ঝিনাইদহে অন্য জেলা থেকে কোরবানির গরু-ছাগল আসে না। কিছু সৌখিন মানুষ আছেন যারা মহিষ, ভেড়া, দুম্বা ও উট কিনে আনেন।গত বছর ঝিনাইদহে গরু ও ছাগল ছাড়াও এমন ৬৪২টি পশু কোরবানি হয়েছিল। হরিণাকুন্ডুর হাফিজুর রহমান জানান, ২০২০ সালের মার্চ থেকে দেশে করোনার কারণে লকডাউন শুরু হলে প্রভাব পড়ে মানুষের ব্যবসা ও চাকরির উপর। অনেকেই চাকরি হারিয়ে গ্রামের বাড়িতে এসে পশু পালন শুরু করেন। তিনিও চারটি পশু কোরবানির বাজারে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছেন। বাজার ঠিক থাকলে লাভবান হবেন। তিনি বলেন, পশু খাবারের দাম বেশি হওয়ায় ঋণ ও ধার দেনা করে খামার করেছেন। কোরবানির ঈদকে সামনে করে পশুর বাজার ঠিক থাকবে কিনা এ নিয়ে শংকায় আছেন। বাজার পড়ে গেলে ঝিনাইদহের শত শত খামারি পথে বসবে বলে তিনি মনে করেন।ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের বেতাই গ্রামের সানা মুসল্লীর ছেলে রুবেল মুসল্লী ঈদের বাজার টার্গেট করে গরু মোটাতাজা করেছেন। একটি গরু ইতোমধ্যে ব্যেশ ভালো দামে বিক্রি করে দিয়েছেন। এখনো তার খামারে একাধিক গরু রয়েছে।

চলমান লকডাউন ও ঈদে পশুর হাট বন্ধ থাকলে পশু কেনাবেচা নিয়ে তার মতো অনেকেই শংকিত। মাটিলা গ্রামের গরু খামারি বাপি বিশ্বাস জানান, কোরবানির ঈদের আগে সবারই কম বেশি টার্গেট থাকে। কিন্তু, এ বছর লকডাউনের কারণে হাট বসছে না। বাইরে থেকে ক্রেতা বা বেপারীরা আসছেন না। যার কারণে হাট ইজারা নিয়ে বিপদে আছেন।নারিকেলবাড়িয়া বাজারের ইজারাদার বাপ্পি বিশ্বাস জানান, ঈদ সামনে করে পশুর হাট স্বাস্থ্যবিধি মেনে উন্মুক্ত খোলা স্থানে বসানো যায় কিনা তা ভেবে দেখা দরকার।ঝিনাইদহ জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা: আনন্দ কুমার অধিকারী জানান, ঝিনাইদহ জেলায় কোরবানিতে যে পশুর চাহিদা রয়েছে, তা পুরণ করে প্রায় সাড়ে ১২ হাজারের মত গরু ও ছাগল উদ্বৃত্ত থাকবে। সেইগুলো ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি হবে।

করোনা পরিস্থিতির কারণে একটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে আশা করা যায় ঈদের আগে খামারিরা এবং বাজারের ইজারাদারেরা যাতে বাজার ধরতে পারে সে বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে সরকার। মাঠ পর্যায়ে সে রকম পরামর্শ দেয়া হয়েছে বলে জানান।