মবিনুর রহমান শেয়ার বাজার প্রতিনিধি// শেয়ার বাজারে মাত্র ২৫ দিনে চার কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে গড়ে ২৮৯ শতাংশ। দীর্ঘদিন ওটিসি মার্কেটে আটকে থাকা লোকসানি কোম্পানি মূলবাজারে ফিরেই এমন দাপুটে অবস্থানে কিভাবে? যার কোনো কারণ খুঁজে পায়নি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ। কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে বাজার সংশ্লিষ্টরা করছেন কারসাজির আশঙ্কাই। পুঁজিবাজার তদারকি সংস্থা বিএসইসি প্রধান বলছে, জালিয়াতি প্রমাণিত হলে কোনো ছাড় হবে না।ঢাকার পুঁজিবাজারে ওভার দ্য কাউন্টার বা ওটিসি মার্কেট মানেই বাজে কোম্পানির আখড়া। কোন কোম্পানি বন্ধ বা দেউলিয়া হয়ে গেলে শেয়ারবাজারে তার সবশেষ গন্তব্য হয় ওটিসি। এখানে এখন কোম্পানি আছে ৬১টি। এই বাজার নিয়ে নতুন পরিকল্পনায় নেমেছে বিএসইসি।বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, ‘ওটিসি মার্কেটটা একটা সুবিধার জায়গা হয়ে গিয়েছিলো। আপনি ডিভিডেন্ট দেন না, কর্পোরেট রুলস মানেন না, দেশের আইন মানবেন না, তখন আমি আপনাকে প্রথমে জেড এ দিবো। এখানে বেশিদিন থাকলে তারপর আমি আপনাকে ওটিসি তে দিবো। যাতে কেউ শেয়ার কেনাবেচা না করে। কিন্তু তারা বেনিফিটেড হচ্ছিলো। তারা কোন আইন মানে না কিন্তু পাবলিকের টাকা তাদের কাছে আটকা। আমরা তাদেরকে ওইখানে রাখতে চাইনা। হয় বোর্ডে থাকবে, নয়তো চলে যাবে।এমন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গেল ১৩ জুন ওটিসি থেকে মূল মার্কেটে ফেরে চারটি কোম্পানি। কিন্তু তারপরই লাফিয়ে দাম বাড়ছে এই কোম্পানিগুলোর। ৭ জুলাই পর্যন্ত গড়ে চার কোম্পানির দর বেড়েছে ২৮৯ শতাংশ।চারটি কোম্পানি হলো: মনোস্পল পেপার ম্যানুফ্যাকচারিং, পেপার প্রসেসিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, তমিজউদ্দিন টেক্সটাইল মিলস ও মুন্নু ফেব্রিকস।এই কোম্পানিগুলোর ব্যবসা বাড়েনি। কিন্তু তারপরেও শেয়ার দরে অস্বাভাবিক উত্থান। চারটির মধ্যে ৩টির মুনাফাই নেমেছে তলানিতে। কমেছে শেয়ার প্রতি মুনাফা।ওটিসি’র বেশিরভাগ কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন কম। তাই অনেক কোম্পানি মূল মার্কেটে নয়; ফিরবে এসএমই বোর্ডে।শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম আরো জানান, ‘ওটিসি তে যে কোম্পানিগুলো ২০-২৫ বছর আগে গেছে তারা খুবই লো পেইড আপ ক্যাপিটালের। ২ থেকে ১০ কোটি টাকার মধ্যে তাদের ক্যাপিটাল। আমরা তাদের সবাইকে এসএমই তে দিয়ে দিচ্ছি। ওইখানে তাদের গ্রোথ প্যাটার্ন, ডেভেলপমেন্ট, বিজনেস স্ট্র্যাটেজি দেখে যদি আমাদের মনে হয় মেইন বোর্ডে যাওয়ার মত, শুধু তখনই তাদের আমরা মেইন বোর্ডে নেবো, নয়তো না।’মূল মার্কেটে ফেরা চারটি কোম্পানির মধ্যে ৩টির পরিশোধিত মূলধন একেবারেই কম। স্বল্পমূলধনী এসব কোম্পানির শেয়ার নিয়েই বেশি কারসাজির আশঙ্কা আছে পুঁজিবাজারে।







