স্ত্রীর গায়ে আগুন দিয়ে মসজিদে নামাজ পড়লেন স্বামী

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি// কুমিল্লার বরুড়ায় গৃহবধূ ইয়াসমিন আক্তারকে রাতে গলাটিপে হত্যার পর শরীরে আগুন লাগিয়ে ফজরের নামাজ পড়তে যান স্বামী রেজাউল করিম।

এ হত্যাকাণ্ডের ১৮ দিন পর রহস্য উদঘাটন করেছে র‍্যাব।গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সোমবার রাতে কুমিল্লা ইপিজেড এলাকায় অভিযান চালিয়ে রেজাউলকে গ্রেফতার করা হয়।

তার বিরুদ্ধে বরুড়া থানায় মামলা দায়ের শেষে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-১১ এর কুমিল্লার কোম্পানি কমান্ডার মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন জানান, গত পাঁচ বছর আগে ইয়াসমিনকে পরিবারের অমতে বিয়ে করেন রেজাউল।

এক পর্যায়ে যৌতুকের জন্য তাকে চাপ দেন। এনিয়ে পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয়। গত ১০ মার্চ বিকেলে স্বামীর সঙ্গে ইয়াসমিনের বাগবিতণ্ডা হলে রেজাউল তাকে চড়-থাপ্পড় দিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে যান।

রাত ১০টার দিকে রেজাউলের বাবা-মা ঘুমিয়ে গেলে পুনরায় তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে রেজাউল ক্ষিপ্ত হয়ে ইয়াসমিনের গলা চেপে ধরলে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

কিছুক্ষণ পর রেজাউল স্ত্রীর গায়ে হাত দিয়ে দেখেন শরীর ঠাণ্ডা হয়ে আছে। স্ত্রীর মৃত্যুর বিষয়টি টের পেয়ে তিনি ভোর ৫টার দিকে ইয়াসমিনের শরীরে কেরোসিন দিয়ে আগুন লাগিয়ে নামাজ পড়ার জন্য ঘর থেকে বের হয়ে মসজিদে যায়।

পরে অবস্থায় স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে আগুন লাগার বিষয়ে জানতে পারেন এবং বাড়িতে আসে স্থানীয়দের সঙ্গে আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেন।

এক পর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারানোর ভান ধরে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন এবং তার স্ত্রীর জানাজা শেষে হাসপাতাল থেকে আত্মগোপনে চলে যান।