কাকলি সুলতানা স্টাফ রিপোর্টার:- মাইক্রবাসকে ওভারটেক করায় ক্ষুব্ধ মাইক্রোচালক ও তার সহযোগীরা রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স আটকে রেখে ও চাবি কেড়ে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সের চালক ও সহযোগীকে মারধর করে। ততক্ষণে ছটফট কর নিথর হয়ে যায় অ্যাম্বুলেন্সের ভিতরে থাকা ৯ বছরের শিশু।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মহাখালীর একটি হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ক্যান্সার আক্রান্ত শিশু আফসানা আক্তারকে (৯) নিয়ে গাইবান্ধায় ফিরছিল তার পরিবার। কিন্তু, দুই চালকের বিতণ্ডায় পথেই প্রাণ হারাতে হল শিশু আফসানার। ব্যস্ত মহাসড়কে শত শত মানুষের উপস্থিতিতেও সাহায্যে মেলেনি এতটুকু। অসুস্থ মেয়ের এমন করুণ মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ আফসানার পরিবার।জানা যায়, শিশু আফসানা আক্তারকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর মহাসড়ক হয়ে গ্রামের বাড়ির গাইবান্ধার উদ্দেশ্যে ফিরছিলো। পথে ওভারটেক করার ঘটনা নিয়ে আশুলিয়ার বাইপাইলে পোঁছালে রোগীবাহী চলন্ত অ্যাম্বুলন্সেটির গতিরোধ একটি মাইক্রোবাস। এ সময় মাইক্রোর চালক ও তার সহযোগীরা অ্যাম্বুলেন্সের চালক ও সহকারীকে মারধর করে এবং অ্যাম্বুলেন্সের চাবিও ছিনিয়ে নেয়।অনেক অনুনয় বিনয় ও আর্তনাদ করেও মাইক্রোর ক্ষুব্ধ চালকের মন গলেনি। পরে ট্রাফিক পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে এসে চাবি সংগ্রহ করলেও অভিযুক্ত মাইক্রোর চালকসহ অন্যান্যরা পালিয়ে যায়। তবে, জব্দ করা হয় হায়েস মাইক্রোবাসটি। দীর্ঘ সময় পর অ্যাম্বুলেন্সের চাবি পেয়ে স্থানীয় হাসপাতালে ছুটে যায় আফসানার পরিবার। কিন্তু, ততক্ষণে ছটফট করতে করতে অ্যাম্বুলেন্সের ভিতরেই মৃত্যু হয় শিশু আফসানার।অ্যাম্বুলেন্সের চালকের সহযোগী বলেন, আমরা পাশের গাড়ি থেকে জরুরি সাইড চাইলেও সাইড দেয়নি। বরং ক্ষুব্ধ হয়ে আমাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করে। এরপর পাশে থাকা পুলিশে অভিযোগ করলে সে আমাদের সাইড করে বের করে দেয়। কিন্তু, গাড়ির চাবি খুলে নেয়ায় ইঞ্জিন বন্ধ হওয়ার কয়েক মিনিট পরেই গাড়ির ভেতরে থাকা রোগী মারা যায়। প্রায় ২৫-৩০ মিনিটের মতো অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখা হয় বলেও জানান অ্যাম্বুলেন্সের সহযোগী।পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় মাইক্রবাসটি জব্দ করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মরদেহের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের প্রয়োজন হলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।প্রত্যক্ষদর্শী একজন জানায়, হায়েস মাইক্রোবাস থেকে নেমে তারা অ্যাম্বুলেন্সের চালক এবং তার সহযোগীকে মারধর করে। এরপর তারা অ্যাম্বুলেন্সের চাবিও নিয়ে চলে যায়। চাবি নিয়ে চলে যাওয়ার ১৫-২০ মিনিট পরেই ভেতরে থাকা অসুস্থ শিশু মারা যায়। আরেকজন বলেন, অ্যাম্বুলেন্সের চালক ভেতরে রোগী থাকার কথা বারবার বললেও তারা সেই কথা কানে না তুলে চাবি নিয়ে চলে যায়। পরে ট্রাফিক পুলিশের সহায়তায় অ্যাম্বুলেন্সের চাবি নিয়ে আসা হয়।মৃত্যু হওয়া শিশুর বাবা আলম মিয়া জানান, গাড়ির সাইড দেয়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর গাড়ি আটকে তারা গাড়ির চাবি নিয়ে যায়। চাবি নিয়ে যাওয়ার কয়েক মিনিট পরেই আমার মেয়ে মারা যায়।স্থানীয় হাসপাতালের চিকিৎসক নিশ্চিত করেন, হাসপাতালে আসার আগেই শিশুর মৃত্যুর কথা।অভিযুক্ত হায়েস মাইক্রোবাসটির পলাতক চালক নজরুল ইসলাম বাইপাইলের বাসিন্দা। পরিচয় নিশ্চিত হলেও এখনও তাকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। তবে শিশুর মরদেহ পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।







