সার্জেন্ট মহুয়ার বাবাকেই দায়ী করে জিডি বিচারপতির ছেলের

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

মেহেদী হাসান বিশেষ প্রতিনিধি// রাজধানীর বনানীতে প্রাইভেটকার চাপায় পা হারানো সার্জেন্ট মহুয়ার বাবা মনোরঞ্জনের ওপর দুর্ঘটনার দায় চাপিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বিচারপতির ছেলে সাঈদ হাসান।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় জিডির বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আজম মিয়া। তিনি জানান, সাঈদ হাসান দুর্ঘটনার বিষয়ে গত মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) একটি জিডি করেন।

জিডি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন বনানী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আলমগীর গাজী।জিডিতে সাঈদ হাসান উল্লেখ করেছেন, গত ২ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে, মহাখালী ফ্লাইওভার থেকে নেমে চেয়ারম্যানবাড়ির ইউলুপ ঘুরছিলেন তিনি।

এ সময় উল্টো দিক থেকে এসে মনোরঞ্জনের মোটরসাইকেলটি তার গাড়ি ধাক্কা দেয়। এতে গাড়িটি সেখানেই প্রাচীরে লেগে যায় এবং প্রাণহানির ঘটনার সম্মুখীন হয়।

এতে তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও তার স্ত্রীর ডান হাতের তিনটি আঙুল ফ্র্যাকচার (ভেঙে) হয়।এ ঘটনার পরও মনোরঞ্জন হাজংকে গ্রীন লাইফ হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

সেখানে দুই দফায় আর্থিক সহযোগিতাও করেন। পরে পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে অপারেশনের ব্যবস্থা, কেবিন বরাদ্দ, এমনকি মেডিকেল বোর্ড গঠন করাসহ যাবতীয় বন্দোবস্ত করেন।

জিডিতে আরও বলা হয়, দুর্ঘটনায় তার কোনো দোষ না থাকায় ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেয়নি, গাড়িও আটক করেনি।অহেতুক হয়রানি, অপপ্রচার, মিথ্যা মামলা, মানসিক নির্যাতন, অর্থের জন্য চাপ দেওয়াসহ নানা আশঙ্কা থেকে প্রকৃত বিষয় উদ্ঘাটনের জন্য তদন্তের অনুরোধ জানান তিনি।

বনানী থানার ওসি জানান, সাঈদ হাসান দুর্ঘটনার বিষয়ে গত মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) একটি জিডি করেন। এ ঘটনায় সার্জেন্ট মহুয়া বাদী হয়েও একটি মামলা করেছেন। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছি।

উল্লেখ্য, বনানী থানায় জিডি করা সাইদ হাসান নামে এই গাড়িচালক এক বিচারপতির ছেলে।দুর্ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের মামলা নিতে পুলিশ প্রথমে গড়িমসি করে। পরে প্রায় ১৩ দিন পর মামলা নেয় বনানী থানা।