দেশব্যাপী আলোচিত বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ওসির বদলির আদেশ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

রাসেল বরিশাল বিভাগীয় সংবাদদাতা// দেশব্যাপী আলোচিত বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনিবুর রহমানের বদলির আদেশের ৮ দিনের ব্যবধানে ঘটে তুলকালাম ঘটনা। কাকতালীয়ভাবে ওই ঘটনার সাড়ে ৮ ঘণ্টা আগে কোতয়ালী থানার ওসি মো. নুরুল ইসলামও বদলির আদেশ হাতে পান। তবে বদলির খবরটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে ওই ঘটনার পর।


গত ১০ আগস্ট প্রকাশিত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ নিয়োগ শাখার প্রজ্ঞাপনে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনিবুর রহমানকে একই মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারি সচিব পদে বদলি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ নিয়োগ শাখার উপ-সচিব আবুল ফাতেহ মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ওই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন। জনস্বার্থে এই বদলি করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

অপরদিকে গত ১৮ আগস্ট বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়াটার্সের এক প্রজ্ঞাপনে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মো. নুরুল ইসলামকে সিলেট রেঞ্জে বদলি করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. মো. মইনুর রহমান চৌধুরী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে ২৫ আগস্টের মধ্যে তাকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে ছাড়পত্র গ্রহণ করতে বলা হয়।

বদলির আদেশ হাতে পাওয়ার পরও ইউএনও কর্মস্থল বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদের সরকারি বাসভবনে পরিবার নিয়ে অবস্থান করছিলেন।

তবে ১৮ আগস্ট ঘটনায় এ বদলি নয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিস্ট দপ্তরগুলো। ইউএনও’র বদলি বিষয়ে বরিশালের জেলা প্রশাসন কার্যালয় থেকে জানা গেছে, ইউএনও মুনিবুর রহমানের বদলি গত ১০ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারি সচীব হিসেবে বদলি হয়েছিলেন। কিন্তু উপজেলার এসিল্যান্ড করোনা আক্রান্ত থাকায় তাকে কাজ চালিয়ে নিতে বলা হয়েছিলো। তিনি সুস্থ হয়ে কাজে যোগ দিলেই ইউএনও তার কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে চলে যাবেন।

ইউএনও মুনিবুর রহমানের দাবি, কোনও ধরনের আগাম নোটিশ ছাড়াই, গত ১৮ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে প্রশাসনিক চত্বরে ব্যানার ফেস্টুন খোলার চেষ্টা করে একদল লোক। পরিচয় জানতে চাইলে তার সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন, এক পযার্য়ে তার বাসায় হামলা চালানো হয়। আত্মরক্ষায় নিরাপত্তাকর্মীরা গুলি ছোঁড়ে।

বরিশাল নগর ভবনের দাবি, ওই রাতে বরিশাল সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরের ব্যানার-বিলবোর্ড অপসারণ করতে যান। এ সময় ইউএনও’র বাসভবনের নিরাপত্তা কর্মীরা সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সাথে বাদানুবাদের এক পর্যায়ে ইউএনও’কে বিষয়টি অবহিত করেন।

সেখানে উপস্থিত সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস জানান, ইউএনও ভবন থেকে বের হয়ে সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। তখন সিটি করপোরেশনের কর্মীরা বিষয়টি তাৎক্ষনিক সিটি মেয়রকে বিষয়টি অবহিত করেন। মেয়র বিষয়টি সুরহার জন্য মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হাসান মাহমুদ বাবুসহ বেশ কয়েকজনকে সেখানে পাঠান। এরপর বাবুর সাথেও দুর্ব্যবহার করেন ইউএনও।

এক পর্যায়ে বাবুকে আটকে ফেলেন ইউএনও। উপস্থিতরা এর প্রতিবাদ জানালে ইউএনও আনসারদের গুলি করার নির্দেশ দেন। এতে প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতাসহ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়। খবর পেয়ে সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ সেখানে গেলে তাকে লক্ষ্য করেও আনসার সদস্যরা গুলি করে বলে অভিযোগ করেন করে সিটি মেয়র। এরপর পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ করে।

এ ঘটনায় ১৯ আগস্ট ইউএনও এবং পুলিশ বাদী হয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় মেয়রকে প্রধান আসামি করে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। এর ৫ দিনের ব্যবধানে গুলিবিদ্ধ প্যনেল মেয়র রফিকুল ইসলাম খোকন এবং সিটি করপোরেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা বাবুল হালদার বাদী হয়ে ইউএনও’কে প্রধান আসামি করে আদালতে মামলা করেন। ওই ঘটনায় উত্তপ্ত হয় গোটা বরিশাল ছাপিয়ে সারা দেশ।

সরকারের উচ্চ মহলের নির্দেশে ২২ আগস্ট রাতে বিভাগীয় কমিশনারের বাসভবনে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়।

বদলি প্রসঙ্গে আলাপকালে ইউএনও মুঠোফোনে সাংবাদিকদের বলেন, তিনি বদলির আদেশ পেয়েছেন ১০ আগস্ট। ১৮ আগস্টের ঘটনার সাথে তার বদলির কোন সংশ্লিষ্টতা নেই।

অপরদিকে কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মুঠোফোনে সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার দিন বিকেল ৩টায় তিনি পুলিশ হেডকোয়াটার্সের বদলির আদেশ হাতে পান। ঘটনা ঘটে ওইদিন রাত সাড়ে ১০টায়। ওই ঘটনার সাথে তার বদলির কোনও সম্পৃক্ততা নেই।