টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি:- টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ৪২ দিন পর সিলযুক্ত ছিনতাই হওয়া বস্তাবন্দি ব্যালেট পেপার উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নের পুংলীপাড়া এলাকার একটি ভুট্রা ক্ষেত থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় ব্যালেট পেপারগুলো উদ্ধার করা হয়। চরচন্দনী দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্র থেকে ছিনতাই হয় ওই ব্যালট পেপার।চরচন্দনী দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে মোট ভোটার ছিলো ২ হাজার ৩৭৫ জন। মোট ভোট কাস্ট হয় ২ হাজার ২৯ টি।
এর মধ্যে বাতিল হয় ২০ টি ভোট। অনুপস্থিত থাকে ৩৪৬ জন ভোটার। ছিনতাই হওয়া বস্তাতেই ছিলো সমস্ত ব্যালট পেপার। ওই কেন্দ্রে আনারস প্রতীকে শাহ আলম শাপলা পান ১ হাজার ৩৩৬ ভোট, নৌকা প্রতীকে মনিরুজ্জামান মনির পান ৪৬৬ ভোট এবং আনোয়ার হোসেন তালুকদার জিন্নাহ পান ২০৭ ভোট।এদিকে বস্তা উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয় থানায়। সেখানে সাড়ে ৫টা থেকে চলে গননা।
গণনা শেষে বস্তায় কতটি ব্যালট পেপার মিলেছে সে তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ওসি মোহাম্মদ আব্দুল ওহাব। ব্যালট পেপারের সঠিক সংখ্যা ও ভিডিও ফুটেজের জন্য সংবাদকর্মীরা থানায় অপেক্ষা করলেও শেষ পর্যন্ত তিনি তা দিতে রাজি হননি।উদ্ধার হওয়া ব্যালট পেপারের বিষয়ে ভূঞাপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আব্দুল ওহাব জানান, গাবসারা ইউনিয়নের চর চন্দনি দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে নির্বাচনি ফলাফল ঘোষণার পর নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা লোকজন ফেরার পথে পরাজিত মেম্বার প্রার্থীর লোকজন আক্রমণ করে এবং তাদের পক্ষে ফলাফল ঘোষণা দিতে বলে।
ঘোষণা না দেয়ায় ব্যালট পেপার ছিনতাই করে নিয়ে যায়। পরে প্রিজাইডিং অফিসার মিজানুর রহমান বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে আজ পুংলিপাড়া ভুট্টা ক্ষেত থেকে ব্যালটগুলো উদ্ধার করা হয়।উল্লেখ্য, গত ২৬শে ডিসেম্বর চতুর্থ ধাপে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ দিন উপজেলার ২নং গাবসারা ইউনিয়নের চর চন্দনি দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ফলাফল ঘোষণা দিয়ে নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা লোকজন ও আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা ফেরার পথে নিকলাপাড়া এলাকায় আসলে অতর্কিত ভাবে দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়।
এ সময় ব্যালট পেপার ছিনতাই করতে গেলে দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও দুর্বৃত্তদের সাথে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
এ সময় দুর্বৃত্তরা ব্যালট পেপার ছিনতাই করতে সক্ষম হয়।এ ঘটনায় নির্বাচনের চারদিন পর ওই কেন্দ্রের দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসার মোঃ মিজানুর রহমান বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন।







